Published : 07 Feb 2026, 04:09 PM
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক নয় বছর আগে। দেশের জার্সিতে খেলে ফেলেছেন ৮০ ম্যাচ। কিন্তু কখনও এই সংস্করণের বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাননি ফাহিম আশরাফ। প্রথমবারের মতো বৈশ্বিক আসরে খেলতে নেমে অসাধারণ ব্যাটিংয়ে মুহূর্তটা স্মরণীয় করে রাখলেন পাকিস্তানি অলরাউন্ডার।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে শনিবার নেদারল্যান্ডসকে ৩ উইকেটে হারায় পাকিস্তান। হারের চোখ রাঙানি এড়িয়ে এশিয়ার দলটিকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন ফাহিম। রান তাড়ায় তিনটি ছক্কা ও দুটি চারে ১১ বলে অপরাজিত ২৯ করেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার জিতে নেন তিনি।
বিশ্বকাপ অভিষেকেই ‘ম্যান অব দা ম্যাচ’ হলেন ফাহিম। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এর আগে একবারই এই পুরস্কার পেয়েছিলেন তিনি। সেটা অবশ্য বোলিং পারফরম্যান্স দিয়ে, ২০২১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে ১৭ রানে ৩ উইকেট নিয়ে।
এর আগে কখনো বিশ্বকাপে না খেলা ফাহিমকে ডাচদের বিপক্ষে এদিন বোলিংয়ে আনেননি পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আলি আগা। পরে দলের বিপর্যয়ে ব্যাট হাতে জ্বলে ওঠেন ৩২ বছর বয়সী ফাহিম।
১৪৮ রান তাড়ায় ষোড়শ ওভারের শেষ বলে যখন বিদায় নেন মোহাম্মদ নাওয়াজ, ক্রিজে যান ফাহিম। পরের বলেই ড্রেসিং রুমে ফেরেন শাদাব খান। ১১৪ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে তখন হারের শঙ্কায় পাকিস্তান। ২৩ বলে ৩৪ রান চাই তাদের।
পরের ১১ বলে ফাহিম ও শাহিন শাহ আফ্রিদি মিলে নিতে পারেন কেবল ৫ রান। তাতে শেষ দুই ওভারে সমীকরণ দাঁড়ায় ২৯ রানের। কঠিন সেই মুহূর্তে নিজেকে মেলে ধরেন ফাহিম। ১৯তম ওভারের প্রথম বলে ছক্কায় ওড়ান তিনি।
কিন্তু পরের বলে ফুলটসে টাইমিং করতে পারেননি ফাহিম। সহজ ক্যাচ পেয়েছিলেন মাক্স ও’ডাউড। কিন্তু বল মুঠোয় রাখতে পারেননি ডাচ ফিল্ডার। জীবন পেয়ে পরের চার বলে দুই ছক্কা ও এক চারে ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেন ফাহিম।
ম্যাচ জেতানো রানটিও আসে তার ব্যাট থেকে। বাস ডে লেডেকে চার মেরে দলকে দারুণ এক জয় এনে দেন তিনি।
ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ফাহিমকে জিজ্ঞাস করা হয়, স্নায়ু চাপে ভুগেছিলেন কিনা। ওই মুহূর্তে তার অনুভূতি ও আফ্রিদির সঙ্গে পরিকল্পনা কি ছিল, সেটা তুলে ধরেন তিনি।
“গত এক বছর ধরেই আমরা এই ধরনের ক্রিকেট খেলছি। হৃদস্পন্দন বাড়ছিল-কমছিল, এরকম পরিস্থিতিতে আগেও বহুবার পড়েছি, তাই আমরা এতে অভ্যস্ত।”
“শাহিনের (আফ্রিদি) সঙ্গে আমার কথা হচ্ছিল উইকেট বাঁচিয়ে খেলার বিষয়ে; আমরা জানতাম, সমীকরণ যা-ই হোক, এক ওভারেই তা মিলিয়ে নেওয়া সম্ভব। আমাদের লক্ষ্য থাকে যত দ্রুত সম্ভব ম্যাচ শেষ করা। তবে এমন মুহূর্তে নিজের স্নায়ু ধরে রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।”
আগামী মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের মুখোমুখি হবে পাকিস্তান।