রানের চূড়ায় উঠে টুর্নামেন্টের সেরা কোহলি
প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে ম্যান অব দা টুর্নামেন্টের পুরস্কার জিতলেন তিনি।
প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ফিফটি দিয়ে শুরু। শেষ ম্যাচে একই দলের বিপক্ষে আরেকটি ফিফটি। মাঝে ভিরাট কোহলি পঞ্চাশ ছুঁয়েছেন আরও সাতবার, যার মধ্যে তিনবার ছাড়িয়ে গেছেন শতরানের সীমানা। পুরো বিশ্বকাপে ব্যাট হাতে এভাবেই আলো ছড়িয়ে ম্যান অব দা টুর্নামেন্টের পুরস্কার জিতেছেন ভারতীয় তারকা।
কোহলির এই প্রাপ্তির আনন্দ যদিও ম্লান হয়ে গেছে। ফাইনালে যে হেরে গেছে তার দল!
প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে এক বিশ্বকাপে সাতশ রানের কীর্তি গড়ে কোহলি আসর শেষ করছেন ১১ ম্যাচে ৭৬৫ রান নিয়ে। ৯৫.৬২ গড় ও ৯০.৩১ স্ট্রাইক রেটে এই রান করার পথে তার ৯টি পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংসও এক বিশ্বকাপে কারও প্রথম। আগে সর্বোচ্চ ৭টি করে ছিল সাচিন টেন্ডুলকার ও সাকিব আল হাসানের।
এক বিশ্বকাপে টেন্ডুলকারের সর্বোচ্চ ৬৭৩ রানের রেকর্ড যেমন ভেঙে দিয়েছেন কোহলি, তেমনি টেন্ডুলকারের ৪৯ ওয়ানডে শতকের রেকর্ড ছাড়িয়ে শতকের অর্ধশতক ছুঁয়েছেন এই বিশ্বকাপেই।
আসর শুরু করেন তিনি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চাপের মুখে ৮৫ রানের ম্যাচ জেতানো ইনিংস দিয়ে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে রান তাড়ায় অপরাজিত থাকেন ৫৫ রানে। পাকিস্তানের বিপক্ষে অবশ্য থমকে যান ১৬ রানে। পরের ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে আবার উজ্জ্বল তিনি অপরাজিত শতক করে। টানা দ্বিতীয় শতক পাননি নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ৯৫ রানে আউট হওয়ায়।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিনি খুলতে পারেননি রানের খাতা। পরের ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শতক পাননি ১২ রানের জন্য। সেই আক্ষেপ ঘুচিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলেন অপরাজিত ১০১ রানের ইনিংস, ছুঁয়ে ফেলেন টেন্ডুলকারের ৪৯ শতকের রেকর্ড।
নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে তিনি থমকে যান ফিফটি পেরিয়েই। সেমি-ফাইনালে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেন আলো ঝলমলে ১১৭ রানের ইনিংস, গড়েন ওয়ানডেতে পঞ্চাশটি শতকের অনন্য কীর্তি। নিজের শৈশবের নায়ক টেন্ডুলকারকে ওয়াংখেড়েতে সাক্ষী রেখেই ওই ইনিংস খেলেন ৩৫ বছর বয়সী তারকা।
এবার ফাইনালে করলেন ৫৪। বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো জিতলেন টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার, কিন্তু দলের হারে পুরস্কারটি নিতে হলো তাকে হতাশামাখা মুখে।
বিশ্বকাপ ১৯৭৫ সাল থেকে শুরু হলেও ম্যান অব দা টুর্নামেন্টের পুরস্কার দেওয়া শুরু হয় ১৯৯২ আসর থেকে।
আগের টুর্নামেন্ট সেরা যারা:
১৯৯২: মার্টিন ক্রো (নিউ জিল্যান্ড)
১৯৯৬: সানাৎ জায়াসুরিয়া (শ্রীলঙ্কা)
১৯৯৯: ল্যান্স ক্লুজনার (দক্ষিণ আফ্রিকা)
২০০৩: সাচিন টেন্ডুলকার (ভারত)
২০০৭: গ্লেন ম্যাকগ্রা (অস্ট্রেলিয়া)
২০১১: ইউভরাজ সিং (ভারত)
২০১৫: মিচেল স্টার্ক (অস্ট্রেলিয়া)
২০১৯: কেন উইলিয়ামসন (নিউ জিল্যান্ড)
