Published : 31 Mar 2026, 03:06 PM
ইউসিবিএল ব্যাংকের ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে দুদকের মামলার আত্মসমর্পণের পর ওই ব্যাংকের দুই সাবেক পরিচালকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে আদালত।
চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ মিজানুর রহমানের আদালতে মঙ্গলবার আত্মসমর্পণ করেন ইউসিবিএল ব্যাংকের সাবেক দুই পরিচালক অপরূপ চৌধুরী ও তৌহিদুল সিপার।
দুদকের আইনজীবী মোকাররম হোসাইন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মামলার দুই আসামি আজ আত্মসমর্পণ করলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
“এই ঋণ দেওয়ার আগে ব্যাংকের তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দিয়ে জানিয়েছিল, ঋণ প্রস্তাবটি নিরাপদ নয়। এজন্য তারা ১৭টি নেতিবাচক কারণ জানিয়েছিল। তারপরও সেসময়ের বোর্ড অব ডিরেক্টর প্রতিবেদন বিবেচনায় না নিয়ে ঋণ অনুমোদন দিয়েছিল।”
আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রাশেদুল আলম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আজ দুজন আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করেছেন।
“উনারা ইউসিবিএলের স্বাধীন পরিচালক ছিলেন। অপরূপ চৌধুরী সরকারি প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং তৌহিদুল সিপার অন্য একটি বিদেশি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা ছিলেন। তারা স্বাধীন পরিচালক হিসেবে ইউসিবিএল এ দায়িত্ব পালন করেছিলেন।”
ইউসিবিএল ব্যাংকের ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে দুদকের করা এই মামলায় সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদসহ ৩৬ আসামির বিরুদ্ধে গত ১১ মার্চ একই আদালতে অভিযোগ গঠন করা হয়।
সেদিন গ্রেপ্তার থাকা ৮ আসামি ছাড়া বাকি আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
এই মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর জন্য ৫ এপ্রিল দিন নির্ধারণ করা আছে। সেদিন বাদির সাক্ষ্যগ্রহণের কথা রয়েছে।
এর আগে গত ৭ জানুয়ারি চট্টগ্রামের সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. হাসানুল ইসলাম এই মামলায় দুদকের দেওয়া অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করেন।
তার আগে ৫ জানুয়ারি চট্টগ্রাম মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে এই মামলায় অভিযোগপত্র জমা দেয় মামলার তদন্তকারী দুদক প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. মশিউর রহমান।
মামলায় সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ছাড়াও তার স্ত্রী রুকমিলা জামান, ছোট ভাই আসিফুজ্জামান, বোন রোকসানা জামান এবং ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবিএল) ও আরামিট গ্রুপের কর্মকর্তাসহ মোট ৩৬ জনকে আসামি করা হয়।
সাবেক মন্ত্রী জাবেদের বিরুদ্ধে এটা দুদকের দেওয়া ‘প্রথম’ অভিযোগপত্র এটি।
গত ২৪ জুলাই জাবেদ ও তার স্ত্রীসহ ৩১ জনের বিরুদ্ধে দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. মশিউর রহমান বাদী হয়ে চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ে-১ মামলাটি করেছিলেন।
৩১ আসামির মধ্যে ব্যাংক কর্মকর্তা আবদুল আওয়াল ও জাবেদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কাজী মো. দিলদার নামে দুই জন জন মারা যাওয়ায় তাদের বিচারিক কার্যক্রম থেকে বাদ দেওয়ার জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তা অভিযোগপত্রে সুপারিশ করেছেন। এছাড়া আরও সাত জনকে অভিযোগপত্রে তদন্তেপ্রাপ্ত আসামি করা হয়েছে।
বাকি ২৯ জনের সঙ্গে তদন্তে পাওয়া ৭ জনসহ মোট ৩৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে দুদক। অভিযোগপত্রে ইউসিবিএল ব্যাংক ও জাবেদের পারিবারিক প্রতিষ্ঠান আরামিট গ্রুপের কর্মকর্তাসহ ৯২ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, আরামিট গ্রুপের প্রটোকল অফিসার ফরমান উল্লাহ চৌধুরীরকে ব্যবসায়ী সাজিয়ে মিথ্যা তথ্যে ‘ভিশন ট্রেডিং’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স করা হয়। সেটি দিয়ে ২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর ইউসিবিএল ব্যাংকের চট্টগ্রামের পোর্ট শাখায় একটি চলতি হিসাব খোলা হয়।
পরের বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠানটি গম, হলুদ, ছোলা ও মটর আমদানির কথা বলে ১৮০ দিনের জন্য টাইম লোনের আবেদন করেন।
নেতিবাচকব প্রস্তাব থাকা সর্ত্ত্বেও ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদ কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই না করে ঋণ অনুমোদন করে। ঋণের টাকাগুলো ‘নাম সর্বস্ব’ চারটি প্রতিষ্ঠান আলফা ট্রেডার্স, ক্লাসিক ট্রেডার্স, মডেল ট্রেডিং ও ইম্পেরিয়াল ট্রেডিং নামে চারটি প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসেবে পে অর্ডারের মাধ্যমে স্থানান্তর করা হয়। পরে যা নগদে উত্তোলন ও স্থানান্তর করা হয়।
পরবর্তীতে এসব টাকা হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করে সম্পত্তি ক্রয় এবং জাবেদের মালিকানাধীন আরামিট সিমেন্টে ও আরামিট থাই অ্যালমুনিয়াম লিমিটেডের হিসেবে জমা করে দায় সমন্বয় করা হয়।
২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এ আত্মসাতের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
আসামিরা দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে ৪(২) ও ৪ (৩) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন মর্মে তদন্তকারী কর্মকর্তা অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন।
২৫ কোটি টাকা ‘আত্মসাৎ ও পাচার’: সাবেক মন্ত্রী জাবেদ ও স্ত্রীর বিচার শুরুর আদেশ