Published : 15 Jul 2026, 01:28 PM
পরিবেশ রক্ষায় শিশুদের প্রতিবছর একটি করে গাছ লাগানোর এবং পরিচর্যার অনুরোধ করেছেন প্রধামন্ত্রী তারেক রহমান।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলনকেন্দ্রে বুধবার দেশব্যাপী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে এ অনুরোধ জানিয়েছেন।
পাশাপাশি প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের ‘সবুজ বিদ্যালয়’ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন তিনি। দেশের ৬০টি জেলার শিক্ষার্থীরা এই সবুজ বিদ্যালয় কর্মসূচিতে অংশ নেন।
তারেক রহমান বলেন, “ছোট্ট বন্ধুরা, তোমরা চেষ্টা করবে প্রতি বছর একটি করে গাছ রোপণ করতে। সেটি তোমাদের স্কুলে হোক বা বাসার আশপাশে। যেখানে মনে করবে সেখানেই একটি করে গাছ রোপণ করবে।
“গাছটি কি পরিমাণ অক্সিজেন উৎপাদন করে, ওই গাছটি মানুষের কী কী উপকারে আসে এই বিষয়গুলো তোমরা ইন্টারনেট ঘেটে বিভিন্নভাবে রিসার্চ করবে। ঠিক আছে বন্ধুরা।“

এর মধ্য দিয়ে সারাদেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একযোগে প্রায় ২ লাখ চারা লাগানো হচ্ছে।
গাছের উপকারিতা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, “এভাবে প্রতি বছর তোমরা একটি করে গাছ সম্পর্কে নতুন কিছু জানতে পারবে। স্কুলে লাগানো গাছ বড় হলে সেটি তোমাদের ছায়া দেবে। ক্লান্ত হলে তোমরা সেই গাছের নিচে বিশ্রাম নিতে পারবে।
“একইভাবে বাসায় যদি গাছ রোপণ করো, গাছটা যখন বড় হবে, সুন্দর বাতাস বইবে। ঘরে বসে তুমি বাতাস উপভোগ করতে পারবে। আবার পরিবেশটা অনেক ঠাণ্ডা হবে।”
এই দিনটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজ একটি স্মরণীয় দিন। আজ আমরা সবাই মিলে বাংলাদেশের মাটিতে একসঙ্গে অনেকগুলো গাছ রোপণ করলাম।“
এর আগে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্টল ঘুরে ঘুরে দেখেন প্রধানমন্ত্রী। সে সময় প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে ছিলেন, শিক্ষামন্ত্রী আনহ এহছানুল হক মিলন ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

স্টলগুলোয় ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা হাতে আঁকা ছবি, যার যার এলাকার ঐতিহ্য তুলে ধরা কাগজের তৈরি হস্ত শিল্প দেখা গেছে। এছাড়া ‘স্কুল ফিডিং’, ‘আনন্দ শিক্ষা’, ‘ডিজিটাল শিক্ষা’, ‘ফাউন্ডেশন লার্নিং’সহ প্রাথমিক শিক্ষার নানা কার্য্ক্রম উপস্থাপন করা হয়।
স্টল পরিদর্শনের সময় প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথাবার্তা বলেন প্রধানমন্ত্রী, তাদের সঙ্গে ছবিও তোলেন।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আসসালামু আলাইকুম, কেমন আছ তোমরা?”
স্টলে বিভিন্ন হস্ত শিল্প দেখে তিনি বলেন, “এসব কি তোমরা বানিয়েছো ?”
শিক্ষার্থীরা সবাই বলে উঠে, ‘জি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী’।
প্রধানমন্ত্রী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ‘ধন্যবাদ’ জানান এ সময়।

স্টলগুলোয় উপস্থিত থাকা শিক্ষকরা তাদের স্কুলের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি এবং তাদের জন্য খোলাধূলার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী জানতে চান, শিক্ষার্থীরা কি কি খেলে? শিক্ষকরা তখন ‘আনন্দ শিক্ষা’ ও ডিজিটাল শিক্ষা’ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন।
‘টিফিনের টাকা জমিয়ে সাহায্য করি’
একটি স্টলের এক শিক্ষার্থীর ভাষ্য, “আমরা প্রতিদিন টিফিনের টাকা জমিয়ে যারা অস্বচ্ছল বন্ধুদের সাহায্য করি। তাদের সাথে সাথে নিয়ে আমরা টিফিন করি।”
এই সময়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তোমরা ভালো কাজ করছো।”

এই স্টলের শিক্ষার্থীরা তাদের স্কুলের পাঠ্যক্রম, কখন ক্লাস শুরু হয়, টিফিনের জন্য সময় কখন, কী কী তারা খেলে তা প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরে।
একটি খেলা নিয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের কাছ থেকে অবহিত হন প্রধানমন্ত্রী এবং তিনি বলেন, “গেইমটা তো চমৎকার।”
‘যেখানে ময়লা দেখবে, নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলে দেবে’
একটি স্টলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তোমরা বিদ্যালয়কে পরিচ্ছন্ন রাখবে। যেখানে ময়লা দেখবে তুলে নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলে দেবে। ঠিক আছে।”
‘প্রত্যেকে একটি করে গাছ লাগাবে’
হবিগঞ্জের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্টলে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের কুশল বিনিময় করে বলেন, “তোমরা সবাই ভালো আছো তো।”
এ সময় প্রধানমন্ত্রী কেমন আছেন, তা জানতে চায় শিক্ষার্থীরা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি ভালো আছি’।
স্টলের বিভিন্ন সামগ্রী দেখে তিনি বলেন, “এসব তোমরা বানিয়েছো? ভেরি গুড।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সবাই একটি করে গাছ লাগাবে। গাছের পরিচর্চা করবে। ঠিক আছে।”
শিক্ষার্থীরা সমস্বরে বলে উঠে ‘জি স্যার’।
‘শিশুদের পকেট পাঠাগার চমৎকার’
একটি স্টলে শিশুদের জন্য সাজিয়ে রাখা বই নজরে পড়ে প্রধানমন্ত্রীর।
একজন শিক্ষার্থী তাদের ‘পকেট লাইব্রেরির’ বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরে বলে, “এই লাইব্রেরিতে লেভেল করে স্যার শিশুদের বই সাজানো আছে। যে শিশুটির যে বই পড়তে চায় সেই সেই লেভেলে গিয়ে বইটি নেবে।”
এই সময়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তোমরা সুন্দর জিনিস সেট করেছো। এজন্য তোমাদের ধন্যবাদ।”
‘প্রধানমন্ত্রী কাছে শিশুদের আবদার’
স্টল পরিদর্শনের সময় শিক্ষার্থীদের আবদারও পূরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
একটি স্টলে শিক্ষার্থীদের আবদার ছিল, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি যদি একট টবে গাছের চারাটা রোপন করে দেন সেটা আমরা আমাদের স্কুল আঙিনায় লাগাবো স্মৃতি হিসেবে।”
সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'কোথায় তোমাদের টব ও গাছ'।
দ্রুত শিক্ষার্থীরা টব এনে গাছের চারাটা প্রধানমন্ত্রী হাতে দিলে, তিনি ওই টবে গাছ লাগিয়ে দেন।”
আরেকটি স্টলে শিক্ষার্থীরা ছবি তোলার আবদার করলে, প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কোনো অসুবিধা নেই’।
এই বলে প্রধানমন্ত্রী নিজেই স্টলের ভেতরে চলে যান এবং শিশুদের সাথে দাঁড়ান।