Published : 08 Mar 2026, 03:46 PM
শেষ তিন ওভারে যখন ৪৫ রান প্রয়োজন ইংল্যান্ডের। ১৮তম ওভারে বল হাতে নিয়ে ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেন জাসপ্রিত বুমরাহ। টানা তিনটি নিখুঁত ইয়র্কারের পাশাপাশি দারুণ নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে স্রেফ ৬ রান খরচ করেন ভারতীয় পেসার। তার অসাধারণ বোলিংয়ে মন্ত্রমুগ্ধ জেমস অ্যান্ডারসন। বিরল প্রতিভার বুমরাহর চেয়ে ভালো কাউকে দেখেন না ইংলিশ কিংবদন্তি পেসার।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমি-ফাইনালে বয়ে যায় রানের বন্যা। মুম্বাইয়ে গত বৃহস্পতিবারের ওই লড়াইয়ে ভারতের ২৫৩ রান তাড়ায় ২৪৬ রান পর্যন্ত করতে পারেন ইংল্যান্ড। রোমাঞ্চ-উত্তেজনায় ঠাসা ম্যাচে ৭ রানের জয় নিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নেয় ভারত।
সেদিন বোলারদের ওপর ছড়ি ঘোরান ব্যাটসম্যানরা। ইংলিশ বোলারদের কেউ ওভারপ্রতি দশের নিচে রান দেননি। ভারতের সবাই ছিলেন খরুচে। পুরো ম্যাচে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল বুমরাহই।
৪ ওভারে ৩৩ রান দিয়ে ১ উইকেট নেন তিনি। রান উৎসবের ম্যাচে তিনি ছিলেন সবচেয়ে মিতব্যয়ী বোলার। দুই দল মিলিয়ে ম্যাচে রান উঠেছে ওভারপ্রতি প্রায় সাড়ে ১২ করে। বুমরাহ সেখানে রান দিয়েছেন ওভারপ্রতি ৮.২৫।
নিজের শেষ দুই ওভারে অসাধারণ ছিলেন বুমরাহ। ওই দুই ওভারে স্রেফ ১৪ রান দিয়ে ম্যাচের গতিপথই বদলে দেন তিনি। বিশেষ করে তার শেষ ওভারটা ছিল ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট। ওই ওভারের প্রথম তিন বলই ইয়র্কার করেন ডানহাতি পেসার। পরের দুটি করেন লো ফুলটস। শেষ ডেলিভারিটি ছিল ব্যাটসম্যানের পায়ের ওপর ফুল লেংথ।
এমন বোলিংয়ের পর স্তুতির জোয়ারে ভাসেন বুমরাহ। ফাইনালের আগেও তার সেদিনের পারফরম্যান্স নিয়ে হচ্ছে আলোচনা। বিবিসি পডকাস্টে যেমন বুমরাহর উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করলেন টেস্ট ইতিহাসের সফলতম পেসার অ্যান্ডারসন।
“বুমরাহর ব্যাপারটা হলো, তার দিকে তাকাই আর ভাবি, ওর থেকে শেখার কিছু আছে বলে মনে হয় না। মানে, সে একেবারেই অতিমানব। নারী ও পুরুষ মিলিয়ে কোনো সংস্করণেই বিশ্বে এমন একজন বোলার নেই যে কিনা টানা ছয়টি ডেলিভারিই ইয়র্কার করতে পারে এবং প্রতিবারই নিখুঁতভাবে সেটা করে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নিজের শেষ ওভার সে এমনকি একটি স্লোয়ার ইয়র্কারও করেছিল। প্রথম পাঁচটি দ্রুতগতির ইয়র্কার এবং শেষটি স্লোয়ার ইয়র্কার করেছিল সে। এগুলোকে মারার কোনো উপায়ই নেই।”
একমাত্র পেসার হিসেবে টেস্টে ৭০০ উইকেট (৭০৪) নেওয়া অ্যান্ডারসনের মতে, বুমরাহ শেষ ওভারে করার কিছুই ছিল না জেকব বেথেল ও স্যাম কারানের। তাই ছয়টি রান ওভারটি থেকে বের করতে পারাকেই সাফল্য হিসেবে দেখছেন তিনি।
“তারা (বেথেল ও কারান) আসলে বেশ ভালো খেলেছে, কারণ তারা জানত যে ওই ছয় বল থেকে বাউন্ডারি পাওয়া যাবে না কিংবা বুমরাহর বলে বাউন্ডারি মারা অনেক কঠিন।”
“তাই তারা অন্য প্রান্তের দুই বোলারের বিপক্ষে সুযোগ নিতে চেয়েছিল। শেষ ওভারে দুবে বোলিং করতে এলে জফ্রা আর্চার তাকে মেরে ২২ রান নিয়েছিল। জানি, ততক্ষণে ম্যাচ হাত থাকে ফসকে গেছে। কিন্তু দুবেও তখন ইয়র্কার করার চেষ্টা করছিল এবং ব্যর্থ হয়েছিল। তাই বলব, এটা খুবই চমৎকার একটি দক্ষতা। বিশেষ করে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে তার (বুমরাহ) চেয়ে ভালো কেউ নেই।”
ইতিহাস গড়ার দুয়ারে দাঁড়িয়ে ভারত। প্রথম দল হিসেবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখার সুযোগ তাদের সামনে। সেই লক্ষ্যে রোববার নিউ জিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে তারা। আহমেদাবাদে মাঠের লড়াই শুরু বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায়।