Published : 25 Feb 2026, 11:17 AM
হ্যারি ব্রুকের তখন ফিফটিও হয়নি। ধারাভাষ্যে সাবেক দুই ইংল্যান্ড অধিনায়ক নাসের হুসেইন ও মাইক আথারটন বারবার বলছিলেন, ‘এই সংস্করণে এটিই হওয়া উচিত ব্রুকের নিয়মিত ব্যাটিং পজিশন।’ টি-টোয়েন্টিতে তাকে তিন নম্বরে দেখতে চাইছিলেন অবশ্য অনেকেই। সেই সব আলোচনাকেই প্রাসঙ্গিক ও ধারণাগুলোকে সত্যি প্রমাণ করে তিন নম্বরে প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি উপহার দিলেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক।
কৌতূহল তাই জাগাই স্বাভাবিক, শেষ পর্যন্ত তিনে নামার সিদ্ধান্ত হলো কিভাবে? ব্রুক ম্যাচের পর জানালেন, সিদ্ধান্তটি নিয়েছেন কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালাম।
শুধু একটি সেঞ্চুরিই নয়, ব্রুকের ইনিংসটি ছিল স্পেশাল। পাল্লেকেলেতে মঙ্গলবার পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৬৫ রান তাড়ায় ক্রিজে যান তিনি ইনিংসের প্রথম বলেই ফিল সল্ট আউট হওয়ার পর। পাওয়ার প্লেতে বিদায় নেন জস বাটলার ও জেকব বেথেলও। পরে টম ব্যান্টন যখন আউট হন, অষ্টম ওভারে ইংল্যান্ডের রান ছিল ৪ উইকেটে ৫৮। কিন্তু ব্রুকের অপ্রতিরোধ্য ব্যাটে ছুটে দারুণ জয়ে সবার আগে সেমি-ফাইনাল নিশ্চিত করে ফেলে ইংলিশরা।
৬০ ম্যাচের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে প্রথমবার তিন নম্বরে নেমে ১০ চার ও ৪ ছক্কায় করেন তিনি ৫১ বলে ১০০।
বিশ্বকাপে কোনো অধিনায়কের প্রথম সেঞ্চুরি, টি-টোয়েন্টিতে কোনো ইংল্যান্ড অধিনায়কের প্রথম সেঞ্চুরিসহ একগাদা রেকর্ড গড়েন তিনি এই ইনিংসে।
ম্যাচের পর মাইক আথারটন তাকে জিজ্ঞেস করেন, তিনে নামার সিদ্ধান্ত কখন হলো এবং কে নিল। ব্রুক প্রকাশ্য করলেন আড়ালের আলোচনা।
“আজকে সকালে, বাজ (ম্যাককালাম) নিয়েছে সিদ্ধান্ত। এটির পেছনে মাস্টারমাইন্ড তিনিই। এটা কাজে নাও লাগতে পারত। তবে সৌভাগ্যবশত আজকে কাগে লেগেছে।”
“আমাদের চাওয়া ছিল, যতটা সম্ভব পাওয়ার প্লে আরেকটু ভালোভাবে কাজে লাগানো। সবাই জানে যে, আমি খেলাটাকে সামনে এগিয়ে নিতে ভালোবাসি এবং ক্রিজে গিয়ে প্রথম বল থেকেই তা করার পরিকল্পনা ছিল আমার। সৌভাগ্যবশত আজকে হয়ে গেছে এবং দলকে বেশ ভালো শুরু এনে দিতে পেরেছি।”
পাকিস্তানের বিপক্ষে এমনিতেও ব্রুকের রেকর্ড চোখধাঁধানো। তাদের বিপক্ষে ৬ টেস্ট খেলে ৪টি সেঞ্চুরি করেছেন তিনি, এর মধ্যে আছে ট্রিপল সেঞ্চুরিও। ওয়ানডে খেলেছেন স্রেফ একটি। টি-টোয়েন্টিতে আগের ১০ ম্যাচে গড় ছিল ৫৫.২, স্ট্রাইক রেট দেড়শর ওপর।
ব্রুক জানালেন, প্রিয় প্রতিপক্ষকে পেয়ে তিনে নামার পরিকল্পনার পালে আরও জোর হাওয়া লেগেছে।
“বাজ (ম্যাককালাম) আজকে সকালে এটিই বলছিলেন যে, ‘তিন নম্বরে খেললে কেমন হয়? পাকিস্তান তো তোমার দল!’ আমি বললাম, ‘ঠিক আছে, লেট’স ডু ইট।”
ব্রুকের নিজেরও অবশ্য মাথায় ছিল তিনে নামার ব্যাপারটি। এখন থেকে এই সংস্করণে এখানেই থিতু হতে চান তিনি।
“বেশ কিছুদিন ধরেই এটা ভাবছিলাম এবং ক্যারিয়ারের সামনের পথচলায়ও চালিয়ে যেতে চাই এটা। শুধু ইংল্যান্ডের হয়ে নয়, ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটেও। ওপরে নেমে চেষ্টা করতে চাই যত বেশি সম্ভব বল খেলার।”