জয়ের সুবাস নিয়ে শেষ দিনে অস্ট্রেলিয়া
ডারবানে ম্যাচ বাঁচানোর জন্য লড়াই করছে দক্ষিণ আফ্রিকা।
প্রথম ইনিংসে অল্পের জন্য ডাবল সেঞ্চুরির দেখা না পাওয়া ম্যাট রেনশ এবার জাগালেন সেঞ্চুরির সম্ভাবনা। শেষ পর্যন্ত তিন অঙ্কের উষ্ণ ছোঁয়া না পেলেও, দারুণ এক কীর্তি গড়লেন তিনি। পরে বল হাতে পেলেন টেস্টে প্রথম উইকেটের স্বাদ। ডারবানে ব্যাটে-বলে আধিপত্য দেখিয়ে জয়ের পথ সুগম করল অস্ট্রেলিয়া।
কিংসমিডে সোমবার ৬ উইকেটে ৩১৪ রান করে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে অস্ট্রেলিয়া। ৪২১ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ৪ উইকেটে ১০২ রান নিয়ে দিন শেষ করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ৩১৯ রানে পিছিয়ে থেকে শেষ দিনের লড়াইয়ে নামবে স্বাগতিকরা।
ম্যাচের ভাগ্য অনেকটা ঢলে পড়েছে অস্ট্রেলিয়ার দিকে। জিততে সফরকারীদের চাই ছয় উইকেট।
পরিসংখ্যানও কথা বলছে তাদের পক্ষে। টেস্টের ইতিহাসে চারশর বেশি রান তাড়া করে জয়ের নজির আছে কেবল চারটি। সর্বোচ্চ ৪১৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জয়ের বিশ্ব রেকর্ডটি ওয়েস্ট ইন্ডিজের, ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। আর দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে তো সাড়ে তিনশ রান তাড়া করেও জয়ের কীর্তি নেই কোনো দলের।
প্রথম ইনিংসে ১৯০ রান করা রেনশ এবার করেন দুটি ছক্কা ও সাতটি চারে ৮২ রান। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে এক টেস্টের দুই ইনিংসে দেড়শ ও পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংস খেলা স্রেফ দ্বিতীয় অস্ট্রেলিয়ান তিনি। ২০০৯ সালে ডারবানে ১১৫ ও ১৬০ রান করেছিলেন প্রয়াত ফিল হিউজ।
রেনশ পরে বল হাতে নেন দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়ক টেম্বা বাভুমার উইকেট।
নতুন দিনের অষ্টম বলে উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। মার্কো ইয়ানসেনের বলে মিড-অনে ট্রাভিস হেড ধরা পড়লে ভাঙে ৪৮ রানের উদ্বোধনী জুটি।
আত্মবিশ্বাসী শুরু করা নিক ম্যাডিনসনের ফিফটি মনে হচ্ছিল সময়ের ব্যাপার। কিন্তু ৪৮ রানে দুর্দান্ত এক ইয়র্কারে তার স্টাম্প উড়িয়ে দেন আনরিখ নরকিয়া। ৩৮ বলের ইনিংসে দুটি ছক্কা ও ছয়টি চার মারেন ম্যাডিনসন।
মুখোমুখি চতুর্থ বলে নরকিয়ার গতিময় বাউন্সার আঘাত হানে স্টিভেন স্মিথের হেলমেটে। মাঠেই প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর নতুন হেলমেট নিয়ে ব্যাটিং চালিয়ে যান স্মিথ। কিছুক্ষণ পর নরকিয়ার ওভারে তিনটি চার মারেন অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান।
আরেক প্রান্তে মার্নাস লাবুশেনও ভালো ব্যাটিং করছিলেন। কিন্তু পাঁচ ওভারের মধ্যে দুজনেরই বাজে বিদায় ঘণ্টা। সাইমন হার্মারকে উড়িয়ে মেরে বাউন্ডারিতে ধরা পড়েন স্মিথ। দুইবারের চেষ্টায় ক্যাচ নেন ইয়ানসেন। কেশাভ মহারাজের বলে কাভারে ক্যাচ দেন লাবুশেন।
