Published : 16 Mar 2026, 04:11 PM
অর্থনৈতিক ‘খারাপ সময়ের’ মধ্যেও সরকার সব কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
সোমবার দুপুরে চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার বানাতলী জলদাসপাড়া এলাকার বামনসুন্দর খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধন করতে এসে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “একটা খারাপ সময়ের মধ্যে দিয়ে আমরা যাচ্ছি। অর্থনৈতিকভাবে দেশ খুব খারাপ অবস্থায় আছে, আপনারা জানেন। এরমধ্যে আবার যুদ্ধ লেগেছে। এরমধ্যে এনার্জি ক্রাইসিস হয়েছে।
“এর মধ্যেও কিন্তু আমরা আমাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। কিছু থেমে নেই কিন্তু। আমরা চালিয়ে যাচ্ছি, চালিয়ে যাব। এবং আশা করি বাংলাদেশের মানুষের যে প্রত্যাশা, আস্থা ও বিশ্বাস নিয়ে আমাদেরকে নির্বাচিত করেছে আমরা সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারব।”
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নির্বাচনি ইশতেহারে খাল খনন একটি বিশাল কর্মসূচির প্রস্তাব আছে। আমরা নির্বাচনি ইশতেহারে যতগুলো জনগণের কাছে ওয়াদা করেছি, একটার পর একটা বাস্তবায়ন কাজ চলছে।

“এর মধ্যে খাল খনন কর্মসূচিতে সমগ্র বাংলাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে। এবং আগামী ছয় মাসের মধ্যে এক হাজার দুইশ কিলোমিটার আমাদেরকে সম্পন্ন করতে হবে। এখানে তিন কিলোমিটার আজকে আমরা শুরু করেছি। বাকিটা ক্রমান্বয়ে শেষ করতে পারব।”
বামনসুন্দর খালের কাজ পুরোপুরি শেষ হলে ১৫ হাজার হেক্টর জমি চাষাবাদের আওতায় নতুনভাবে আসবে এবং সেই জমিতে আরো ৫ হাজার মেট্রিক টন অতিরিক্ত খাদ্য উৎপাদিত হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।
আমির খসরু বলেন, “বুঝতেই পারছেন, এই অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার কতটুকু উন্নয়ন হবে। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতায় যে গ্যাপটা আছে সেটা আমরা পূরণ করতে যাচ্ছি ইনশাল্লাহ। তদুপরি পানি নিষ্কাশনের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা থেকে আমার মুক্তি পাব এবং এখানে সেচের কাজ হবে। সাথে সাথে মাছের চাষও হবে এইখানে।
“পাশাপাশি খালের দুই পাড়ে যে বৃক্ষ রোপণ করব সেটাও আমার অর্থনীতিতে যথেষ্ট অবদান রাখবে। গাছ লাগানো কার্বন ট্রেডিং এর মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় ধরণের অবদান রাখবে।”
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের খাল কাটা কর্মসূচির আলোকে নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে দেশব্যাপী ২০ হাজার কিলোমিটার খাল, নদী, নাল, জলাধার খনন করা হবে।
জিয়াউর রহমানের সময় এ কর্মসূচির প্রথম পর্যায়ে ৬৭৫.১৮ মাইল দীর্ঘ ১৯৩টি খাল খনন ও পুনঃখনন করা হয়।
২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের কাজ শেষ হলে সমগ্র বাংলাদেশে চিত্র বদলে যাবে মন্তব্য করে অর্থমন্ত্রী বলেন, “খাদ্যের ঘাটতি কমে আসবে। জলবায়ুর উপর একটা বড় ধরণের পরিবর্তন আসবে। সেচ ব্যবস্থার পরিবর্তণ আসবে। এই কাজটা জিয়াউর রহমান সাহেব শুরু করেছিলেন। পরিবর্তীতে এটা আমরা শেষ করতে পারিনি। সেই ভাবনায় এই প্রকল্পটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী হাতে নিয়েছেন।
“এই খালগুলোর মালিকানা সরকারের। ইতোমধ্যে ডিমারকেশন হয়ে যাচ্ছে। ওই সীমানার ভেতরে যতই প্রভাবশালী ব্যক্তি থাকার চেষ্টা করবে কোনো সুযোগ থাকবে না। যতটুকু সীমানা নির্ধারণ হবে অতটুকু খাল আমরা খনন করব। কেউ দখল করার কোনো সুযোগ থাকবে না।”

