Published : 21 Apr 2026, 08:46 PM
ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেডের (ইউসিবিএল) ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদসহ ৩৬ আসামির বিরুদ্ধে দুদকের মামলায় ১০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে।
মঙ্গলবার চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ মিজানুর রহমানের আদালতে সাক্ষীদের সাক্ষ্য নেওয়া হয়।
দুদকের আইনজীবী মোকাররম হোসাইন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সাবেক ভূমিমন্ত্রী এবং তার স্ত্রীসহ ৩৬ আসামির বিরুদ্ধে হওয়া মামলাটিতে ১০ জন সাক্ষীকে উপস্থাপন করা হয়। তাদের সাক্ষ্য ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে। তারা সবাই ইউসিবিএল ব্যাংকের কর্মকর্তা।”
এর আগে গত ৫ এপ্রিল এই মামলার বাদী দুদকের উপ-পরিচালক মো. মশিউর রহমান আদালতে সাক্ষ্য দেন। মঙ্গলবার সাক্ষ্যগ্রহণের পর ৫ মে পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে আদালত।
এ মামলায় ১১ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। সে দিন সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর জন্য ৫ এপ্রিল দিন নির্ধারণ করা হয়েছিল।
তার আগে ৫ জানুয়ারি চট্টগ্রাম মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে এই মামলায় অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা ও দুদক প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মশিউর রহমান। ৭ জানুয়ারি চট্টগ্রামের সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. হাসানুল ইসলাম অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন।
মামলায় সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ছাড়াও তার স্ত্রী রুকমিলা জামান, ছোট ভাই আসিফুজ্জামান, বোন রোকসানা জামান এবং ইউসিবিএল ও আরামিট গ্রুপের কর্মকর্তাসহ ৩৬ জনকে আসামি করা হয়।
গত বছরের ২৪ জুলাই দুদক প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মশিউর রহমান চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ে-১ মামলাটি করেছিলেন।
৩১ আসামির মধ্যে ব্যাংক কর্মকর্তা আবদুল আওয়াল এবং জাবেদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কাজী মো. দিলদার নামে দুই জন জন মারা যাওয়ায় তাদের বিচারিক কার্যক্রম থেকে বাদ দিতে সুপারিশ করেন তদন্ত কর্মকর্তা।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, আরামিট গ্রুপের প্রোটকল অফিসার ফরমান উল্লাহ চৌধুরীরকে ব্যবসায়ী ‘সাজিয়ে’ মিথ্যা তথ্যে ‘ভিশন ট্রেডিং’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স করা হয়। সেটি দিয়ে ২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর ইউসিবিএল ব্যাংকের চট্টগ্রামের পোর্ট শাখায় খোলা হয় একটি চলতি হিসাব।
পরের বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠানটি গম, হলুদ, ছোলা ও মটর আমদানির কথা বলে ১৮০ দিনের জন্য ঋণের আবেদন করেন।
নেতিবাচকব প্রস্তাব থাকা স্বত্ত্বেও ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদ কোনো ‘যাচাই-বাছাই না করে’ ঋণ অনুমোদন করে। ঋণের টাকাগুলো ‘নাম সর্বস্ব’ চারটি প্রতিষ্ঠান আলফা ট্রেডার্স, ক্লাসিক ট্রেডার্স, মডেল ট্রেডিং ও ইম্পেরিয়াল ট্রেডিং নামে চারটি প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসেবে পে অর্ডারের মাধ্যমে স্থানান্তর করা হয়। পরে যা নগদে উত্তোলন ও স্থানান্তর করা হয়েছে।
পরে এসব টাকা হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করে সম্পত্তি ক্রয় এবং জাবেদের মালিকানাধীন আরামিট সিমেন্ট ও আরামিট থাই অ্যালমুনিয়াম লিমিটেডের হিসেবে জমা করে দায় সমন্বয় করা হয়।
২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এ আত্মসাতের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগপত্রে তথ্য দেওয়া হয়েছে।
পুরনো খবর
দুদকের মামলা: সাবেক ভূমিমন্ত্রী জাবেদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু
২৫ কোটি টাকা 'আত্মসাৎ ও পাচার': ইউসিবিএলের সাবেক দুই পরিচালক কারাগারে
২৫ কোটি টাকা ‘আত্মসাৎ ও পাচার’: সাবেক মন্ত্রী জাবেদ ও স্ত্রীর বিচার শুরুর আদেশ