Published : 05 Jul 2026, 12:04 PM
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের আয়কর নথি কয়েক দফায় নিরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর সুযোগ বুঝে প্রতারণায় নেমেছে একটি চক্র ।
ফোন করে বলা হচ্ছে, “আপনার আয়কর রিটার্ন এনবিআরের অডিটের আওতায় পড়েছে।” তারপর 'ভয়ভীতি' দেখিয়ে অবৈধভাবে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ মিলছে।
এমন ঘটনা আপনার সঙ্গে ঘটলে কী করবেন?
এনবিআর বলছে, তাদের কোনো কর্মকর্তা এভাবে ফোন করে যোগাযোগ করেন না। কারো আয়কর নথি অডিটের আওতায় পড়লে লিখিত নোটিস দিয়ে করদাতাকে জানানো হয়।
এমন কোনো ফোন এলে তাদের 'ফাঁদে' পা না দিয়ে দ্রুত নিকটস্থ থানাকে অবহিত করার পরামর্শ দিয়েছে কর আদায়কারী সংস্থাটি।
সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ নিয়ে করদাতার করণীয় তুলে ধরেছে এনবিআর; একই সঙ্গে নিজেদের অবস্থানও স্পষ্ট করেছে।
ফোন নয়, লিখিত নোটিস
এনবিআর বলছে, লিখিত নোটিস ছাড়া অন্য কোনোভাবে তারা যোগাযোগ করবে না। এনবিআরের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী করদাতার কর নথি অডিট সংক্রান্ত বিষয়ে ব্যক্তিগত ফোন নম্বর বা অননুমোদিত কোনো মাধ্যমে যোগাযোগ করেন না।
"অডিটের জন্য ফাইল নির্বাচিত হলে তা আইন অনুযায়ী কেবল আনুষ্ঠানিক লিখিত নোটিসের মাধ্যমে করদাতাকে জানানো হয়।"
সে রকম কোনো ফোন পেলে আর্থিক লেনদেনে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে এনবিআর।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কর সংক্রান্ত যে কোনো বকেয়া কর বা ফি শুধুমাত্র সরকারি চালানের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিতে হয়।
"কোনো কর্মকর্তা বা ব্যক্তি করদাতার কাছ থেকে ব্যক্তিগতভাবে, বিকাশ, রকেট, নগদ বা অন্য কোনো মোবাইল ব্যাংকিং বা ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণের এখতিয়ার রাখেন না।"
তথ্য যাচাই করুন
কোনো সন্দেহজনক ফোন কল, এসএমএস বা ইমেইল পেলে বিভ্রান্ত না হয়ে সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চলের উপ কর কমিশনারের কার্যালয়ে যোগাযোগ করে সত্যতা যাচাই করতে পারেন করদাতা।
সেখানে তথ্য যাচাই করে প্রতারণার প্রমাণ মিললে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও পরামর্শ দিয়েছে এনবিআর।
“কোনো প্রতারকচক্র যদি এনবিআরের কর্মকর্তা সেজে অর্থ দাবি করে, তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে (পুলিশ) অবহিত করুন এবং প্রতারকের ফোন নম্বরটি সংরক্ষণ করুন।”
এনবিআর বলছে, "জাতীয় রাজস্ব বোর্ড করদাতাদের হয়রানিমুক্ত ও স্বচ্ছ সেবা প্রদানে বদ্ধপরিকর। কোনো অবস্থাতেই এ ধরনের প্রতারকদের ফাঁদে পা দিয়ে কোনো আর্থিক লেনদেন না করার জন্য বিনীত অনুরোধ করা হল।"
রাজস্ব আদায়ে গতিশীলতা বাড়াতে তৃতীয় দফায় ২০২৩-২৪ করবর্ষের ব্যক্তিশ্রেণির আরও ৫ হাজার ১৪টি আয়কর রিটার্ন অডিটের জন্য নির্বাচন করেছে এনবিআর।
এর আগে ২০২৫ সালের জুলাই মাসে প্রথম পর্যায়ে ১৫ হাজার ৪৯৪টি ও দ্বিতীয় পর্যায়ে ৭২ হাজার ৩৪১টিসহ প্রায় ৮৮ হাজার আয়কর রিটার্ন অডিটের জন্য নির্বাচন করা হয়েছিল।
নির্বাচিতদের তালিকা এনবিআরের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।