১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

চট্টগ্রাম বন্দরের অতিরিক্ত মাশুল এক মাস পেছাচ্ছে: উপদেষ্টা

এখন থেকেই আরও এক মাস পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে, বলেন তিনি।

চট্টগ্রাম ব্যুরো

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 20 Sep 2025, 09:36 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:20 PM

এক লাফে অনেক বেড়ে যাওয়া চট্টগ্রাম বন্দরের নতুন মাশুলের হার এক মাসের জন্য পিছিয়ে দেওয়া কথা বলেছেন নৌ পরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন।

শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম বন্দর মিলনায়তনে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) আয়োজিত এক কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, শুল্ক নিয়ে কথা হচ্ছে, এটি আরও এক মাস পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে বন্দর চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা হয়েছে।

“আমরা সম্মত হয়েছি, এক মাস পিছিয়ে দেব।” 

কোন সময় থেকে জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, এখন থেকেই আরও এক মাস পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারকারী ও ব্যবসায়ীদের আপত্তির মুখে ১৪ সেপ্টেম্বর রাতে বন্দরের বিভিন্ন সেবা খাতে ৪১ শতাংশ পর্যন্ত মাশুল বাড়ানোর প্রজ্ঞাপন জারি করে তা পরদিন থেকে কার্যকর করা হয়।

নতুন হারে মাশুল নির্ধারণের প্রস্তাবের পর থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছিলেন বন্দর ব্যবহারকারীরা। তবে তাদের আপত্তি আমলে না নিয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রস্তাব অর্থ বিভাগ অনুমোদন করে। পরে প্রজ্ঞাপন জারি করে বন্দর কর্তৃপক্ষ।   

ব্যবসায়ীদের দাবি, এমন উচ্চহারে মাশুল আরোপ করা হলে ভোক্তা পর্যায়ে এর চাপ পড়বে। তারা ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করেছিলেন।

তবে বন্দরের ভাষ্য, ১৯৮৬ সালের পর এবার মাশুল বাড়ানো হচ্ছে। এই দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানকে হিসাবে নিলে মাশুল খুব বেশি বাড়ছে না।

ইআরডি এদিন ‘কাস্টমস ও বন্দর ব্যবস্থাপনা- সম্ভাবনা, সমস্যা ও ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক এ কর্মশালার আয়োজন করে যাতে বন্দর সংশ্লিষ্টরা অংশ নেন। 

বন্দরে বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে ভুল ভাবনার কথা তুলে ধরে আরেক প্রশ্নের জবাবে নৌপরিবহন উপদেষ্টা বলেন, ‘‘আমি এটাও বলেছি যারা এখানে কর্মী আছেন, কারো চাকরি যাবে না। এ যে ট্রানজেকশন হলো এক জায়গা (এনসিটি) থেকে আমরা ডক ইয়ার্ডকে দিলাম কারো চাকরি গেছে? আমিতো সবাইকে জিজ্ঞাস করলাম তারা বলল, স্যার আমরা সবাই খুশি। সিস্টেমেটিকলি কাজ হচ্ছে।”

তিনি বলেন, “এগুলো যদি আন্তর্জাতিক না হয়, আজকে চট্টগ্রাম বন্দর ১৪০ বছর হয়ে গেছে অনেকে চিনেও না এটাকে। তাদেরকে আমরা পরিকল্পনা দিয়েছি তারা রামপুর, বরিশাল, খুলনাকে যুক্ত করবে। তাদের কাছে জাহাজ আছে যেগুলো, সেগুলো তিন থেকে চার মিটারে চলে। তাহলে চট্টগ্রাম বন্দরে যে জট আছেস সেটা অনেকখানি কমবে আশা করি। 

‘‘এই যে এগুলো আপনারা যদি আন্তজার্তিক বিনিয়োগকে গ্রহণ না করেন তাহলে আমরা যে তিমিরে আছে সেখানেই থেকেই যাব।”

বে-টার্মিনাল নিয়ে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “আশা করি নভেম্বরের মধ্যে না হলে ডিসেম্বর চুক্তি স্বাক্ষর করতে পারব। বিশ্ব ব্যাংকেরও অনুরোধ রয়েছে তাড়াতাড়ি চুক্তি করার জন্য। এ বছরের মধ্যে কাগজপত্র যা করার হয়ে যাবে। পরবর্তী সরকার যখন আসবে তারা কাজটা শুরু করবে।”

বাড়ল চট্টগ্রাম বন্দরের মাশুল

বাড়ছে চট্টগ্রাম বন্দরের মাশুল, ব্যবসায় প্রভাব পড়ার শঙ্কায় ব্যবহারকারীরা