খাল খনন প্রকল্পের অর্থায়নের বিষয়ে জানতে চাইলে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “অর্থের সব হিসাব করেই তো আমরা এই কাজটা করতে নেমেছি। সবগুলো বাজেটেড। কস্টেড অ্যান্ড বাজেটেড। এই জন্য আমরা ক্রমান্বয়ে পুরো প্রকল্পগুলো সময়ের উপর আমরা শেষ করতে চাচ্ছি। যখন শেষ হতে থাকবে আপনারা দেখবেন এর প্রভাব অর্থনীতিতে, মানুষের জীবন যাত্রার মানে ও পরিবেশের উপরে।
“পরিবর্তিত রূপান্তরিত বাংলাদেশে যে সরকার এগুলো হচ্ছে তার অংশ। বাংলাদেশের অর্থনীতির সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়ার যে চেষ্টা সেগুলো হচ্ছে এটা। দুর্নীতি, ওয়েস্টেজ এবং ডেলিভারির মধ্যে যে লিকেজ থাকে সেগুলোকে অ্যাড্রেস করা হয়েছে। প্রত্যেক কিছুকে অ্যাড্রেস করে কিভাবে সব প্রকল্প স্বচ্ছতার সাথে সম্পাদন করতে পারি এটাই এই সরকারের সবচেয়ে বড় চিন্তা। এবং দুর্নীতিকে বাইরে রেখে সম্পূর্ণভাবে।”
খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, “খাল খনন আমাদের কমিটমেন্ট ছিল। আপনারা জানেন, এখানে কাজ শুরু হয়েছে। হাটহাজারীতেও ভঞ্জন খাল এবং মিঠাছড়া খাল খনন করা হবে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামে যে খাল খনন উদ্বোধন করেছিলেন সেটাই মিঠাছড়া খাল।
“ওটা অলরেডি সাড়ে পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে তিন কিলোমিটার কাজ হয়ে গেছে। বাকিটাও চলমান আছে। এরকম করে যতগুলো খাল আছে এবং ছোট ছোট ছড়া আছে, এগুলো সব আমাদের ২০ হাজার কিলোমিটারের মধ্যে অর্ন্তভুক্ত।”
তিনি বলেন, “যখন মাথা ঠিক থাকে, তখন সবই ঠিক আছে। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতি ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সে আছেন। এক মাসও হয়নি। এরমধ্যে যত কমিটমেন্ট আছে, প্রত্যেকটা করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সবগুলো কমিটমেন্ট আমরা বাস্তবায়ন করব।”

অনুষ্ঠানে মীরসরাই আসনের সংসদ নুরুল আমিন, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞাসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, বামনসুন্দর খালটি খনন হলে উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের প্রায় ১০ হাজার কৃষক সেচ সুবিধা পাবেন। এতে প্রায় ১০ হাজার টন ফসলের উৎপাদন বাড়তে পারে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের।
কৃষি বিভাগের হিসাবে, প্রাথমিক পর্যায়ে যে তিন কিলোমিটার খাল খনন করা হবে, তাতে ৫৮০ হেক্টর কৃষি জমিতে সুফল মিলবে। ফসল উৎপাদন বাড়বে প্রায় ১৫ কোটি টাকার।
বামনসুন্দর খাল: খনন হলে ১০ হাজার টন ফসল বাড়ার আশা
চট্টগ্রামে খনন হবে বামনসুন্দর খাল, প্রথম ৩ কিলোমিটার স্বেচ্ছাশ্রমে