রাত্নায়াকের ঝড়ো সেঞ্চুরির ইনিংস থামিয়ে ইংল্যান্ডের স্বস্তির জয়
পাভান রাত্নায়াকের আরেকটি সেঞ্চুরিতে আরেকটি অসাধারণ জয়ের আশা জাগিয়েও পেরে উঠল না শ্রীলঙ্কা, প্রায় ২১ বছর পর পাকিস্তানে ওয়ানডে ম্যাচ জিতল ইংল্যান্ড।
রাওয়ালপিন্ডিতে ইংল্যান্ডের ৪২৯ রান টপকে শ্রীলঙ্কার জয়ের রেশ পুরোপুরি মিলিয়ে যায়নি এখনও। দুই দলের পরের লড়াইয়ে ফের বড় লক্ষ্য তাড়ায় পাভান রাত্নায়াকের আরেকটি সেঞ্চুরিতে আশা জাগাল শ্রীলঙ্কা। তবে এই ব্যাটসম্যানের বিদায়ের পর এবার পেরে উঠল না তারা। স্বস্তির জয়ে সিরিজ শেষ করল ইংল্যান্ড।
ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে প্রথম পর্বের শেষ ম্যাচে হ্যারি ব্রুকের দলের জয় ৫৫ রানে।
লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার ইংলিশদের জয়ের নায়ক বেন ডাকেট। বাঁহাতি ওপেনারের ১৩২ বলে ১৬৭ ও কয়েকটি কার্যকর ইনিংসে ৫০ ওভারে তারা করে এই মাঠের দলীয় সর্বোচ্চ ৩৮৬ রান।
জবাবে কুসাল মেন্ডিসের ৭১ বলে ৮৯ রানের পর, রাত্নায়াকের ৭০ বলের সেঞ্চুরিতে লড়াই জমিয়ে তোলে শ্রীলঙ্কা। সপ্তাহ খানেক আগের দেখায় ১৩০ রানের ইনিংসে দলকে জেতানো এই ব্যাটসম্যান যতক্ষণ ক্রিজে ছিলেন, আশা জিইয়ে ছিল লঙ্কানদের। ৩ উইকেট হাতে নিয়ে ৩৫ বলে ৫৮ রান দরকার ছিল তাদের। কিন্তু এরপরই রাত্নায়াকে ফেরেন ৭৭ বলে ১১৮ রান করে।
পরের পাঁচ বলের মধ্যে বাকি দুই উইকেট হারিয়ে ৩৩১ রানে অলআউট হয় শ্রীলঙ্কা।
রাত্নায়াকের গুরুত্বপূর্ণ উইকেটটিসহ ৪৯ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ডের সফলতম বোলার বাঁহাতি স্পিনিং অলরাউন্ডার লিয়াম ডসন।
এই সংস্করণে পাকিস্তানের মাটিতে টানা ছয় ম্যাচ হারের ধারার অবসান ঘটিয়ে ২০০৫ সালের ডিসেম্বরের পর প্রথম জয়ের দেখা পেল ইংল্যান্ড। গত বছর পাকিস্তানে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে তিনটি ও এই সিরিজে তিনটি ম্যাচ হেরেছিল তারা।
তিন হারে আগেই ফাইনালের লড়াই থেকে ছিটকে যাওয়া ইংল্যান্ডের জন্য এই ম্যাচটি ছিল নিয়মরক্ষার। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে দেড়শ ছোঁয়া উদ্বোধনী জুটিতে শক্ত ভিত পায় তারা। প্রথম ১০ ওভারে আসে ৬২ রান। এরপর রানের গতি বাড়ে আরও। ডাকেট পঞ্চাশ পূর্ণ করেন ৪৬ বলে, টম ব্যান্টনের ফিফটি করতে লাগে ৪৯ বল।
আট চার ও দুই ছক্কায় ৭৫ বলে ৭৪ রান করে ফেরেন ব্যান্টন। শুরুর জুটিতে আসে ১৫১ বলে ১৬৩ রান।
জোর রুটের জায়গায় নিজেকে তিন নম্বরে তুলে আনেন ব্রুক। প্রথম ২২ বলে ইংল্যান্ড অধিনায়কের রান ছিল ১২। এরপর দুনিথ ওয়েলালাগেকে পরপর চার ও ছক্কায় রানের গতিতে দম দেন তিনি। পরের দুই বলে তিনি চার ও ছক্কা মারেন ইশান মালিঙ্গাকেও। ডাকেট টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ৮৯ বলে।
আসিথা ফার্নান্দোর বলে স্কুপ শট খেলতে গিয়ে আউট হন ব্রুক। তিন চার ও দুই ছক্কায় ৩৪ বলে ৪৪ রান করেন তিনি। এই জুটিতে আসে ৭৫ বলে ১০৭ রান।
