Published : 12 Jul 2026, 12:21 PM
প্রবীণ রাজনীতিক ও সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ও চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।
রোববার ভোর ৪টা ১৯ মিনিটে রাজধানীর শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে মারা যান জমির উদ্দিন সরকার। তার বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর।
পৃথক শোকবার্তায় স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার প্রয়াতের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
সাবেক স্পিকার জমির উদ্দিনের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, “রাষ্ট্র ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান বিকাশে তার অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে তিনি দক্ষতা, প্রজ্ঞা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে সংসদীয় গণতন্ত্রকে সমৃদ্ধ করেছেন।”
জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, “ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও আইনি জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, সুপ্রিম কোর্টের একজন সংবিধান ও আইন বিশেষজ্ঞ। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের সংগঠিত করতে তার ভূমিকা ছিল অনন্য।”
সংসদ সচিব গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া এবং সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও জমির উদ্দিন সরকারের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
২০০১ সালের ২৮ অক্টোবর অষ্টম জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে শপথ নেন জমির উদ্দিন সরকার। ২০০৯ সালের ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত তিনি সেই দায়িত্বে ছিলেন।
২০০২ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর পদত্যাগের পর ২১ জুন থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জমির উদ্দিন সরকার বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বও পালন করেন।
১৯৩১ সালের ১ ডিসেম্বর পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার নয়াবাড়ি গ্রামে জমির উদ্দিন সরকারের জন্ম। আইন পেশায় তিনি সংবিধান, দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইনের একজন বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিতি পান।
ছাত্রজীবনে, ১৯৪৫ সালে ছাত্র ফেডারেশনের মাধ্যমে তার রাজনীতিতে হাতেখড়ি। পরে ছাত্র ইউনিয়ন ও ন্যাপের রাজনীতির যুক্ত হন।
জিয়াউর রহমান জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল বা জাগদল গঠন করলে তাতে যোগ দেন জমির উদ্দিন সরকার। পরে বিএনপি প্রতিষ্ঠিত হলে তিনি স্থায়ী কমিটির সদস্য হন। আমৃত্যু তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন।
জিয়াউর রহমানের সরকারে জমির উদ্দিন সরকার যখন গণপূর্ত ও নগর উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী ছিলেন, তখনই বর্তমান সংসদ ভবনের অসমাপ্ত কাজ শেষ হয়। আবদুস সাত্তারের মন্ত্রিসভায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
এইচএম এরশাদ সরকারের পতনের পর বিএনপি ক্ষমতায় ফিরলে জমির উদ্দিন সরকারকে প্রথমে ভূমি প্রতিমন্ত্রী, পরে শিক্ষামন্ত্রী এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রীর দায়িত্ব দেন তখনকার প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।
১৯৯৬ সালে বিএনপির স্বল্পকালীন সরকারে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন জমির উদ্দিন সরকার। ওই সময়ই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের বিধান সংবিধানে যুক্ত হয়।
জমির উদ্দিন সরকারের স্ত্রী নূর আখতার ২০২৩ সালে মারা যান। মেয়ে নিলুফার জমির এবং দুই ছেলে নওশাদ জমির ও নওফেল জমিরকে রেখে গেছেন তারা। বড় ছেলে নওশাদ জমির বর্তমানে পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মরহুমের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে তার বিদাহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেছেন।
এছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খানও তাদের সহকর্মীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন।