Published : 04 Jul 2026, 01:31 PM
অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে মাথায় রেখে বাজেটে চট্টগ্রাম নিয়ে পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
আর তা সেসব বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম ‘লজিস্টিক্যাল হাব’ এ পরিণত হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শনিবার সকালে চট্টগ্রাম পৌঁছে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে এ কথা বলেন তিনি।
বাজেটে চট্টগ্রামকে নিয়ে কী পরিকল্পনা করা হয়েছে প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের প্রত্যেকটি অঞ্চলের যে সম্ভাবনা আছে সেটাকে মাথায় রেখে বাজেট করা হয়েছে। এবং সেই সম্ভাবনাগুলোকে আমরা কিভাবে কাজে লাগাতে পারি। চট্টগ্রামের সম্ভাবনা স্বভাবতই অনেক বেশি। কারণ হচ্ছে, এখানে বন্দর আছে।
“সমুদ্র বন্দর শুধু না, চট্টগ্রামের একটা ভৌগলিক অবস্থান আছে। স্ট্র্যাটেজিক একটা অবস্থান আছে। সবকিছু মিলিয়ে চট্টগ্রামের সম্ভাবনাকে মাথায় রেখে আমাদের পরিকল্পনায় অনেক কিছু আমরা নিয়ে এসেছি।”
তিনি বলেন, “নদীর (কর্ণফুলী) ওপারে ৬০০ একর জমি নিয়ে একটা ফ্রি (ট্রেড) জোনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। চট্টগ্রামে অনেকগুলো পোর্ট আমরা একসাথে করতে যাচ্ছি। আমি আগে বারবার বলেছি, চট্টগ্রামকে একটা লজিস্টিক্যাল হাব করার জন্য। বাজেটে সেটার প্রতিফলন ঘটেছে।
“চট্টগ্রাম বিমানবন্দর নিয়েও চিন্তা আছে। এটাকে কার্গো হাব, প্যাসেঞ্জার হাব করার এটাও আছে পরিকল্পনার মধ্যে। এখানে চাইনিজ ইকোনমিক জোন হতে যাচ্ছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম লিংকের জন্য লাকসামের যে বিষয়টা আছে (কর্ডলাইন), দুই ঘণ্টা ট্র্যাভেল টাইম কমে আসে যাতে ট্রেনের। সেটাও বলা আছে।”
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু বলেন, “তো সবগুলো হলে, চট্টগ্রাম থেকে যে করিডোর বাংলাদেশের সাথে সেটা হবে। লজিস্টিক্যাল হাব হবে। বন্দরগুলো অনেক বেশি পরিমাণে কাজ করতে পারবে। আবার ওদিকে মাতারবাড়ি একটা বড় ধরণের কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।
“সবকিছু মিলিয়ে এই অঞ্চলের যে অর্থনৈতিক সম্ভাবনা আছে তা মাথায় রেখে বাজেটে পরিকল্পনা করা হয়েছে। এটা একটা দীর্ঘমেয়াদি ব্যাপার। কয়েক বছর সময় লাগবে। তবে কাজগুলো যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমরা শুরু করার চেষ্টা করছি।”
এবারের বাজেট বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “একটা কঠিন সময়ে এত বড় একটা বাজেট, আমরা যেটা বিগত সরকারগুলো থেকে ইনহেরিট করেছি। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে যেটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অর্থনীতিটা এখন খুবই খারাপ অবস্থায় আছে। যেটা আমারা পেয়েছি। এখান থেকে আগে বেরিয়ে আসতে হবে।
“এই ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে এসে স্থিতিশীল করতে হবে। তারপর সম্ভাবনার দিকে যাব। অর্থনীতির যে প্রসপেরিটি সেটা শুরু হয়ে যাবে তৃতীয়-চতুর্থ বছর থেকে। এবং অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে।”
আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ তার যে সম্ভাবনা সেটাকে পুরোপুরি কাজে লাগিয়ে আমরা বিশ্বের অন্যতম অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার, ওয়ান ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির যে ফোরকাস্ট আমরা করেছি, সেদিকে আমরা এগিয়ে যাব।”
এসময় উপস্থিত ছিলেন সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেন, সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন, বিএনপি নেতা আবুল হাশেম বক্কর ও আইনজীবী আবদুস সাত্তারসহ নেতৃবৃন্দ।