Published : 24 Mar 2026, 11:55 PM
ঈদের ছুটিতে দুদিন বন্ধ থাকার পর ডিপো থেকে স্বাভাবিক হারে তেল সরবরাহের দাবি করা হলেও সংকট কাটছে না; চট্টগ্রামসহ দেশজুড়ে ফিলিং স্টেশনগুলোতে মিলছে না অকটেন ও পেট্রোল।
অনেক পাম্পে মঙ্গলবারও ঝুলতে দেখা গেছে অকটেন ও পেট্রোল না থাকার নোটিস। যেগুলোতে তেল মিলছে, সেগুলোতে মোটরসাইকেল ও গাড়ির দীর্ঘ সারি চোখে পড়েছে।
তেল সরবরাহের ডিপো পরিচালনকারী রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিগুলোর কর্মকর্তাদের বিপরীত বক্তব্য মঙ্গলবারও দিয়েছেন পেট্রোল পাম্প মালিক ও সংগঠনের নেতারা।
তাদের দাবি, চাহিদা অনুযায়ী তেল পাচ্ছেন না তারা। সংকটের কারণেই তেল দেওয়া বন্ধ রাখতে হচ্ছে তাদের।
এর বিপরীতে রাষ্ট্রীয় তেল বিপননকারী তিন প্রতিষ্ঠানের তরফে দাবি করা হয়েছে, তালিকাভুক্ত যেসব পাম্প মালিকের প্রতিনিধি নিয়ম মেনে তেলের জন্য আসছেন চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করা হচ্ছে। ডিপোতে তেলের কোনো সংকট নেই। ‘প্যানিক বায়িং’ (আতঙ্ক থেকে কেনা) এর কারণে পাম্পগুলোতে লাইন দীর্ঘ হচ্ছে।
সারাদেশে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপননকারী তিন প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৫৪টি ডিপো রয়েছে যেখান থেকে অকটেন, পেট্রোল ও ডিজেল পাম্প মালিক বা নিবন্ধিত অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলো অর্থের বিনিময়ে তেল সংগ্রহ করে থাকে।
পেট্রোল পাম্প ওর্নাস অ্যাসোসিয়েশনের চট্টগ্রাম বিভাগীয় মহাসচিব আবু তৈয়ব পাটোয়ারি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, এমনিতেই যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে চাহিদার বিপরীতে কম তেল দিচ্ছে। ডিজেলের কোনো সংকট না থাকলেও অকটেন ও পেট্রোল দেওয়ার ক্ষেত্রে রেশনিং করা হচ্ছে। এছাড়া ঈদের সময় এ দুই তেলের চাহিদা বেড়েছে।
তিনি বলেন, ২০২৫ সালের মার্চে যে পরিমাণ তেল পাম্প মালিকদের দেওয়া হয়েছিল এবার তার চেয়ে ১০ শতাংশ কম তেল দিচ্ছে। অথচ প্রতিবছরই মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কারসহ অন্যান্য বাহনের সংখ্যা বাড়ছে। সে অনুযায়ী জ্বালানি তেল এ বছরে আরও বেশি দেয়ার কথা। কিন্তু সেটি হয়নি।
এছাড়া ঈদের ছুটির কারণে ‘পে-অর্ডার’ করতে না পারায় পাম্প মালিকরা তেল ছাড় করাতে পারেনি দাবি করে তিনি বলেন, “সেকারণে আমরা তেল পাইনি এবং পাম্পে তেল সংকট হয়েছে। অন্যান্য বছরে ঈদের ছুটিতে বেশি তেল কেনা গেলেও এবারে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সে সুযোগ দেয়নি। একমাস আগে থেকেই তেল দেয়ার ক্ষেত্রে রেশনিং চলছে।“

তেল বিপননকারী কোম্পানিগুলোর কর্মকর্তারা বলেন, ঈদের ছুটিতে শনি ও রোববার ছাড়া পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার ডিপো থেকে তেল সরবরাহ বন্ধ ছিল না। চাহিদার বিপরীতেই বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প, শিল্প প্রতিষ্ঠান এবং এজেন্টদের তেল দেওয়া হয়েছে।
সাধারণত বিপননকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর নিবন্ধিত পেট্রোল পাম্পকে পে-অর্ডারের বিপরীতে ডিপো থেকে প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়ে থাকে। তেলবাহী গাড়িতে করে এসব তেল পাম্পে পৌঁছে দেওয়া হয়।
তবে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কারসহ বিভিন্ন যানবাহন মালিক ও চালকরা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল সংগ্রহ করে মজুদ করায় পাম্পে তেল সংকট হচ্ছে বলে মনে করছেন তারা।
বিপিসির একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তেল সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো সংকট এখনো নেই। ঈদের আগে ও পরে ডিপো থেকে প্রয়োজনীয় তেল দেওয়া হচ্ছে। প্যানিকড হয়ে চালকরা প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় বেশি তেল কেনায় কৃত্রিম সংকট হতে পারে।
তেল বিপননকারী পদ্মা অয়েলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মফিজুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ২০২৫ সালের মার্চে যেভাবে চাহিদা ছিল সেটাকে ভিত্তি ধরে তেল সরবরাহ করা হয়েছে। কোনো সংকট হবার কথা নয়। তেল রেশনিং করে দেওয়ার অভিযোগও ঠিক নয়।
মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহীরুল হাসান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমাদের ডিপোগুলোতে পর্যাপ্ত তেল রয়েছে। তেলের কোনো সংকট নেই। দিনের হিসেবে কমবেশি হলেও গড়ে একই পরিমাণেই তেল দেওয়া হচ্ছে।”
২৫% বাড়তি তেল সরবরাহের দাবি টুকুর, আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান
'হঠাৎ' চাহিদা বাড়ায় সারাদিনের তেল শেষ হচ্ছে তিন ঘণ্টায়: জ্বালানি