নেদারল্যান্ডসকে প্রেরণা মেনে দক্ষিণ আফ্রিকা-বধের আশা সাকিবদের

নেদারল্যান্ডস পারলে বাংলাদেশও পারবে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারাতে, বিশ্বাস অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের।

আরিফুল ইসলাম রনিআরিফুল ইসলাম রনিমুম্বাই থেকেবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 23 Oct 2023, 05:39 PM
Updated : 23 Oct 2023, 05:39 PM

চট্টগ্রামে নেটে একবার বাঁহাতি পেস বোলিং করতে দেখা গিয়েছিল সাকিব আল হাসানকে। তার সেই রূপ কিছুটা ফিরে এলো মুম্বাইয়ে। অতটা বড় রান আপে না হলেও ওয়াংখেড়ের নেটে পেস বোলিংয়ের মতোই করলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। হয়তো পেশিতে একটু জোর খাটিয়ে দেখলেন, কোনো অস্বস্তি কাজ করে কি না। পরে রানিংও করলেন বেশ জোর দিয়ে। রানিং সেশন শেষে প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীনের দিকে তাকিয়ে আঙুল ইশারায় কিছু বোঝালেন তিনি। ধরে নেওয়া যেতে পারে, সব ঠিকঠাক।

অধিনায়কের খেলা নিয়ে সবুজ সঙ্কেত পেলেও বাংলাদেশের সামনে বিপদ সঙ্কেত কম নেই। এবারের বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকা যে ধরনের ব্যাটিং করছে, এই মাঠেই দুই দিন আগে যে তাণ্ডব তারা চালিয়েছে, ভীতি জাগানিয়া এক প্রতিপক্ষই বটে!

শ্রীলঙ্কা, অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের মতো প্রতিপক্ষকে ভাসিয়ে দিয়েছে রানের জোয়ারে। ওয়াংখেড়ের এই ব্যাটিং স্বর্গে ও ছোট সীমানার মাঠে বাংলাদেশের বোলিংও তাদের জন্য হয়ে উঠতে পারে উপাদেয় খাবার। তবে নানা শঙ্কার আড়ালেই সম্ভাবনার সূর্য হয়ে উঁকি দিচ্ছে নেদারল্যান্ডস!

এই দক্ষিণ আফ্রিকাকেই তো হারিয়েছে ডাচরা। ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে সাকিব মনে করিয়ে দিলেন সেটিই।

“বিশ্বকাপের মতো জায়গায় সবশেষ ম্যাচে জয় বা পরাজয় কোনো ব্যাপার নয়। নির্দিষ্ট দিনে ভালো খেলাটাই আসল। আমরা দেখেছি, দক্ষিণ আফ্রিকা শুরুতে উড়ছিল। পরে নেদারল্যান্ডসের কাছে হেরে গেছে। এরপর তারা ইংল্যান্ডের সঙ্গে দারুণ খেলেছে। এটির মানে হলো, এসব হয়েই থাকে ক্রিকেটে, বিশেষ করে বিশ্বকাপে। আমরা নিজেদের প্রত্যাশামতো তৈরি করতে চাই এবং সেরাটা খেলতে চাই। এরপর দেখা যাবে…।”

দুই দলের সবশেষ লড়াইগুলোর ফল বাংলাদেশের পক্ষে। গত বছর দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়ে ঐতিহাসিক সিরিজ জিতে ফিরেছে তারা। এই সিরিজের আগে সবশেষ লড়াইটি ছিল ২০১৯ বিশ্বকাপে। সেবারও হেরেছিল প্রোটিয়ারা। সবশেষ চার ওয়ানডের তিনটিই জিতেছে বাংলাদেশ।

তবে একই বাস্তবতা ছিল ভারতের সঙ্গেও। সবশেষ চার ম্যাচের তিনটিতে জিতে বিশ্বকাপে এসে সেভাবে লড়াই জমাতেই পারেনি বাংলাদেশ। বিশ্বকাপের মঞ্চটাই যে এমন। শক্তি-সামর্থ্য, সাম্প্রতিক ফর্ম আর ছন্দ মিলিয়ে তাই পরিষ্কার ফেভারিট হয়েই নামছে দক্ষিণ আফ্রিকা।

এইডেন মার্করামকে অবশ্য বারবার বাংলাদেশের বিপক্ষে বাজে পারফরম্যান্সের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার সংবাদকর্মীরা। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিনিধি হয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসা এই ব্যাটসম্যান সেই সম্মান ও সমীহ দেখালেন বাংলাদেশকে।