রেনশ ও অ্যালেক্স কেয়ারির ব্যাটে প্রথম সেশন শেষ করে অস্ট্রেলিয়া। দ্বিতীয় সেশনের মাঝামাঝিতে নরকিয়ার বলে বোল্ড হন কেয়ারি। দুই ওভার পর হার্মারকে রিভার্স সুইপে চার মেরে ৭৫ বলে ফিফটি স্পর্শ করেন রেনশ।
এক ওভার পর রেনশকে এলবিডব্লিউ দেন আম্পায়ার। রিভিউ নিতে দেরি করেননি ব্যাটসম্যান। রিপ্লেতে দেখা যায় তার গ্লাভসে হালকা ছুঁয়ে গেছে বল।
পঞ্চাশের পর দ্রুত রান বাড়ান রেনশ। ৫৫তম ওভারে মহারাজকে ছক্কা হাঁকানোর পরের ডেলিভারিতে বোলারকে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। অনেকটা সময় রিপ্লে দেখে আউট দেন টিভি আম্পায়ার।
ক্রিজে গিয়ে মুখোমুখি চতুর্থ বলে হার্মারকে ছক্কায় ওড়ান প্যাট কামিন্স। হার্মারের পরের ওভারে তিনটি ছক্কা হাঁকান তিনি। দ্বিতীয় ছক্কাটি হয় ট্রিস্টান স্টাবসের হাত ফসকে। ওই ওভারের শেষ বলে চার মারেন ওয়েবস্টার। এরপরই ইনিংস ঘোষণা করে দেয় অস্ট্রেলিয়া।
চারটি ছক্কায় ১২ বলে ৩২ রানের ক্যামিও খেলেন কামিন্স। পাঁচটি চারে ৩৯ রানে অপরাজিত থাকেন ওয়েবস্টার।
৫০ ওভার শেষে অস্ট্রেলিয়ার রান ছিল ২২০। শেষ আট ওভারে ৯৪ রান তোলে তারা।
পাহাড়সম রান তাড়ায় নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় দক্ষিণ আফ্রিকা। ইনিংসের চতুর্থ ওভারে জশ হেইজেলউডের বাউন্সারে কট বিহাইন্ড হন রায়ান রিকেলটন।
দারুণ ব্যাটিংয়ে দলকে পরে টানেন এইডেন মার্করাম ও ডেভিড বেডিংহ্যাম। ফিফটি করার আগে বেডিংহ্যামকে এলবিডব্লিউ করে দেন হেইজেলউড। ৮ চারে ৪৬ রান করা বেডিংহ্যামের বিদায়ে ভাঙে ৬৬ রানের জুটি।
ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় ওভার করতে এসেই দলকে সাফল্য এনে দেন রেনশ। তার বলে ব্যাটের পর প্যাডে লেগে শর্ট লেগে ধরা পড়েন বাভুমা। প্রথম ইনিংসে ৩ রানের পর এবার কেবল এক রান করতে পারলেন স্বাগতিকদের অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান।
দুই ওভার পর ট্রিস্টান স্টাবসকে কট বিহাইন্ড করেন কামিন্স। এরপর বাকি সময় নিরাপদে কাটিয়ে দেন মার্করাম ও ভিয়ান মুল্ডার। শেষ দিনে দলকে কতদূর টানতে পারেন তারা, সেটাই দেখার।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
অস্ট্রেলিয়া ১ম ইনিংস: ৩৯০
দক্ষিণ আফ্রিকা ১ম ইনিংস: ২৮৪
অস্ট্রেলিয়া ২য় ইনিংস: ৫৮ ওভারে ৩১৪/৬ ডিক্লে. (আগের দিন ৩৩/০) (ম্যাডিনসন ৪৮, হেড ১১, লাবুশেন ৩৭, স্মিথ ২৭, রেনশ ৮২, কেয়ারি ২৪, ওয়েবস্টার ৩৯*, কামিন্স ৩২*; ইয়ানসেন ৮-০-৪৫-১, মুল্ডার ৪-০-২৪-০, হার্মার ২৫-১-১২১-১, নরকিয়া ১২-১-৫৮-২, মহারাজ ৯-০-৫৬-২)
দক্ষিণ আফ্রিকা ২য় ইনিংস: (লক্ষ্য ৪২১) ৪১ ওভারে ১০২/৪ (রিকেলটন ২, মার্করাম ৪৫*, বেডিংহ্যাম ৪৬, বাভুমা ১, স্টাবস ১, মুল্ডার ৫*; স্টার্ক ৭-১-১৯-০, হেইজেলউড ৮-৩-২০-২, কামিন্স ৯-৩-২৭-১, লায়ন ১০-১-২০-০, রেনশ ৭-১-১৬-১)
