Published : 12 Oct 2025, 06:47 PM
নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত তালিকায় দাবি করা প্রতীকটি না থাকায় এনসিপিকে শাপলা দেওয়া যায়নি বলে প্রচলিত নিয়মের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
তবে তিনি এও বলেছেন, কমিশন চাইলে প্রতীক বাড়াতে ও কমাতে পারে।
রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন সিইসি।
তিনি বলেন, “নিয়ম হলো তালিকাভুক্ত যেসব প্রতীক আছে, সেখান থেকে নিতে হবে। এখন পর্যন্ত তালিকার বাইরে থাকা প্রতীক কমিশন কাউকে দেয়নি। তবে কমিশন চাইলে প্রতীক বাড়াতে ও কমাতে পারে।”
সিইসি বলেন, আগে ১১৫টি প্রতীক ছিল না, এখন আছে।
কমিশন এর আগেও জানিয়েছে, ভোটের মার্কা হিসেবে জাতীয় প্রতীক ‘শাপলাকে’ ব্যবহার না করার বিষয়ে তাদের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া আছে।
দলীয় প্রতীক হিসেবে কেটলির পরিবর্তে শাপলা দাবি করেছিল নাগরিক ঐক্য। ইসি সেই আবেদনও নাকচ করে দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর নেতৃত্বে দলের তিন নেতা প্রধান নির্বাচন কমিশনার নাসির উদ্দিনের সঙ্গে আড়াই ঘণ্টা বৈঠক করেন।
এরপর সন্ধ্যায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “দুই ঘণ্টা আমরা ওনাদেরকে (সিইসি ও সচিব) প্রশ্ন করেছিলাম যে, প্রতীক যদি না দিতে চান, সেটাতে আপনার ব্যাখ্যা কী? দুই ঘণ্টা ওনারা নিশ্চুপ ছিলেন। আমরা ওনাদের বলে দিয়েছি, নিবন্ধন যদি আমাদেরকে দিতে হয়, সেটা শাপলা দিয়েই হবে। শাপলা ছাড়া এনসিপি নিবন্ধন হবে না এবং এনসিপিও শাপলা ছাড়া নিবন্ধন মানবে না।”
ফেব্রুয়ারির নির্বাচন নিয়ে যদি কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে, অথবা এ বিষয়ে যদি চ্যালেঞ্জ বা বাধা সৃষ্টি করে থাকে, এতে নির্বাচন কমিশন ‘কিছুটা দায়ী’ থাকবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ বিষয়ে এক প্রশ্নে সিইসি নাসির উদ্দিন বলেন, নির্বাচন কমিশনের প্রতি আস্থার ব্যাপারে এনসিপির বক্তব্য তিনি শোনেননি। কোন পরিপ্রেক্ষিতে বলছেন, তা বুঝতে পারছেন না।
তিনি বলেন, “দেখেন একটা জিনিস চিন্তা করতে হলে এটা আমার ফিলিং (অনুভূতি), যেটা আমি আরও বেশ কয়েকবার বলেছি, যারা এনসিপিতে নেতৃত্বে আছেন, যাদের দেখি বা আমাদের সাথে যারা মিটিং করতে আসেন, তারা কিন্তু ২০২৪ এর আন্দোলনে অ্যাকটিভলি পার্টিসিপেট, ইনভলভ ছিলেন। এমন লোকজন কিন্তু এই দলটার নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
‘‘তারা (এনসিপি) গণতন্ত্রায়নের পথে নিজেরা বাধা সৃষ্টি করবে, এটা আমি মনে করি না। আমি তাদের দেশপ্রেমিক এবং কোনো অংশেই তাদের কম দেশপ্রেমিক আমি ভাবতে চাই না। তা না হলে, তারা এরকম জান দেওয়ার জন্য রাস্তায় নামতেন না। তাই যারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন এনসিপিকে, তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আন্দোলন যোগ দিয়েছিলেন।”
“সুতরাং তারাও দেশের মঙ্গল চান, দেশে গণতন্ত্র চান। আমার বিশ্বাস গণতন্ত্রের উত্তরণটা যাতে সুন্দর হয়, সুষ্ঠু হয়, এরকম একটা পরিবেশে ওনারা সম্মতি দেবেন,” যোগ করেন নাসির উদ্দিন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের উর্ধতন কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করেন সিইসি।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়, জেলা প্রশাসন ও চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস আয়োজিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন।
সেখানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।
আগের খবর: