আফগানদের ইংল্যান্ড বধের নায়ক মুজিব
ব্যাটিংয়ে ক্যামিও ইনিংস খেলার পর বল হাতে তিন উইকেট নেন মুজিব উর রহমান।
ইংল্যান্ডের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইন-আপের জন্য তিনশ’র কাছাকাছি রান তাড়া করা অবশ্যই কঠিন কিছু নয়। তবে সবার নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে প্রতিপক্ষকে বেঁধে রাখার কাজটা কী দারুণভাবেই না করল আফগানিস্তান। দুর্দান্ত বোলিংয়ে দলকে অবিশ্বাস্য এক জয়ের স্বাদ দিতে মূল কাজটা করলেন মুজিব উর রহমান।
দিল্লিতে রোববার বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে ৫৭ বলে ৮০ রান করে দলকে শক্ত ভিত গড়ে দেন রহমানউল্লাহ গুরবাজ। এরপর ইব্রাহিম আলিখিলের দায়িত্বশীল ফিফটি ও মুজিবের ক্যামিওতে ২৮৪ করে আফগানিস্তান।
দারুণ ব্যাটিংয়ের পর উজ্জীবিত আফগানরা বল হাতেও নিজেদের মেলে ধরে। গতবারের বিশ্বকাপ জয়ীদের ২১৫ রানে গুটিয়ে দিয়ে তুলে নেয় ৬৯ রানের স্মরণীয় জয়। বিশ্বকাপে তো বটেই, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে যে কোনো সংস্করণেই এটা তাদের প্রথম জয়।
দলকে স্মরণীয় সাফল্য এনে দেওয়ার পথে মুজিব নিজেও পেলেন একটি ‘প্রথম’ এর স্বাদ; ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে জিতলেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার।
বল হাতে মূল কাজটা করার আগে ব্যাটিংয়েও ঝলক দেখান মুজিব। ৯ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে ১৬ বলে ৩টি চার ও ১টি ছক্কায় করেন ২৮ রান।
ইংল্যান্ডের ইনিংসের একেবারে শুরুতেই তার হাতে বল তুলে দেন আফগান অধিনায়ক। পাওয়ার প্লেতে নতুন বল হাতেই আলো ছড়ানোর শুরু করেন তিনি। প্রথম ওভারে দেন কেবল তিনটি সিঙ্গেল।
দ্বিতীয় ওভারে ফাজালহাক ফারুকির বলে জনি বেয়ারস্টো ফিরে যাওয়ার পর জুটি গড়ার চেষ্টায় ছিলেন জো রুট ও দাভিদ মালান। নিজের চতুর্থ ও দলীয় সপ্তম ওভারে অভিজ্ঞ রুটকে বোল্ড করে তা হতে দেননি মুজিব। তখন তার বোলিং ফিগার ৪-০-১২-১।
পরে অবশ্য একটু খরুচে হয়ে যান মুজিব। তবে আসল কাজটা ঠিকমতোই করেছেন তিনি। ক্রিস ওকসকে বোল্ড করে দ্বিতীয় শিকার ধরেন মুজিব।
ইংল্যান্ডের নিয়মিত উইকেট হারানোর মাঝে কেবল লড়াই করতে পারেন হ্যারি ব্রুক। মূলত তার ব্যাটেই আশা বেঁচেছিল ইংলিশদের। ৩৫তম ওভারে তাকেও কট বিহাইন্ড করে দেন মুজিব। ইংলিশদের পক্ষে সর্বোচ্চ ৬৬ রান করেন ব্রুক।
ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এই নিয়ে চতুর্থবার ম্যাচ সেরার স্বীকৃতি পেলেন মুজিব।
