বাজে ব্যাটিংয়ের চক্রেই বাংলাদেশ, আফ্রিদির রেকর্ড

পাকিস্তানের বিপক্ষে ২৯ বল বাকি থাকতেই ২০৪ রানে অল আউট হয়ে গেছে বাংলাদেশ।

ক্রীড়া প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 31 Oct 2023, 12:50 PM
Updated : 31 Oct 2023, 12:50 PM

চলতি বিশ্বকাপে যেন এক গোলকধাঁধায় আটকে গেছে বাংলাদেশের ব্যাটিং। ম্যাচে আগে বা পরে, ব্যর্থতা চলমান টানা ষষ্ঠ ম্যাচে। পাকিস্তানের বিপক্ষে মাহমুদউল্লাহ-লিটন দাসের জুটি আশার আলো দেখালেও ইনিংস বড় হয়নি। ফলে বাংলাদেশও গুটিয়ে গেছে অল্পেই।

কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে মঙ্গলবার ইনিংসের ২৯ বল বাকি থাকতেই ২০৪ রানে অল আউট হয়ে গেছে বাংলাদেশ। টানা চার হারের পর জয়ের লক্ষ্যে পাকিস্তান পেয়েছে তুলনামূলক সহজ লক্ষ্য।

বাংলাদেশের একমাত্র ছন্দে থাকা ব্যাটসম্যান মাহমুদউল্লাহ করেছেন সর্বোচ্চ ৫৬ রান। চল্লিশ পেরিয়ে থেমেছেন লিটন ও অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। একাদশে বাড়তি ব্যাটসম্যান নেওয়ার সুফল এবারও পায়নি বাংলাদেশ।

টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশের শুরুর ব্যাটসম্যানদের কঠিন পরীক্ষা নেন শাহিন শাহ আফ্রিদি, হারিস রউফ। পরে লেজটা মুড়িয়ে দেন আরেক পেসার মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়র। তিন পেসারের সম্মিলিত শিকার ৮ উইকেট।

ইনিংসের প্রথম ওভারে তানজিদ হাসানকে শূন্য রানে ফিরিয়ে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের একশ উইকেট পূর্ণ করেন আফ্রিদি। স্রেফ ৫১ ম্যাচে এই মাইলফলক ছুঁয়ে ফেললেন ২৩ বছর বয়সী বাঁহাতি পেসার।


পাকিস্তানের বোলারদের মধ্যে তিনিই দ্রুততম। সাবেক স্পিনার সাকলাইন মুশতাক একশ উইকেট নিয়েছিলেন ৫৩ ম্যাচে। সব মিলিয়ে দ্রুততম একশ উইকেটের রেকর্ড সন্দীপ লামিছানের, ৪২ ম্যাচে। পেসারদের মধ্যে অবশ্য আফ্রিদিই দ্রুততম। আগের রেকর্ড মিচেল স্টার্কের, ৫২ ম্যাচে।

আফ্রিদির পরের ওভারে ড্রেসিং রুমের পথ ধরেন নাজমুল হোসেন শান্ত। টানা ছয় ম্যাচে দুই অঙ্ক ছুঁতে ব্যর্থ বাঁহাতি টপ-অর্ডার ব্যাটসম্যান। ষষ্ঠ ওভারে আক্রমণে এসেই অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিমকে কট বিহাইন্ড করেন রউফ।

২৩ রানে ৩ উইকেট হারানো দলের হাল ধরেন লিটন, মাহমুদউল্লাহ। চাপ সামলে ধীরে ধীরে এগোতে থাকেন দুজন। প্রথম ১০ ওভারে স্রেফ ৩৭ রান করা বাংলাদেশ পরের ১০ ওভারে তোলে ৫৯ রান। 

তাদের ব্যাটে বাংলাদেশ যখন ঘুরে দাঁড়ানোর আশায়, তখনই আবার আঘাত আসে। দলের রান একশ পূর্ণ হতেই ইফতিখার আহমেদের সাদামাটা এক ডেলিভারিতে অবিশ্বাস্যভাবে শর্ট মিড উইকেটে ক্যাচ দেন লিটন। অফ স্টাম্পে পড়ে বল যাচ্ছিল লেগ স্টাম্পে, লেগ সাইডে যে কোনো জায়গায় খেলতে পারতেন লিটন।


কী বলে কী শটে আউট হয়েছেন, নিজেরও যেন বিশ্বাস হচ্ছিল না লিটনের। চোখে-মুখে ছিল অবিশ্বাস আর ভীষণ হতাশার স্পষ্ট ছাপ। জায়গা থেকেই যেন নড়তে পারছিলেন না ৬৪ বলে ৪৫ রান করা ওপেনার।

এরপর ক্রিজে গিয়ে শুরু থেকেই রানের জন্য ধুঁকতে থাকেন সাকিব। অন্য প্রান্তে রানের গতি ঠিক রাখার চেষ্টা চালিয়ে যান মাহমুদউল্লাহ। তিনি ফিফটি স্পর্শ করেন ৫৮ বলে।

দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে দারুণ এক ডেলিভারিতে মাহমুদউল্লাহকে আউট করেন আফ্রিদি।

ইফতিখারের এক ওভারে পরপর তিন চার মেরে আড়মোড়া ভাঙার আভাস দেন সাকিব। কিন্তু বেশি দূর যেতে পারেননি। আগের দুই ম্যাচের মতো এবারও তিনি ফেরেন শর্ট বলে। রউফের বাউন্সারে পুল করতে গিয়ে ক্যাচ আউট হন ৪৩ রান করে।

আট নম্বরে নেমে মেহেদী হাসান মিরাজের ২৫ রানের সৌজন্যে কোনোমতে দুইশ পর্যন্ত যায় বাংলাদেশ।

পাকিস্তানের পক্ষে ৩টি করে উইকেট নেন আফ্রিদি ও ওয়াসিম। রউফের শিকার ২ উইকেট।