ওয়ানডেতে দ্বিতীয়বার দেড়শ ছোঁয়ার পর ডাকেটও বিদায় নেন একটি ব্যর্থ স্কুপ শট খেলার প্রচেষ্টায়। ২৪ চারে গড়া তার ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসটি।
ঝড়ো ব্যাটিংয়ে দলকে চারশর কাছাকাছি নিয়ে যান উইল জ্যাকস (২১ বলে ৩০), জর্ডান কক্স (২৭ বলে ৪৩) ও স্যাম কারান (১২ বলে ২১*)। ব্যাটিং পাননি রুট।
বড় লক্ষ্য তাড়ায় শুরুতেই কামিন্দু মেন্ডিসকে হারায় ইংল্যান্ড। দ্বিতীয় উইকেটে ৮৪ রানের জুটিতে দলকে লড়াইয়ে রাখেন আভিশকা ফার্নান্দো ও কুসাল মেন্ডিস। আভিশকাকে (৫০ বলে ৪৮) ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন ডসন।
রাত্নায়াকের সঙ্গে আরেকটি পঞ্চাশ ছোঁয়া জুটিতে সেঞ্চুরির পথে ছুটছিলেন মেন্ডিস। প্রথমবার বোলিংয়ে এসে দ্বিতীয় বলেই মেন্ডিসকে থামিয়ে দেন রুট। আট চার ও পাঁচ ছক্কায় গড়া লঙ্কান অধিনায়কের ৮৯ রানের ইনিংসটি।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আগের দেখায় ৯৭ রান করা দাসুন শানাকা এবার ফেরেন ৪ রানেই। পঞ্চম উইকেটে ৩৮ বলে ৭২ রানের জুটিতে দলকে এগিয়ে নেন রাত্নায়াকে ও জানিথ লিয়ানাগে। ১৭ বলে ২৭ রান করে বিদায় নেন লিয়ানাগে।
রাত্নায়াকে এরপর আরেকটি পঞ্চাশ ছোঁয়া জুটি গড়েন সাহান আরাচ্চিগের সঙ্গে। ৯৮ রানে আউট হতে পারতেন তিনি, কিন্তু এক হাতের প্রচেষ্টায় ফিরতি ক্যাচ নিতে পারেননি বোলার কারান।
ওই ওভারেই সেঞ্চুরিতে পা রাখেন রাত্নায়াকে। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের তিনটি সেঞ্চুরিই তিনি করলেন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে!
এই জুটিতে ভালোভাবেই লড়াইয়ে ছিল শ্রীলঙ্কা। রাত্নায়াকে সেঞ্চুরি ছোঁয়ার পরই আরাচ্চিগের (২৪ বলে ৩০) বিদায়ে থামে ৪২ বলে ৫৭ রানের জুটি। পরের ওভারে ভুল বোঝাবুঝিতে রান আউটে কাটা পড়েন দুনিথ ওয়েলালাগে।
এর পরের ওভারে ডসনকে প্রথম বলে চার মেরে দ্বিতীয় বলে ফেরেন রাত্নায়াকে, তাতে শ্রীলঙ্কার আশাও শেষ হয়ে যায়। একই ওভারে আসিথাকে বিদায় করে চতুর্থ উইকেটের দেখা পান ডসন। পরের ওভারে মালিঙ্গাকে বোল্ড করে ম্যাচের ইতি টেনে দেন কারান।
একই মাঠে আগামী শনিবার ফাইনালে পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ইংল্যান্ড: ৫০ ওভারে ৩৮৬/৫ (ব্যান্টন ৭৪, ডাকেট ১৬৭, ব্রুক ৪৪, জ্যাকস ৩০, কক্স ৪৩, কারান ২১*; আসিথা ১০-১-৬৩-২, মাদুশাঙ্কা ৯-০-৬৪-১, মালিঙ্গা ১০-০-১০১-১, ওয়েলালাগে ১০-০-৭৫-০, আরাচ্চিগে ২-০-১৮-০, লিয়ানাগে ২-০-১৫-০, শানাকা ৭-০-৪৯-১)
শ্রীলঙ্কা: ৪৫.১ ওভারে ৩৩১ (কামিন্দু মেন্ডিস ৪, আভিশকা ৪৮, কুসাল মেন্ডিস ৮৯, রাত্নায়াকে ১১৮, শানাকা ৪, লিয়ানাগে ২৭, আরাচ্চিগে ৩০, ওয়েলালাগে ১, মালিঙ্গা ১, আসিথা ১, মাদুশাঙ্কা ০*; অ্যাটকিনসন ৯-১-৬৩-০, বেকার ৯-০-৭৫-২, কারান ৭.১-১-৪৪-১, ডসন ১০-০-৪৯-৪, ক্রকোম্ব ৩-০-২৭-১, জ্যাকস ৩-০-৩৬-০, রুট ৪-০-৩৫-১)
ফল: ইংল্যান্ড ৫৫ রানে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: বেন ডাকেট