“বাংলাদেশের বিপক্ষে যখনই খেলি, অবশ্যই আমাদের জন্য অনেক বড় ম্যাচ। অতীতে আমরা তাদের বিপক্ষে খুব ভালো করতে পারিনি। এটিই আমাদেরকে বাড়তি প্রেরণা জোগাবে, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আমরা যেমন খেলেছি, তেমনই যেন খেলতে পারি। তার চেয়েও বড় ব্যাপার হলো, তাড়না ও খেলার মানও যেন একইরকম থাকে। আমরা সেদিকেই মনোযোগ দেব এবং সেসব যদি সামলে নিতে পারি, আশা করি আমাদের জন্য যথেষ্ট হবে।”

অসুস্থতার কারণে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের একটু আগে ছিটকে পড়েন টেম্বা বাভুমা। বাংলাদেশের বিপক্ষেও দক্ষিণ আফ্রিকার নিয়মিত অধিনায়কের খেলা নিশ্চিত নয়। বাংলাদেশ যেমন নিশ্চিতভাবেই পাচ্ছে না কাঁধের ব্যথা থেকে সেরে ওঠার প্রক্রিয়ায় থাকা পেসার তাসকিন আহমেদকে।

ম্যাচের আগে সবচেয়ে বেশি আলোচনা অবশ্য ওয়াংখেড়ের উইকেট ও মুম্বাইয়ের গরম নিয়ে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৩৯৯ রানের পাহাড় গড়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। এই মাঠে একমাত্র ৪০০ রানের যে ইনিংসটি আছে, সেটিও গড়েছিল তারাই (২০১৫ সালে ৪৩৮)। বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচেও উইকেট ব্যাটিং স্বর্গই থাকার কথা।

মুম্বাইয়ের আবহাওয়া অবশ্য এখন নরকসম। ‘অক্টোবর হিট’-এর উত্তাপে ক্রিকেটারদের শারীরিক সামর্থ্যের কঠিন পরীক্ষা হবে। সাকিব তো দুই দলের জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ দেখছেন এখানে এবং ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণেও এটা ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন।

“গত ম্যাচে ইংল্যান্ড-দক্ষিণ আফ্রিকা দুই দলই ভুগেছে। আমাদেরও কাজটা সহজ হবে না, যদিও আমরা গরমে খেলে অভ্যস্ত। তবে এখানে গরমটা একটু বেশিই। কন্ডিশন একটু কঠিন।”

“এখানে আর্দ্রতা এত বেশি এবং প্রচুর ঘাম যেহেতু হয়, শরীরে পানি স্বল্পতা চলে আসে এবং যতই পানি পান করুন, টায়ার্ড হয়েই পড়ছেন। এটাই মূল সমস্যা। যেটা থেকে ক্র্যাম্প হতে পারে, ক্লান্তিকর শট খেলা হতে পারে। এটা দুই দলকেই অনেক ভোগাবে এবং যারা এটা ভালোভাবে সামলাতে পারবে, তারা এগিয়ে থাকবে।”

দক্ষিণ আফ্রিকা এই গরমে একটি ম্যাচ খেলায় এগিয়ে থাকবে বটে। তবে সেই ম্যাচর ক্লান্তি কাটিয়ে কতটা তরতাজা তারা হতে পারল, এটিও একটি ব্যাপার। পুরোপুরি তরতাজা হতে না পারলে বাংলাদেশও ফায়দা পেতে পারে।

দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারানোর আরেকটি পথ অবশ্য অনেকেই দেখতে পারেন। রান তাড়া করতে নেমে সবশেষ ১৫ ম্যাচের ১০টিতেই তারা হেরেছে। এবারও বিশ্বকাপে আগে ব্যাট করে যে দল রানের প্লাবন বইয়ে দিয়েছে, তারাই নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ২৪৬ রান তাড়ায় ভেঙে পড়েছে!

সাকিবও তা জানেন এবং সংবাদ সম্মেলনে মজা করেই বললেন, “দোয়া করেন যেন টসটা জিততে পারি।” তবে টস জিতলেই তো শুধু হবে না। বড় ইনিংস খেলতে হবে ব্যাটসম্যানদের, রানের সৌধ তুলতে হবে দলের। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা তা পারছে কোথায়! সাকিব অবশ্য বড় ইনিংস খেলার জন্যও দোয়া চেয়ে রাখলেন সংবাদ সম্মেলনে।

তবে স্রেফ দোয়ায় তো হয় না, দাওয়া লাগে। সেটি করতে হবে সাকিবদেরই। সেমি-ফাইনাল খেলার স্বপ্ন এখনও অটুট আছে বলে এ দিনও জোর দিয়েই বললেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরে গেলে কণ্ঠের সেই জোর আর মনের বল কী থাকবে!