Published : 27 Feb 2026, 12:04 PM
ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়কের নামের শেষাংশের অর্থ ‘আশা।’ তিনি খেন বসতি গড়েছেন আশাতেই। টানা পাঁচ ম্যাচ জয়ের পর প্রথম হেরেছে তার দল। কিন্তু টুর্নামেন্টের ধরন ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাই এমন যে, সেই এক পরাজয়ই এখন দলকে নিয়ে গেছে অনিশ্চয়তার মোড়ে। সেমি-ফাইনালে খেলতে হলে জিততেই হবে সুপার এইটের শেষ ম্যাচটি। ভারতের বিপক্ষে সেই ম্যাচকে এখন ফাইনাল হিসেবে দেখছেন শেই হোপ। ক্যারিবিয়ান অধিনায়কের আশা, এই প্রথম ফাইনাল জয়ের পর সেমি-ফাইনালেও জিতে ফাইনালে খেলবে তার দল।
গ্রুপ পর্বে চার ম্যাচই জিতে পরে জিম্বাবুয়েকে উড়িয়ে সুপার এইট শুরু করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে পরের ম্যাচে উল্টো স্বাদ পেয়েছে তারা দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। আহমেদাবাদে বৃহস্পতিবার ১৭৬ রানের পুঁজি নিয়ে ক্যারিবিয়ানরা হেরে গেছে ৯ উইকেটে।
আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে, বোলিং ব্যর্থতায় হেরেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে খেলাটি যারা দেখেছেন, তাদের জানার কথা, রানও আসলে যথেষ্ট হয়নি।
যদিও একসময় এই ১৭৬ রানও ছিল ভাবনার সীমানার বাইরে। পাওয়ার প্লেতে ৪ উইকেট হারানো দল পরে ৮৩ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে বাজে অবস্থায় ছিল। সেখান থেকে দলকে উদ্ধার করেন জেসন হোল্ডার ও রোমারিও শেফার্য। অষ্টম উইকেটে ৫৭ বলে রেকর্ড ৮৯ রানের জুটি গড়েন দুই পেস বোলিং অলরাউন্ডার। ৩১ বলে ৪৯ রান করেন হোল্ডার, ৩৭ বলে অপরাজিত ৫২ শেফার্ড।
শেফার্ডের এই ইনিংস ৯ নম্বরে নেমে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে মাত্র তৃতীয় ফিফটির নজির, ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে প্রথম।
তবে ব্যাটিং স্বর্গ উইকেটে সেই স্কোর যে যথেষ্ট ছিল না, তা তো পরে প্রমাণিতই হয়েছে। ম্যাচের পর অধিনায়ক হোপ আঙুল তুললেন ব্যাটসম্যানদের দিকেই।
“এত ভালো উইকেটে যখন খেলা হয়, স্কোরবোর্ডে বড় রান থাকা জরুরি। কিন্তু পাওয়ার প্লেতে এত উইকেট হারিয়েই আমরা পেছনে পড়ে গেছি। খুবই ভালো উইকেট ছিল এবং ৪০-৫০ রানের ঘাটতি ছিল আমাদের।”
“পরের দিকের ব্যাটসম্যানদের প্রশংসা করতেই হবে আমাদের। ওদের কারণেই কিছুটা লড়াইয়ের সুযোগ পেয়েছি আমরা। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে পাওয়ার প্লেতে কিছু উকেট নিতে পারলে… কে জানে, হয়তো অন্যরকম হতেও পারত। বোলিংয়ে সেটি পারিনি আমরা। তবে যেখানে কৃতিত্ব প্রাপ্য, সেখানে দিতেই হবে। জেসন (হোল্ডার) ও শেপি (শেফার্ড) সত্যিই ভালো খেলে আমাদেরকে লড়াইয়ের রসদ দিয়েছিল কিছুটা।”
ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই পরাজয়ের পর দিনের অন্য ম্যাচে চেন্নাইয়ে জিম্বাবুয়েকে বড় ব্যবধানে হারায় ভারত। কলকাতায় রোববার ভারতীয়দের মুখোমুখ হবে ক্যারিবিয়ানরা। যে দল জিতবে, তারাই পা রাখবে শেষ চারে।
হোপের আশা, এই লড়াইয়ে জিতে আরও সামনে ছুটবে তার দল।
“সবকিছু খুব সহজে আসবে না। নিজেদের চ্যালেঞ্জগুলো জয়ের পথ খুঁজে নিতে হবে আমাদের। যেভাবে আমরা খেলছি… হ্যাঁ, একটি পরাজয় আসতেই পারে, কখনও কখনও টুর্নামেন্টের মূল সময়ের আগেই সেই পরাজয় চলে আসা ভালো… এখন আমরা জানি পরের ম্যাচ কতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং এটাও গুরুত্বপূর্ণ যে, আমরা যেন এই ম্যাচে নিজেদের মেলে ধরা নিশ্চিত করতে পারি।”
“এই ম্যাচটিকে ফাইনাল হিসেবে দেখতে হবে আমাদের, এটি প্রথম ফাইনাল এবং আশা করি, এরপর আরও দুটি ফাইনাল পারব।”