Published : 07 Mar 2026, 04:48 PM
টানা ব্যর্থতার পরও যার কাঁধ থেকে আস্থার হাত সরায়নি ভারত, প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারলেও যাকে একাদশে রেখেছে একের পর এক ম্যাচে, সেই আভিশেক শার্মাকে ফাইনালে এসে বাদ দেবে তারা? এমন বদলে সমস্যার কিছুই দেখেন না মোহাম্মাদ কাইফ। শিরোপা নির্ধারণী লড়াইয়ে বাঁহাতি ওপেনারের বদলে রিঙ্কু সিংকে খেলাতে বললেন ভারতের সাবেক ব্যাটসম্যান।
আহমেদাবাদে রোববার বিশ্বকাপের ফাইনালে নিউ জিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে ভারত।
টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর ব্যাটসম্যান আভিশেক এই সংস্করণের বিশ্বকাপে নিজের সামর্থ্যের কিছুই দেখাতে পারেননি। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে তাকে নিয়ে যে প্রত্যাশা ছিল, আসরে প্রথম তিন ইনিংসেই শূন্যতে ফিরে সেটা গুঁড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।
গ্রুপ পর্ব শেষে সুপার এইটে এসে প্রথম রানের দেখা পান আভিশেক। সেটাও খুব ইনিংস ছিল না, স্রেফ ১৫ রানের। এরপর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ফিফটি করে ছন্দে ফেরার আভাস দেন তিনি। কিন্তু পরের দুই ম্যাচে করতে পারেন কেবল ৯ ও ১০ রান।
বিশ্বকাপে নিজের অভিষেক আসরে এখন পর্যন্ত ৭ ইনিংস খেলে স্রেফ ৮৯ রান করতে পেরেছেন আভিশেক। ব্যর্থতার বলয়ে বন্দি এই ব্যাটসম্যানকে ফাইনালের একাদশে রাখা নিয়ে উঠতে শুরু করেছে প্রশ্ন। সাবেকদের অনেকেই আভিশেকের পাশে থাকলেও কাইফ বলছেন বিরতি দেওয়ার কথা।
সবশেষ তিন ম্যাচে একাদশে কোনো পরিবর্তন আনেনি ভারত। ফাইনালে এসে সেখানে বদল আনবে কিনা তারা, সেটা সময়ই বলবে। তবে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে এসব পরিবর্তন কাজে লাগার উদাহরণও দিয়েছেন কাইফ নিজের ইউটিউব চ্যানেলে আলাপকালে।
“আভিশেক শার্মাকে বিরতি দিতে পারে ভারত। সে অনেক ম্যাচ খেলে ফেলেছে। পরিবর্তনে কোনো ক্ষতি হয় না। সংক্ষিপ্ত সংস্করণে বদল আনা যায়। ব্র্যান্ডন কিং ফর্মে না থাকায় ভারতের বিপক্ষে রোস্টন চেইস ওপেন করেছিল। কিংকে তারা পাঁচ-ছয় ম্যাচ খেলিয়েছে, কিন্তু বড় ম্যাচে এসে তাকে বাইরে রেখেছে। যেভাবে সাঞ্জুকে আনা হয়েছে এবং সে দারুণ খেলেছে, সেই পরিবর্তনটা দলের পক্ষে কাজ করেছে, এমন বদলে আমি বিশ্বাসী।”
“ভারতের পরীক্ষিত ক্রিকেটার আছে। রিঙ্কু সিং সব জায়গায় রান করে, টেস্ট, রাঞ্জি ট্রফি কিংবা আইপিএল, সেখানেই হোক। কুলদিপ ইয়াদাভ ও মোহাম্মেদ সিরাজও সব জায়গায় উইকেট নিতে পারে। আভিশেককের জায়গায় খেলানোর জন্য ডাগআউটে তাকালে সেখানে রিঙ্কু সিংকে দেখতে পাবেন। তাকে দলে আনুন। একজন ভুগছে, আরেকজন ভালো করা সত্ত্বেও বাইরে বসে আছে।”
ভারতীয় ক্রিকেটে এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে সাঞ্জু স্যামসনকে নিয়ে। ফর্মহীনতায় গ্রুপ পর্বে স্রেফ এক ম্যাচে সুযোগ পাওয়া কিপার-ব্যাটসম্যান সুপার এইটে নিজেকে মেলে ধরেছেন তিনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাঁচা-মরার ম্যাচে অপরাজিত ৯৭ রান করে দলকে জিতিয়েছেন। আর সেমি-ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গুঁড়িয়ে করেছেন ৮৯ রান।
স্যামসনের মতো আভিশেকও ঘুরে দাঁড়াবে, এমন আলোচনাও হচ্ছে ভারতীয় ক্রিকেটে। তবে এই তুলনা ভালো লাগছে না কাইফের। তার মতে, এই দুইজনের মধ্যে ব্যবধান অনেক বড়।
“আভিশেক শার্মা ও সাঞ্জু স্যামসনের মধ্যে সবচেয়ে বড় পার্থক্য হলো, আইসিসি টুর্নামেন্টে আভিশেক এখনও নতুন। আইসিসির প্রতিযোগিতা বাদ দিলে তার রেকর্ড দুর্দান্ত। কিন্তু বিশ্বকাপের মতো আইসিসি টুর্নামেন্টে খেলার অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ আলাদা।”
“টি-টোয়েন্টি আট হাজারের বেশি রান করেছে সাঞ্জু। রান সংগ্রাহক কিংবা ছক্কা মারার সামর্থ্যের কথা বললে, আইপিএলের শীর্ষ দশ জনের মধ্যে তার নাম আসে। সে ইতোমধ্যেই একজন প্রতিষ্ঠিত ক্রিকেটার। আভিশেক শার্মা এখনও তরুণ এবং নিজের খেলা নিয়ে কাজ করছে। সে এখনও পুরোপুরি পরিণত ক্রিকেটার নয়। তাকে সাঞ্জুর সঙ্গে তুলনা করবেন না। সাঞ্জু অনেক আগেই পরিণত হয়ে গেছে, ১১ বছর আগে ভারতের হয়ে তার আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়েছে।”