Published : 12 Jul 2026, 12:40 PM
ঐতিহাসিক ও মহাকাব্যিক গল্পের ক্ষেত্রে হলিউড পরিচালকদের কাছে শুটিংয়ের জন্য এখন ‘আকর্ষণীয় জায়গা’ মরক্কোর ওয়ারজাজাত শহর।
পরিচারক রিডলি স্কটের ‘গ্ল্যাডিয়েটর ২’সহ আরও কিছু ব্লকবাস্টার সিনেমার সেট তৈরি করা হয় ওই শহরে। এবার সেই ওয়ারজাজাতকে কেন্দ্র করে ‘ফিল্ম সিটি’ গড়ে তোলার একটি বড় উদ্যোগ নিয়েছে মরক্কো সরকার।
ভারাইটি জানিয়েছে, মরক্কোর যুব, সংস্কৃতি ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সেখানে তৈরি হতে যাচ্ছে ‘ইন্টারন্যাশনাল সিনেমা সিটি’; এটি হবে আন্তর্জাতিক মানের এক বিশাল ফিল্ম প্রোডাকশন হাব।
মরক্কোর যুব, সংস্কৃতি ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনে এই ফ্ল্যাগশিপ প্রজেক্টের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে গত ২৭ জুন। ওয়ারজাজাত শহরের মূল প্রবেশদ্বারে ২৪ একর জমির ওপর গড়ে উঠছে এই এই সিনেমা সিটি।
অ্যাটলাস পর্বতমালা ও সাহারা মরুভূমির মধ্যবর্তী এই সিনেমা সিটি নির্মাণে ২৪০ মিলিয়ন মরোক্কান দিরহাম বিনিয়োগ করছে মরক্কো সরকার।
মূলত এটি ‘ওয়ান-স্টপ-শপ’ হিসেবে কাজ করবে। অর্থাৎ একটি সিনেমা বা সিরিজের প্রি-প্রোডাকশন থেকে শুরু করে শুটিং, ভিএফএক্স এবং মুক্তি পর্যন্ত যা যা প্রয়োজন, তার সব সুবিধা পাওয়া যাবে এক ছাদের নিচে।
বিবৃতিতে বলা হয়, এই সিনেমা সিটিতে উন্নত মানের একাধিক সাউন্ড স্টেজ, এডিটিং ও স্ক্রিনিং রুম। এ ছাড়া চলচ্চিত্র নির্মাণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারের ব্যবস্থাও থাকবে।
স্থানীয় কলাকুশলী এবং বিদেশি শুটিং টিমের আবাসের জন্য আধুনিক হোটেল সুবিধাও রাখা হয়ছে ওই সিনেমা সিটিতে।
হলিউডে সিনেমা নির্মাণের খরচ দিন দিন বাড়ছে। এ জন্য সেখান বড় বড় স্টুডিও এবং স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলো কম খরচে উন্নত সুবিধার খোঁজে মরক্কোর মত দেশের দিকে ঝুঁকছে বলে জানিয়েছে ভ্যারাইটি।
মরক্কো সরকারও এই সুযোগ হাতছাড়া করতে রাজি নয়। আন্তর্জাতিক নির্মাতাদের জন্য ৩০ শতাংশ ক্যাশ রিবেট, সম্পূর্ণ ভ্যাট অব্যাহতি, শুটিংয়ের যন্ত্রপাতি ভাড়ার ওপর ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ডিসকাউন্ট এবং হোটেল বুকিংয়ের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় দিচ্ছে।
গত কয়েক বছরে ওয়ারজাজাত শহরে ইন্ডিয়ানা জোন্স ফ্র্যাঞ্চাইজির ‘ইন্ডিয়ানা জোন্স অ্যান্ড দ্য ডায়াল অব ডেসটিনি’, নিকোলাস কেজের ‘লর্ড অব ওয়ার’ এর সিকুয়েল, ফরাসি ঐতিহাসিক এপিক ‘ডি গল: রেজিস্ট্যান্স’সহ অনেক আলোচিত সিনেমার শুটিং হয়েছে।
এছাড়া জনপ্রিয় সিরিজ ‘গেম অব থ্রোনসের’ কিছু অংশ এবং মার্টিন স্করসেসির ‘দ্য লাস্ট টেম্পটেশন অব ক্রাইস্ট’সহ আরও কিছু সিনেমার শুটিংও এখানে করা হয়।
মরক্কো সরকার বলছে, গেল বছর মরক্কোয় শুটিং হওয়া বিদেশি প্রজেক্টগুলো থেকে প্রায় ১৩০ মিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক বিনিয়োগ এসেছে।
নতুন সিনেমা সিটি চালু হলে এই বিনিয়োগের পরিমাণ বহুগুণ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।