Published : 27 Jun 2026, 05:20 AM
অনুশীলনের সময় শেই হোপ চোট না পেলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে আমির জাঙ্গুর হয়তো খেলাই হতো না। হুট করে পাওয়া সুযোগটা দারুণভাবে কাজে লাগালেন তিনি। দৃঢ়তাপূর্ণ ব্যাটিংয়ে দলকে নাজুক অবস্থা থেকে উদ্ধার করলেন ২৮ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান। ব্যাট হাতে চরম দুঃসময় কাটানোর আভাস দিয়ে তাকে সঙ্গ দিলেন অধিনায়ক রস্টন চেইস।
অ্যান্টিগা টেস্টে একপর্যায়ে ১৬৮ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেখান থেকে ষষ্ঠ উইকেটে জাঙ্গু ও ১০৩ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে এখন সুবিধাজনক অবস্থানে ক্যারিবিয়ানরা।
দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ২৭১ রান। আর কেবল ৩৭ রানে পিছিয়ে আছে তারা।
অভিষেকের দেড় বছর পর দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নেমে প্রথম ফিফটিতে ১৭৪ বলে ৭৪ রানে অপরাজিত আছেন জাঙ্গু।
নিজেকে প্রমাণ করার তাগিদে সাত নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক চেইস। নেতৃত্বের ১৭ ইনিংসে প্রথম ফিফটির হাতছানি তার সামনে। ১০৫ বলে ৪২ রানে অপরাজিত আছেন তিনি।
প্রথম দিন শেষ বিকেলে এক ওভার খেলে কোনো রান করতে পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শুক্রবার দ্বিতীয় দিন সকালে নতুন বল সামলে নিয়ে অর্ধশতকের উদ্বোধনী জুটি গড়েন জন ক্যাম্পবেল ও ব্র্যান্ডন কিং।
দিনের প্রথম ওভারে তিনটি চার হজম করে, হ্যামস্ট্রিংয়ের সমস্যায় একটু পরই মাঠ ছেড়ে যান পেসার লাহিরু কুমারা। বাকি দিনে আর ফেরেননি তিনি, শ্রীলঙ্কার জন্য যা ছিল বড় ধাক্কা।
দিনের প্রথম পানি পানের বিরতির কিছুক্ষণ পরই ভাঙে ৫৮ রানের শুরুর জুটি। মিলান রাত্নায়েকের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে শর্ট কাভারে ক্যাচ তুলে দেন কিং (৫২ বলে ৩১)।
প্রথম সেশনে আর কোনো উইকেট পড়েনি। ১ উইকেটে ৮৯ রান নিয়ে লাঞ্চ বিরতিতে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
দ্বিতীয় সেশনের শুরুতে দারুণ বোলিংয়ে চিত্র পাল্টে দেন শ্রীলঙ্কার বোলাররা। পরপর দুই ওভারে বিদায় নেন ক্যাম্পবেল (৬৪ বলে ৩৯) ও কাভেম হজ।
বাঁহাতি স্পিনার সোনাল দিনুশা ফুল লেংথ ডেলিভারিতে প্রলুব্ধ করেন ক্যাম্পবেলকে। বড় শট খেলার চেষ্টায় লং অনে ধরা পড়েন বাঁহাতি ওপেনার। রত্নায়েকেকে আলগা শটে বল স্টাম্পে টেনে আনেন হজ।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্কোর তখন ৩ উইকেটে ১০২ রান। সেখান থেকে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন জাঙ্গু ও জশুয়া দা সিলভা। সাবধানী ব্যাটিংয়ে এগিয়ে যান দুজন।
৫২ রানের জুটি ভাঙে জশুয়ার বাজে শটে। আসিথা ফার্নান্দোর অফ স্টাম্পের বাইরের বলে জায়গায় দাঁড়িয়ে শট খেলে কাভারে ক্যাচ তুলে দেন এই কিপার-ব্যাটসম্যান (৫৬ বলে ২০)।
আসিথা একটু পর শিকার ধরেন আরেকটি। জাস্টিন গ্রেভস অফ স্টাম্পের বাইরের বল খেলবেন নাকি ছেড়ে দেবেন, তা নিয়ে দ্বিধায় ছিলেন। শেষ পর্যন্ত তার ব্যাটের কানায় লেগে যাওয়া বল ঝাঁপিয়ে পড়ে এক হাতে গ্লাভসে জমান কিপার কুসাল মেন্ডিস।
১৬৮ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে চা বিরতিতে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তখন ভীষণ চাপে তারা। কঠিন এই পরিস্থিতিতেই জুটি বাঁধেন জাঙ্গু ও চেইস।
সেখান থেকে দিনের বাকি সময়ে আর কোনো বিপদ হতে দেননি তারা, কাটিয়ে দেন ৩৩.৫ ওভার। দ্বিতীয় নতুন বলেও এই জুটিতে চিড় ধরাতে পারেনি শ্রীলঙ্কার বোলাররা।
১১১ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন জাঙ্গু। তৃতীয় দিনে তার সামনে সেঞ্চুরির হাতছানি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
শ্রীলঙ্কা ১ম ইনিংস: ৩০৮
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ম ইনিংস: ৮৪ ওভারে ২৭১/৫ (আগের দিন ০/০) (ক্যাম্পবেল ৩৯, কিং ৩১, হজ ১৬, জাঙ্গু ৭৮*, জশুয়া ২০, গ্রেভস ৩, চেইস ৪২*; আসিথা ১৮-৭-২৫-২, কুমারা ১-০-৪-০, রাজিথা ১৭-২-৭৬-০, রাথ্নায়েকে ১৯-৫-৪৫-২, দিনুশা ২৪-১-৬৮-১, ধানাঞ্জায়া ৫-০-১৭-০)