Published : 10 Feb 2026, 06:58 PM
মুহাম্মাদ রোহিদকে লং-অফ দিয়ে ছক্কায় উড়িয়ে ম্যাচের ইতি টেনে দিলেন টিম সাইফার্ট। শেষের মতো পুরো ইনিংস জুড়েই প্রতিপক্ষের বোলারদের ওপর ছড়ি ঘোরালেন তিনি ও ফিন অ্যালেন। তাদের রেকর্ড জুটিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে উড়িয়ে দিল নিউ জিল্যান্ড।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ‘ডি’ গ্রুপের ম্যাচে চেন্নাইয়ে মঙ্গলবার ১০ উইকেটে জিতেছে নিউ জিল্যান্ড। আরব আমিরাতের ১৭৪ রানের লক্ষ্য ২৮ বল বাকি থাকতে ছুঁয়ে ফেলে তারা।
২০ ওভারের বিশ্বকাপে এনিয়ে সপ্তমবার দেখা গেল ১০ উইকেটের জয়। তবে সবচেয়ে বেশি রান তাড়ায় কোনো উইকেট না হারিয়ে জয়ের কীর্তি গড়ল নিউ জিল্যান্ড। ২০২২ আসরে ভারতের বিপক্ষে ১৬৯ রানের লক্ষ্যে ১০ উইকেটে জিতেছিল ইংল্যান্ড।
সাইফার্ট ও অ্যালেনের ১৭৫ রানের অবিচ্ছিন্ন উদ্বোধনী জুটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে যেকোনো উইকেটে সর্বোচ্চ। আগের রেকর্ডটি ছিল জস বাটলার ও অ্যালেক্স হেলসের অবিচ্ছিন্ন ১৭০ রানের জুটি। ২০২২ সালে ভারতের বিপক্ষে দলকে ১০ উইকেটে জিতিয়েছিলেন তারা।
টি-টোয়েন্টিতে শুরুর জুটিতে সাইফার্ট ও অ্যালেনের ১৭৫ কিউইদের হয়ে সর্বোচ্চ। আর যেকোনো উইকেটে দ্বিতীয়। ২০২০ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তৃতীয় উইকেটে ডেভন কনওয়ে ও গ্লেন ফিলিপসের ১৮৪ রান রেকর্ড।
আসরের নিজের প্রথম ম্যাচে সবচেয়ে বেশি রান তাড়ার রেকর্ড গড়ে জিতেছিল নিউ জিল্যান্ড। ওই ম্যাচে পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংস খেলে সাইফার্ট এবার করেন ৮৯। তার ৪২ বলের ইনিংস সাজানো তিনটি ছক্কা ও ১২টি চারে। গত ম্যাচের মতো এবারও সেরার পুরস্কার জিতে নেন তিনি।
আফগানদের বিপক্ষে স্রেফ ১ রান করা অ্যালেন এদিন খেলেন ৫০ বলে ৮৪ রানের ইনিংস। পাঁচটি করে ছক্কা-চার মারেন তিনি।
প্রথম ইনিংসে ব্যাট হাতে আলো ছড়ান আরব আমিরাত অধিনায়ক মুহাম্মাদ ওয়াসিম ও আলিশান শারাফু। দ্বিতীয় উইকেটে ১০৭ রানের যুগলবন্দি গড়েন তারা। তিনটি ছক্কা ও চারটি চারে ৬৬ রানে অপরাজিত থাকেন ওয়াসিম। ৫৫ রান করে দুটি ছক্কা ও পাঁচটি চার মারেন শারাফু।
এমএ চিদাম্বারাম স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা আরব আমিরাত ওভারেই হারায় আরিয়ানশ শার্মাকে। ওয়াসিম ও শারাফুর শতরানের জুটিতে সেই ধাক্কা কাটিয়ে ওঠে তারা।
শুরু থেকেই দ্রুত রান বাড়ানোয় মনোযোগ দেন শারাফু। ম্যাট হেনরির ওভারে দুটি চার মারেন তিনি। ওয়াসিমের প্রথম বাউন্ডারি ছক্কা, জেকব ডাফিকে। তাদের ব্যাটে ৫০ রান নিয়ে পাওয়ার প্লে শেষ করে আরব আমিরাত।
লকি ফার্গুসনকে চার ও ছক্কা মারা শারাফু পরের ওভারে হেনরিকে ছক্কায় উড়িয়ে ৩৯ বলে ফিফটি স্পর্শ করেন। মিচেল স্যান্টনারের স্পিনে মার্ক চ্যাপম্যানের অসাধারণ ক্যাচে বিদায় নেন শারাফু।
পরের ওভারে হার্শিত কৌশিক বিদায় নেন। তবে এক প্রান্ত ধরে রাখেন ওয়াসিম। ৩৭ বলে ফিফটি স্পর্শ করেন তিনি। মায়াঙ্ক কুমার গ্লেন ফিলিপসকে চারের পর ছক্কায় ওড়ান। ফিলিপসের ওই ওভারেই একটি চার ও ছক্কা মারেন ওয়াসিমও।
শেষ দুই ওভারে তিন উইকেট হারিয়ে একটি করে চার ও ছক্কায় কেবল ১৭ রান নিতে পারে আরব আমিরাত।
লক্ষ্য তাড়ায় দ্বিতীয় ওভারে রোহিদকে একটি চার মারেন অ্যালেন, সাইফার্ট হাঁকান দুটি। জুনাইদ সিদ্দিকিকে দুই ছক্কা ওড়ান অ্যালেন, ওভারের শেষ দুই বলে দুটি চার মারেন সাইফার্ট।
পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে রোহিদকে তিনটি চার ও একটি ছক্কা হাঁকান সাইফার্ট। ৭৮ নিয়ে প্রথম ছয় ওভার শেষ করে কিউইরা।
পরের ওভারেই হায়দার আলিকে চার মেরে ২৩ বলে ফিফটিতে পা রাখেন সাইফার্ট। জুনাইদকে চার ও ছক্কা মারা অ্যালেনের পঞ্চাশ আসে ২৭ বলে।
দুইজনের ব্যাটে আনায়াস জয়ের পথে এগোতে থাকে নিউ জিল্যান্ড। ষোড়শ ওভারে রোহিদকে ওই ছক্কায় দলকে কাঙ্ক্ষিত ঠিকানায় পৌঁছে দেন সাইফার্ট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
সংযুক্ত আরব আমিরাত: ২০ ওভারে ১৭৩/৬ (আরিয়ানশ ৮, ওয়াসিম ৬৬*, শারাফু ৫৫, হার্শিত ২, মায়াঙ্ক ২১, সোহাইব ৭, আরফান ০; হেনরি ৪-০-৩৭-২, ডাফি ২-০-১৬-১, ফার্গুসন ৪-০-৩৫-১, স্যান্টনার ৪-০-২৩-১, রাভিন্দ্রা ৩-০-১৯-০, নিশান ১-০-৭-০, ফিলিপস ২-০-৩০-১)
নিউ জিল্যান্ড: ১৫.২ ওভারে ১৭৫/০ (সাইফার্ট ৮৯*, অ্যালেন ৮৪*; হায়দার ৪-০-২৭-০, রোহিদ ৩.২-০-৫১-০, জুনাইদ ৪-০-৪৭-০, পারাশার ১-০-১৪-০, আরফান ৩-০-৩৬-০)
ফল: নিউ জিল্যান্ড ১০ উইকেটে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: টিম সাইফার্ট।