Published : 08 Mar 2026, 03:17 PM
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে এলএনজি, এলপিজি ও এমইজিবাহী আটটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমায় পৌঁছেছে। ইরান যুদ্ধের আগে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে এসব জাহাজ।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ রোববার বলেছে, এসব জাহাজ যুদ্ধ শুরুর দিন ২৮ ফেব্রুয়ারির আগে হরমুজ প্রণালি পার করে এসেছে।
এই আটটি জাহাজের মধ্যে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনকারী পাঁচটি এবং তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) পরিবহনকারী দুটি জাহাজ রয়েছে। এর বাইরে অপর জাহাজটি শিল্প কারখানায় ব্যবহৃত রাসায়নিক মনোইথিলিন গ্লাইকল (এমইজি) নিয়ে এসেছে।
চট্টগ্রাম বন্দর সচিব সৈয়দ রেফাত বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে এসব জাহাজ আসার খবর দিয়েছেন।
বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, ‘আল জোর’ ও ‘আল জাসাসিয়া’ নামের দুটি জাহাজ কাতারের রাস লাফান বন্দর থেকে এলএনজি নিয়ে গত মঙ্গলবার ও গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়। জাহাজ দুটির এলএনজির পরিমাণ যথাক্রমে ৬৩ হাজার ৩৮৩ ও ৬৩ হাজার ৭৫ টন।
‘লুসাইল’ ও ‘আল গালায়েল’ নামের অপর দুটি এলএনজিবাহী জাহাজ কাতারের রাস লাফান বন্দর থেকে আসছে। জাহাজ দুটিতে ৬২ হাজার ৯৮৭ টন এবং ৫৭ হাজার ৬৬৫টন এলএনজি আছে। সোম ও বুধবারে বন্দরে জাহাজ দুটি পৌঁছাবে।
কাতারের একই বন্দর থেকে ৬২ হাজার টন এলএনজি নিয়ে ‘লেব্রেথাহ’ নামের অপর একটি জাহাজও বন্দরে প্রবেশ করবে শনিবার।
অন্যদিকে ‘এলপিজি সেভান’ নামের জাহাজটি ওমান থেকে ২২ হাজার ১৭২ টন এলপিজি নিয়ে রোববার বন্দরে পৌঁছেছে। এছাড়া একই দেশ থেকে ১৯ হাজার ৩১৬ টন এলপিজি নিয়ে আগেই বন্দরে আসে ‘জি ইম’ নামের একটি জাহাজ।
৫০১৯ টন মনোইথিলিন গ্লাইকল (এমইজি) নিয়ে আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দর থেকে ‘বে ইয়াসু’ নামের জাহাজটি গত বৃহস্পতিবার বন্দরে আসে।
বন্দরের কর্মকর্তা ও জাহাজের স্থানীয় এজেন্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার পর ইরানের ইসলামী বিপ্লব রক্ষা বাহিনী (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল না করতে হুঁশিয়ারি দেয়। এরপর থেকে গুরুত্বপূর্ণ ওই জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। যুদ্ধ শুরুর আগেই জাহাজগুলো ওই প্রণালি অতিক্রম করে। সে কারণে এসব জাহাজ বাংলাদেশের জলসীমায় আসতে সক্ষম হয়েছে।
বন্দরের তথ্যে দেখা গেছে, ‘এসপিটি থেমিস’ নামে একটি জাহাজ ৩১ হাজার টন তেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের পথে রয়েছে। আগামী ১২ মার্চ চট্টগ্রাম পৌঁছানোর কথা।
এছাড়া ‘হুয়া সুন’ নামে অপর একটি জাহাজ ১৪ হাজার টন কনডেনসেট নিয়ে গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম বন্দরে আসে। গ্যাসের উপজাত কনডেনসেট থেকে অকটেন, ডিজেল, পেট্রল ও এলপিজি উৎপাদন হয়ে থাকে।
বাংলাদেশ হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে কাতার, কুয়েত, ইরান, ইরাক, বাহরাইন, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে জাহাজে করে বিভিন্ন পণ্য আনে। এর মধ্যে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল, এলপিজি, এলএনজিই বেশি।