১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

১০০ বিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন: ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আসলে কত ব্যয় হয়েছে?

এই অঙ্ক ওয়াশিংটনের প্রকাশ্যে দেওয়া হিসাবের তিন গুণেরও বেশি।

১০০ বিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন: ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আসলে কত ব্যয় হয়েছে?
ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 16 Jul 2026, 12:39 AM

Updated : 11 Sep 2026, 03:40 PM

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে বলে ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ এক মূল্যায়নে উঠে এসেছে। 

এই অঙ্ক ওয়াশিংটনের প্রকাশ্যে দেওয়া হিসাবের তিন গুণেরও বেশি।

অভ্যন্তরীণ হিসাব সম্পর্কে অবগত ছয়টি সূত্রের (যার মধ্যে তিনজন মার্কিন কর্মকর্তা) বরাত দিয়ে এনবিসি জানিয়েছে, পেন্টাগনের প্রাক্কলন অনুযায়ী এই যুদ্ধের ব্যয় ৮০ থেকে ১০০ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে দাঁড়াবে। 

অতিরিক্ত পরিচালন ব্যয় এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত উড়োজাহাজ ও অন্যান্য সরঞ্জাম প্রতিস্থাপনের খরচ যোগ করার পর এই হিসাব পাওয়া গেছে।

যুদ্ধ শুরুর পর ইরানি হামলায় বাহরাইনে ইউএস নেভাল ফোর্সেস সেন্ট্রাল কমান্ড (নাভসেন্ট) ঘাঁটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। সেটি পুনর্নির্মাণে প্রায় ১০০ কোটি ডলার খরচ হতে পারে। 

সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই ঘাঁটি পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন নৌবাহিনীর সদরদপ্তর হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং সদরদপ্তরের ভবন, জেটি, গুদামঘর ও সামরিক বাসভবনগুলো মেরামতের জন্য কয়েকশ মিলিয়ন ডলার প্রয়োজন।

এই ব্যয় আরও বাড়তে পারে, কারণ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একতরফাভাবে যুদ্ধবিরতি বাতিলের ঘোষণা দেওয়ার পর এর জবাবে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে নতুন করে হামলা শুরু করেছে ইরান।

মাত্র দুই সপ্তাহ আগে অফিস অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বাজেটের পরিচালক রাসেল ভট মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের সদস্যদের সামনে পেন্টাগনের পরিসংখ্যান উদ্ধৃত করে বলেছিলেন, এই যুদ্ধে প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে।

অথচ গত ১২ মে পেন্টাগনের কম্পট্রোলার জে হার্স্ট কংগ্রেসকে একই পরিসংখ্যান দিয়ে বলেছিলেন যে, যুদ্ধে ওই সময় পর্যন্ত ২৯ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে।

দুই হিসাবের মাঝে প্রায় ছয় সপ্তাহ ধরে যুদ্ধ চললেও এই সংখ্যাটি কেন প্রায় অপরিবর্তিত রইল, তার কোনো ব্যাখ্যা দেননি ভট। 

কংগ্রেসে তার ওই বক্তব্যের মাত্র এক সপ্তাহ আগে হোয়াইট হাউস কংগ্রেসের কাছে ৮৮ বিলিয়ন ডলারের সম্পূরক তহবিল চেয়েছিল, যার মধ্যে প্রায় ৭২ বিলিয়ন ডলারই ছিল যুদ্ধ সংক্রান্ত খরচের জন্য।

এনবিসি লিখেছে, পুরো যুদ্ধজুড়ে ইরানি বাহিনীর হামলায় মার্কিন সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র কার্যত ধামাচাপা দিয়ে রাখছে, যার ফলে বাইরের কোনো সূত্রের পক্ষে প্রশাসনের খরচের দাবিগুলোর সত্যতা যাচাই করা কঠিন। 

সূত্রগুলো এনবিসিকে বলেছে, ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা যুদ্ধ পরিচালনার ব্যয়কে ব্যাপকভাবে কমিয়ে দেখাচ্ছেন বা হিসাব থেকে পুরোপুরি বাদ দিচ্ছেন।

তবে ১০০ বিলিয়ন ডলারের এই হিসাবটি অন্যান্য স্বাধীন প্রাক্কলনের সাথে মিলে যাচ্ছে। 

গত সপ্তাহে গবেষক স্টিভেন সেমলার হিসাব করে দেখান, যুদ্ধে এ পর্যন্ত ১০৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি খরচ হয়েছে। 

সেমলার বলেন, ওই পরিমাণ অর্থ বিশ্বের মাত্র তিনটি দেশ ছাড়া বাকি সব দেশের বার্ষিক সামরিক বাজেটের চেয়েও বেশি।

তার হিসাব অনুযায়ী, এর মধ্যে রয়েছে অস্ত্রের জন্য ৪৭ বিলিয়ন ডলার, পরিচালনার জন্য ২৯ বিলিয়ন ডলার এবং ধ্বংস হওয়া সম্পদের জন্য ২০ বিলিয়ন ডলার। 

এ ছাড়া ইসরায়েলের বোমা ও ইন্টারসেপ্টরে ভর্তুকি হিসেবে ৩ বিলিয়ন ডলার এবং অন্যান্য মার্কিন সংস্থার যুদ্ধ-সম্পর্কিত খাতে আরও ৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে বলে তিনি অনুমান করেছেন। 

সেমলার বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধের ব্যয়ের বিষয়ে মিথ্যা বলার ক্ষেত্রে ‘ক্রমশ নির্লজ্জ’ হয়ে উঠেছে এবং ভটের দেওয়া ৩০ বিলিয়ন ডলারের হিসাবটি ছিল রীতিমত ‘হাস্যকর’ পর্যায়ের।

এদিকে যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় গ্যাস ও ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় মার্কিন ভোক্তাদের পকেট থেকে অতিরিক্ত ৬৯ বিলিয়ন ডলার বেরিয়ে গেছে।