Published : 11 Jul 2026, 09:58 PM
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল থেকে ১৫ মাসের এক শিশু ‘চুরির’ পর রাতভর অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধারের পাশাপাশি এক দম্পতিকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার বিকালে হাসপাতালে শিশুটি তার নানির কাছে ছিল। তখন শিশুটির মায়ের বান্ধবী পরিচয় দিয়ে তার নানির সঙ্গে খাতির জমান এক নারী। এরপর সুযোগ বুঝে শিশুটিকে নিয়ে ওই নারী সটকে পড়েন।
চমেক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই নূরে আলম আশেক বলছেন, ওই ঘটনায় মামলা হলে সঙ্গে সঙ্গে শিশুটিকে উদ্ধারে গিয়ে গলদঘর্ম হয় পুলিশ। রাতভর অভিযানের পর শনিবার সকালে বন্দর নগরীর চান্দগাঁওয়ের এক কিলোমিটার এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।
এসময় নাছিমা বেগম (২৫) ও বোরহান উদ্দিন (৩০) নামে এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ঘটনার বর্ণনায় পুলিশ বলছে, কক্সবাজারের চকরিয়ার ১৫ মাসের শিশু নাজেহাদকে নিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে চট্টগ্রাম মেডিকেলে আসেন তার মা ও নানি। নাজেহাদের তিন দিন বয়সের খালাতো বোনকে এ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আর নাজেহাদের খালা ভর্তি আছেন কক্সবাজারের আরেকটি হাসপাতালে।
তিন দিনের শিশুটিকে চমেক হাসপাতালের ষষ্ঠ তলায় নবজাতক ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। তাকে দেখভাল করছিল নাজেহাদের মা। আর নাজেহাদকে নিয়ে ছিল তার নানি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই নূরে আলম বলেন, শুক্রবার নাজেহাদ ও তার নানি হাসপাতালের পঞ্চম তলার বারান্দায় ঘুমিয়ে ছিলেন। তখন নাছিমা এসে নিজেকে নাজেহাদের মায়ের বান্ধবী ও একই এলাকার বলে পরিচয় দেন। সেই নারী তিন থেকে চার ঘণ্টা নাজেহাদের নানির সঙ্গে সময় কাটান।
“নাজেহাদ কান্নাকাটি শুরু করলে তাকে তার নানি কাছ থেকে নিয়ে বেড়ানোর কথা বলে সটকে পড়েন নাছিমা।”

এরপর কোথাও নাজেহাদকে খুঁজে না পেয়ে রাতে পাঁচলাইশ থানায় মামলা করা হয়। এরপর রাতভর অভিযান চালিয়ে সকালে চান্দগাঁও থানার এক কিলোমিটার এলাকার জামে মসজিদ কলোনি থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।
যেভাবে উদ্ধার
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বলছেন, শিশুটিকে চুরি বা অপহরণের ঘটনাটি ছিল ‘ক্লুলেস’। শিশুটিকে নিয়ে সটকে পড়া নারী সম্পর্কে কোনো তথ্যই কারো কাছে ছিল না।
এসআই নূরে আলম বলেন, হাসপাতালের বিভিন্ন গেইটের অন্তত ৭০টি সিসি ক্যামেরার ভিডিও পর্যালোচনা করে একটিতে বোরকা ও নেকাব পড়া এক নারীকে দেখা যায়, যিনি এক শিশুকে কোলে নিয়ে বের হয়ে যান। এরপর আর কোনো ভিডিও ছিল না।
“পরবর্তীতে হাসপাতাল গেইটে দাঁড়ানো সাত থেকে আটটি অটোরিকশার নম্বর সংগ্রহ করে সেগুলো ধরে ধরে পুলিশ অভিযান শুরু করে। একপর্যায়ে একজন অটোরিকশাচালক শিশুসহ বোরকা পড়া এক নারীর এক কিলোমিটার এলাকায় যাওয়ার তথ্য দেন।”
তিনি বলেন, “প্রবল বৃষ্টির মধ্যে আমরা সেই এলাকায় যাই। রাতভর অভিযান চালিয়ে সেখানে কোনো তথ্য না পেয়ে ফিরে আসার পরিকল্পনা করি। একপর্যায়ে ওই এলাকায় একটি মুরগির দোকানের সিসি ক্যামেরার ভিডিওতে এক যুবককে দেখা যায় শিশুকে কোলে নিয়ে যেতে।
“পরে ওই যুবকের ছবি শনাক্ত করে বিভিন্নজনকে দেখিয়ে জামে মসজিদ কলোনি এলাকার একটি ঘরে তাদের সন্ধান পাই। সেখানে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।”
পুলিশ বলছে, তারা পেশাদার শিশু অপহরণকারী নাকি অন্য কোনো কারণে শিশুটিকে চুরি করা হয়েছে, সেটি খতিয়ে দেখতে তাদের রিমান্ড আবেদন করা হবে।