Published : 23 Mar 2026, 11:56 PM
দেশে জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় গত বছরের চেয়ে ২৫ শতাংশ বেশি তেল সরবরাহ হচ্ছে বলে দাবি করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
তিনি প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তেল মজুদ না করা এবং জ্বালানি পণ্য নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য দেশবাসীকে আহ্বান জানিয়েছেন।
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট জ্বালানি তেলের সংকট নিয়ে সোমবার দুপুরে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন ইকবাল হাসান মাহমুদ।
তিনি বলেন, “আমি সরকারের পক্ষ থেকে জনগণের কাছে আহ্বান জানাব, আপনারা আতঙ্কিত হবেন না এবং প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তেল কিনবেন না।”
মন্ত্রী বলেন, “আমরা তেল সরবরাহ করছি এবং সরবরাহ করে যাব। যতক্ষণ পারব, আমরা চেষ্টা করে যাব। গত বছরের চেয়ে কিন্তু এ বছর আমরা ২৫ শতাংশ বেশি তেল সরবরাহ করছি।”
তিনি বলেন, “প্রয়োজনের বেশি তেল নিলে, মজুদ করে রাখলে ভিড় বাড়বে, লাইন বাড়বে। সেজন্য সবার সচেতন হওয়া দরকার।”
সংকট নিরসনে গত ৬ মার্চ সরকার পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল বিক্রিতে সীমা আরোপ করে। পরে ঈদযাত্রা ও সেচ মৌসুমের চাহিদার কথা ভেবে সেই সীমা তুলে নেওয়া হয়।
দেশের বর্তমান তেলের মজুদ সম্পর্কে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, “মজুদটা তো এভাবে থাকে না, আসে যায়, আসে যায়।”
তার ভাষ্য, সরকার ধারাবাহিক সরবরাহ ধরে রাখছে বলেই এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি সামলানো যাচ্ছে।
ঈদের দিন ও পরের দিন সরকারি ছুটি থাকায় ডিপো বন্ধ ছিল জানিয়ে টুকু বলেন, “আজ সকাল থেকে আবার ডিপোগুলো চালু হয়ে গেছে। তেল আসছে, তেল পাবে, পেট্রোল পাম্পে তেল পাবে। এগুলো নিয়ে লাইন দেওয়ার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না।”
মন্ত্রী জনগণের সহযোগিতার ওপর জোর দিয়ে বলেন, “জনগণ যদি কোঅপারেট না করেন, তাহলে সিস্টেম ঠিকমত চলে না।”
তার ভাষায়, গাড়ি ও মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীদের এখন সাশ্রয়ী হতে হবে।
টুকু বলেন, “এটা তো বাংলাদেশ সরকারের একার সমস্যা না, সারা পৃথিবীর সমস্যা।”
তার ভাষ্য, হরমুজ প্রণালি ঘিরে জাহাজ চলাচলে নিরাপত্তা ও অনুমতির জটিলতা তৈরি হয়েছে, আর সব দেশকেই এখন কেস টু কেস ভিত্তিতে অনুমতি নিয়ে এগোতে হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বাজার থেকে বেশি দামে তেল কিনেও সরকারের দাম না বাড়ানোর কথা তুলে ধরেন তিনি।
“স্পট মার্কেট থেকে বেশি দামে আমরা তেল কিনছি। কিনে জনগণের স্বস্তির জন্য দাম না বাড়িয়ে তেল দিচ্ছি। আমরা ভর্তুকি দিয়ে তেল সরবরাহ করে যাচ্ছি,” বলেন টুকু।
তিনি দাবি করেন, অনেক প্রতিবেশী দেশ ইতোমধ্যে তেলের দাম বাড়িয়েছে এবং কৃচ্ছ্রসাধনের ব্যবস্থা নিয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশ এখনো সে পথে যায়নি।
বাজারে আতঙ্কও যে পরিস্থিতি জটিল করছে, সেটি গত দুই সপ্তাহের ঘটনাপ্রবাহে স্পষ্ট।
জ্বালানি বিভাগ ৮ মার্চ জেলা প্রশাসকদের দিয়ে মোবাইল কোর্ট চালানোর অনুরোধ জানিয়ে বলেছিল, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে তেল মজুদ করছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
পেট্রোল পাম্প মালিকদের একাংশও এ সময়ে সরবরাহ ঘাটতি ও নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা বলেছে।
তবে সরকার বরাবরই বলছে, তাৎক্ষণিক বড় সংকট নেই, বরং সরবরাহ সচল রাখতে আমদানি বাড়ানো হচ্ছে।
জনগণকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে টুকু বলেন, “তেল যেটুকু প্রয়োজন, সেটুকুই নেন। তেলের সমস্যা হবে না।”
আরো পড়ুন