Published : 12 Jul 2026, 12:23 PM
কোয়ার্টার-ফাইনালে ইংল্যান্ডের সমতা ফেরানো গোলটি নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। জুড বেলিংহ্যাম গোল করার আগে বল স্কাই ক্যামেরার তারের লেগেছিল বলে দাবি করেছেন নরওয়ে কোচ স্তলে সুরবাকেন।
উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে শেষ আটের লড়াইয়ে আন্দ্রেয়াস শেলদেরিপকের গোলে এগিয়ে যায় নরওয়ে। পরে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে সমতা টানেন বেলিংহ্যাম। ওই গোল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সুরবাকেন।
নরওয়ের গোলরক্ষক আরিয়ান হশল নিলাদের গোলকিকে বল মাঝমাঠে হাওয়ায় থাকা অবস্থায় হুট করে নিচে পড়ে যায়। বল পেয়ে আক্রমণে ওঠে ইংল্যান্ড এবং দুই সতীর্থের পা ঘুরে পাওয়া বল জালে পাঠান বেলিংহ্যাম। গোলের পর নিলাদ, আর্লিং হলান্ড ও নরওয়ের কোচ বিষয়টি নিয়ে রেফারির কাছে আপত্তি জানান, তবে সিদ্ধান্ত পাল্টায়নি।
পরে অতিরিক্ত সময়ে আরেকটি গোল করেন বেলিংহ্যাম। ২-১ ব্যবধানে হেরে যাওয়ার পর সংবাদ সম্মেলনে ইংল্যান্ডের প্রথম গোলটি নিয়ে কথা বলেন সুরবাকেন। তিনি নিশ্চিত, কিছুতে লেগে বল আচমকা মাটিতে পড়ে গেছে।
“বলটা হাওয়া থেকে একদম সোজা নিচে পড়ে, তার মানে এটার দিক পরিবর্তন হয়েছে। আর ওই ঘটনা আমাদের খেলোয়াড়দের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করে এবং এটা আমাদের জন্য খারাপ সময়ে ঘটেছে। তবে এনিয়ে আমরা কিছুই করতে পারব না। আমার মনে হয় না, ম্যাচটি আবারও হবে। তাই যা হওয়ার হয়ে গেছে।”
সুরবাকেন অবশ্য স্বীকার করেছেন, তিনি নিজে বলের দিক পরিবর্তন হতে দেখেননি। তবে তার খেলোয়াড় এবং কোচিং স্টাফরা তা দেখেছেন।
“বলের চিপে যদি কোনো কম্পন বা কিছু ধরা না পরে, এর বিরুদ্ধে আমি আর কি বলতে পারি? তবে বলটি সোজা শূন্য থেকে পড়েছে। গোলরক্ষক আরিয়ান এবং যে খেলোয়াড় বলটি নিতে যাচ্ছিল, প্রত্যেকেই একই কথা বলেছে। তাই পরিষ্কার যে, এমন কিছু ঘটেছে। এটা অদ্ভুত।”
তবে এটাকে হারের দায় হিসেবে দেখতে নারাজ সুরবাকেন। আর এই ঘটনাকে তাদের এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে প্রধান আলোচনার বিষয় না বানাতেও সবাইকে অনুরোধ করেছেন তিনি।
“আমরা এটাকে দায় দিচ্ছি না। তবে বেঞ্চে থাকা প্রত্যেকেই তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল, কারণ বলটি ঠিক তাদের সামনে আচমকা নিচে পড়ে গিয়েছিল। তাই বল যে কিছুতে লেগেছে এটা নিয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই। তবে দুর্ভাগ্যবশত এটা আমাদের মেনে নিতে হবে। তাই মরার আগ পর্যন্ত আমরা এই তারে লাগার ঘটনা নিয়ে কথা বলব।”
“আশা করি, আমরা অন্য কিছু নিয়ে ভাবব এবং কথা বলব। আন্তরিকভাবে সেটাই চাই। এই দলটিকে নিয়ে আলোচনার প্রধান বিষয় যেন এটা না হয়। হওয়া উচিতও নয়।”
এবারের বিশ্বকাপেই প্রথমবারের মতো বলের মধ্যে একটি সেন্সর চিপ বসানো হয়েছে। খুবই হালকা স্পর্শেরও সংকেত পাঠাতে পারে এটি। শেষ বত্রিশে ক্রোয়েশিয়া-পর্তুগালের ম্যাচে যার প্রমাণ পাওয়া যায়। সেদিন শেষ মুহূর্তে ক্রোয়েশিয়ার সমতাসূচক গোল অফসাইডের কারণে বাতিল করতে এই প্রযুক্তি সাহায্য করেছিল। সেন্সরটি শনাক্ত করেছিল যে, বলটি একজন আক্রমণভাগের খেলোয়াড়ের চুলে স্পর্শ করেছিল। পরে ২-১ ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় ক্রোয়াটরা।
ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেল সেই ঘটনাকে উদাহরণ হিসেবে টেনে বলেন, বল কোথাও স্পর্শ করলে সেটা সঙ্গে সঙ্গেই জানানো হতো।
“বলটিতে এমন একটি চিপ আছে, যা চুলের সামান্য স্পর্শও শনাক্ত করতে পারে- ক্রোয়েশিয়া ও পর্তুগাল ম্যাচে আমরা সেটা দেখেছি। তাই যদি এমন কিছু ঘটে থাকে, তাহলে তারা অবশ্যই বলতে পারবে। আমি বিষয়টি সম্পর্কে জানতাম না। আমি এটা দেখিনি।”
সেমি-ফাইনালে আগামী ১৬ জুলাই আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড।