Published : 18 May 2026, 03:52 PM
গ্রাফিতি আঁকা নিয়ে উত্তেজনার জেরে জারি করা মিছিল-মিটিংয়ে নিষেধাজ্ঞার মধ্যে গ্রাফিতি আঁকতে যাওয়া শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি হয়েছে।
সোমবার বেলা পৌনে ১টার দিকে নগরীর টাইগার পাস মোড়ে কিছু ‘শিক্ষার্থী’ জড়ো হন জুলাইয়ের গ্রাফিতি আঁকার জন্য।
পরে বেলা ২টার দিকে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে পুলিশ তিনজনকে আটক করে পুলিশ ভ্যানে তোলে। শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের মুখে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
বেলা আড়াইটার দিকে পুলিশ আটক শিক্ষার্থীদের ছেড়ে দিলে শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। তবে টাইগার পাস এলাকায় এখনো অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন আছে।
এর আগে সোমবার সকাল থেকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত নগরীর জিইসি মোড় থেকে দেওয়ানহাট পর্যন্ত মূল সড়ক ও আশেপাশের এলাকায় মিছিল-মিটিংয়ে নিষেধাজ্ঞা দেয় চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ ।
চট্টগ্রামে জুলাই আন্দোলনের গ্রাফিতি মুছে ফেলা নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও ছাত্রদলের মধ্যে রোববার রাতে উত্তেজনার পর সেই সড়কে সকল ধরনের মিছিল-মিটিংয়ে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে পুলিশ।

এর মধ্যে সোমবার সকাল ১০টায় টাইগার পাস থেকে লালখান বাজারমুখী সড়কের পাশে দেয়ালে গ্রাফিতি আঁকার কর্মসূচি দিয়েছিল চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন।
তবে সকালে আর এই কর্মসূচি পালিত হয়নি। তবে বেলা ১১টার দিকে টাইগার পাস থেকে আমবাগানমুখী সড়কে অবস্থিত অস্থায়ী নগর ভবনে সাংবাদিকদের সাথে এ বিষয়ে কথা বলেন ডা. শাহাদাত হোসেন।
এরপর বেলা সাড়ে ১২টার পর থেকে টাইগার পাস পুলিশ বক্স এলাকায় জড়ো হয় কিছু শিক্ষার্থী। এসময় তাদের সরে যেতে পুলিশকে মাইকিং করতে দেখা যায়। কিন্তু শিক্ষার্থীরা সরেনি।
পরে শিক্ষার্থীরা পুলিশকে জানায়, তারা বেশি সংখ্যায় এক জায়গায় জড়ো হবে না। তিনজন করে গিয়ে গ্রাফিতি আঁকবে।
বেলা দুইটার দিকে রং-তুলি নিয়ে গ্রাফিতি আঁকার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তি হয়। এসময় রঙের বালতি থেকে রঙ ছিটকে কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও শিক্ষার্থীদের গায়ে পড়ে।
এরপর পুলিশ কয়েকজনকে আটক করে ভ্যানে নিয়ে রাখে। এর প্রতিবাদ জানাতে থাকে শিক্ষার্থীরা।
সমবেত শিক্ষার্থীরা বলে, পুলিশের কথা মত বেশি সংখ্যায় জড়ো না হয়ে তারা তিনজন করে গিয়ে গ্রাফিতি আঁকতে চেয়েছিল। কিন্তু পুলিশ তাদের বাধা দেয় এবং অন্যায়ভাবে আটক করে। পরে পুলিশ আটক শিক্ষার্থীদের ছেড়ে দেয়।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, টাইগার পাস এলাকায় মেট্রোপলিটন অধ্যাদেশের ৩০ ধারা জারি আছে। তা অমান্য করে সাধারণ শিক্ষার্থী পরিচয়ে ৫০-৬০ জন জড়ো হয়েছিল।
“তাদের সরে যেতে বললেও সরেনি। সরিয়ে দিতে গেলে তারা পুলিশের গায়ে রঙ মারে। এনসিপি বলেছে, আজ তাদের প্রোগ্রাম স্থগিত করা হয়েছে। যারা রঙ মেরেছিল, তাদের কয়েকজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।"
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলীর জারি করা গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জিইসি মোড় থেকে দেওয়ানহাট পর্যন্ত মূল সড়ক ও আশেপাশের এলাকায় শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তার জন্য চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশ ১৯৭৮ এর ৩০ ধারা প্রদত্ত ক্ষমতাবলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
নগরীর টাইগারপাস এলাকায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কয়েকটি পিলারে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে হলুদ ও সাদা রং করা হয়। যেগুলোতে জুলাই আন্দোলনের গ্রাফিতি ছিল।
জুলাই আন্দোলনের গ্রাফিতি সিটি করপোরেশনের নির্দেশে মুছে ফেলা হয়েছে এমন অভিযোগে রোববার সন্ধ্যার পর বিক্ষোভে নামেন এনসিপির নেতাকর্মীরা।
এনসিপির বিক্ষোভ থেকে মেয়র শাহাদাত হোসেনের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়ার প্রতিবাদে একই এলাকায় রাতে মিছিল করেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
একপর্যায়ে রাত ১১টার পর এনসিপির নেতাকর্মীরা টাইগার পাস এলাকায় এবং ছাত্রদল ও বিএনপির নেতাকর্মীরা লালখান বাজার মোড়ে অবস্থান নেয়। এসময় দুই পক্ষের উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
পরে রাত ১২টার দিকে সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেন লালখান বাজার মোড়ে গিয়ে দলীয় নেতাকর্মী ও গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন।