Published : 24 Sep 2025, 03:49 PM
নিউ ইয়র্কে বিমানবন্দরে প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গী বিএনপি ও এনসিপি নেতাদের ওপর আওয়ামী লীগ কর্মীদের হেনস্ততার ঘটনা, দলটির ভবিষ্যৎকে ‘আরও অনিশ্চিত করে তুলছে’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বুধবার চট্টগ্রামে আগ্রাবাদে বেসরকারি মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতাল মেডিকেল কলেজের ১৪ তম ব্যাচের ইন্টার্ন সমাপ্তি ও এমবিবিএস সনদ বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠান শেষে এক প্রশ্নের জবাবে আমীর খসরু বলেন, “রাজনৈতিকভাবে পরাস্ত হয়ে পালিয়ে গিয়ে এখন তো এ সমস্ত কাজ ছাড়া আর কি করার আছে। এটাই তো করবে, তাই না? এর বাইরে তো আর কিছু করার নেই।
“আপনি যখন পরাজিত হয়ে দেশ থেকে পালিয়ে গেলেন, উনাদের সমর্থকদের তো এ ধরনের কাজের বাইরে আর কিছু করার নাই আপাতত। গণতন্ত্রেই বিশ্বাস করে না। দেশ ধ্বংস করে পালিয়ে গিয়ে, এখন যেগুলো করছে এগুলো তো আরো ধ্বংসাত্মক। এগুলো তাদের ভবিষ্যতকে আরো অনিশ্চিত করে দিচ্ছে।”
প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সফরসঙ্গী হয়ে জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউ ইয়র্কে আছেন; তার সফর সঙ্গী হয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির; এনসিপি সদস্যসচিব আখতার হোসেন এবং এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা। এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরও একই ফ্লাইটে নিউ ইয়র্কে পৌঁছান।

মুহম্মদ ইউনূস সরকারপ্রধান হিসেবে বিশেষ নিরাপত্তায় অন্য একটি গেইট দিয়ে বেরিয়ে গেলেও তার সফরসঙ্গী বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি নেতারা সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গে বের হওয়ার সময় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বিক্ষোভের মধ্যে পড়েন। বিমানবন্দরের ৪ নম্বর টার্মিনালে জড়ো হওয়া আওয়ামী লীগকর্মীরা এ সময় ইউনূসকে ‘জামায়াত-শিবিরের নেতা’ আখ্যা দিয়ে নানা স্লোগান দিচ্ছিলেন।
মির্জা ফখরুল ও হুমায়ূন কবির পাশাপাশি হেঁটে পার্কিং স্পটের দিকে যাওয়ার সময় তাদেরকে ‘বাংলাদেশের দুশমন’ আখ্যা দিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের ‘হত্যা’, বাড়ি-ঘরে অগ্নিসংযোগ এবং লুটতরাজের জন্য দায়ী করে স্লোগান দেওয়া হয়।
বিএনপির দুই নেতাকে অনুসরণ করছিলেন এনসিপির আখতার হোসেন ও তাসনিম জারা। এর মধ্যে তাদের কয়েক দফা থামিয়ে দেওয়া হয় এবং অকথ্য গালিগালাজের মধ্যে পরপর কয়েকটি ডিম ছুড়ে মারা হয়। সেসব ডিম আখতার হোসেনের পিঠে লেগে ফেটে যায়।
সংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “না, দূতাবাসের বিষয় তো না। নিরাপত্তা তো ওই দেশের বিষয়। হয়ত দূতাবাসের ইন্টেলিজেন্স ছিল কিনা আমি জানি না। তাদের জানা উচিত ছিল।
“এনিওয়ে এতে এমন কিছু আসে যায় না। একটা গণতান্ত্রিক দেশে অনেক কিছু হতেই পারে। এটা আমার জন্য এমন বড় কিছু না। গণতান্ত্রিক সব দেশে এগুলো হয়ে থাকে। যার সমর্থন আছে সেও করতে পারে। যার সমর্থন নেই সেও করতে পারে।”
এরআগে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে দেওয়া বক্তব্যে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর দেশের স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নয়নে জোর দেন।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালের কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ মোরশেদ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিমসহ পরিচালনা পর্ষদ সদস্যরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।