Published : 07 Feb 2026, 07:22 PM
মন্থর শুরু করা ওয়েস্ট ইন্ডিজের রানের গতিতে দম দিলেন শিমরন হেটমায়ার। আগ্রাসী ফিফটিতে দলকে এনে দিলেন মাঝারি পুঁজি। এরপর বল হাতে আলো ছড়ালেন রোমারিও শেফার্ড। হ্যাটট্রিকের পাশাপাশি পাঁচ উইকেট নিয়ে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং গুঁড়িয়ে দিলেন তিনি। তাদের নৈপুণ্যে স্কটল্যান্ডকে অনায়াসে হারিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল ক্যারিবিয়ানরা।
কলকাতায় শনিবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের উদ্বোধনী দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে ৩৫ রানে জিতেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ১৮২ রান করে স্কটিশদের তারা গুটিয়ে দিয়েছে ১৪৭ রানে।
নবম ওভারে ক্রিজে গিয়ে ৩৬ বলে ছয়টি ছক্কা ও দুটি চারে ৬৪ রান করেন হেটমায়ার। সঙ্গে চোখধাঁধানো এক ক্যাচ ধরা এই ক্যারিবিয়ান জিতে নেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার। ওয়েস্ট ইন্ডিজের আর কেউ ৩৫ রানের বেশি করতে পারেননি।
ইনিংসটির পথে ২২ বলে পঞ্চাশ স্পর্শ করেন হেটমায়ার। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে যা দ্রুততম ফিফটি। ২০০৯ আসরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ক্রিস গেইলের করা ২৩ বলে ফিফটির রেকর্ডটি ভেঙে দেন তিনি।
ম্যাচের দ্বিতীয়ভাগে সব আলো কেড়ে নেন শেফার্ড। তিন ওভারে স্রেফ ২০ রান দিয়ে ৫ উইকেট নেন তিনি। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি তো বটেই, স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতেই প্রথমবার পাঁচ উইকেটের স্বাদ পেলেন এই ক্রিকেটার।
টি-টোয়েন্টির বৈশ্বিক আসরে পাঁচ উইকেট পাওয়া দ্বিতীয় ক্যারিবিয়ান শেফার্ড। গত আসরে উগান্ডার বিপক্ষে ১১ রানে পাঁচ শিকার ধরেছিলেন আকিল হোসেন।
গত বছর চট্টগ্রামে বাংলাদেশের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে হ্যাটট্রিক করেছিলেন শেফার্ড। এবার বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম বোলার হিসেবে তিন বলে তিন উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়লেন তিনি।
আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে টি-টোয়েন্টিতে একাধিক হ্যাটট্রিক করা চতুর্থ বোলার শেফার্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম।
নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ভারতে না যাওয়া বাংলাদেশের জায়গায় বিশ্বকাপে সুযোগ পায় স্কটল্যান্ড। ইডেন গার্ডেন্সে এদিন টস জিতে প্রতিপক্ষকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে শুরুটা ভালোই করে তারা। নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে প্রথম ১০ ওভারে ৬৬ রান দিয়ে তুলে নেয় ২ উইকেট।
ম্যাচের প্রথম বলে ব্যান্ডন ম্যাকমুলানকে চার মারেন ব্র্যান্ডন কিং। পরের তিন ওভারেও আসে একটি করে চার। পাওয়ার প্লের শেষ দুই ওভারে কোনো বাউন্ডারি পায়নি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রথম ৬ ওভার শেষে কেবল ৩৩ রান করতে পারে তারা।
সপ্তম ওভারের প্রথম তিন বলে সাফিয়ান শারিফকে একটি ছক্কা ও দুটি চার মেরে রানের চাকায় দম দেন কিং। আক্রমণে এসেই শেই হোপকে বোল্ড করে ৫৪ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন মাইকেল লিস্ক। পরের ওভারে বিদায় নেন এক ছক্কা ও চারটি চারে ৩৫ রান করা কিংও।
অলিভার ডেভিডসনকে ছক্কায় প্রথম বাউন্ডারির দেখা পান হেটমায়ার। পরে লিস্ককে তিনি ও রভম্যান পাওয়েল মারেন একটি করে ছক্কা। মার্ক ওয়াটের স্পিনে টানা দুটি ছক্কা হাঁকানো হেটমায়ার একটি করে চার ও ছক্কা মারেন শারিফকে।
ডেভিডসনকে ছক্কায় ফিফটি স্পর্শ করেন হেটমায়ার। এক ওভার পর পাওয়েল ফিরলে ভাঙে ম্যাচের সবচেয়ে বড় ৮১ রানের জুটি। ১৯তম ওভারে বিদায় নেন হেটমায়ার। আর শেষ ওভারে ফেরার আগে ১৩ বলে ২৬ রানে ক্যামিও খেলেন শেরফেন রাদারফোর্ড।
লক্ষ্য তাড়ায় পাওয়ার প্লের মধ্যে তিন উইকেট হারায় স্কটল্যান্ড। দ্বিতীয় ওভারেই তাদের শিবিরে আঘাত হানেন জেসন হোল্ডার। শেফার্ড বোল্ড করে দেন ম্যাকমুলেনকে। আর ফাইন লেগ বাউন্ডারিতে এক হাতে অসাধারণ ক্যাচে জর্জ মানজিকে ফেরান হেটমায়ার।
৩৭ রানে ৩ উইকেট হারানো দলকে টানেন অধিনায়ক রিচি বেরিংটন ও টম ব্রুস। তাদের জুটিতে আসে ৭৮ রান। ২ ছক্কা ও ৩টি চারে ২৪ বলে ৪২ রান করা বেরিংটনকে বিদায় করে জমে যাওয়া বন্ধন ভাঙেন হোল্ডার।
এরপরই বালির বাঁধের মতো ভেঙে পড়ে স্কটিশদের ব্যাটিং। পরের ওভারে গুডাকেশ মোটিকে সুইপ করে এলবিডব্লিউ হন ২ ছক্কা ও এক চারে ৩৫ রান করা ব্রুস।
সপ্তদশ ওভারে স্কটল্যান্ডের ব্যাটিংয়ে মূল ধসটা নামান শেফার্ড। ওভারের দ্বিতীয় বলে ম্যাথু ক্রস ধরা পড়েন পয়েন্টে। পরের ডেলিভারিতে লং-অনে ক্যাচ দেন লিস্ক। আর চতুর্থ বলে ডেভিডসনের স্টাম্প ভেঙে হ্যাটট্রিকের উল্লাসে মাতেন শেফার্ড। ওখানেই শেষ নয়, ওভারের শেষ ডেলিভারিতে শারিফকে বিদায় করেন তিনি।
১৯তম ওভারে ওয়াটকে ফিরিয়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন হোল্ডার। ম্যাচে ৩০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন অভিজ্ঞ পেসার। সঙ্গে পূর্ণ করে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি একশ উইকেটের মাইলফলক। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তিন সংস্করণেই একশ উইকেট নেওয়া ষষ্ঠ বোলার তিনি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ২০ ওভারে ১৮২/৫ (কিং ৩৫, হোপ ১৯, হেটমায়ার ৬৪, পাওয়েল ২৪, রাদারফোর্ড ২৬, শেফার্ড ৬*, ফোর্ড ১*; ম্যাকমুলেন ১-০-৭-০, কারি ৪-০-২৩-২, ওয়াট ৪-০-৩৮-০, শারিফ ৪-০-৪৬-১, ডেভিডসন ৩-০-২৩-১, লিস্ক ৪-০-৪২-১)
স্কটল্যান্ড: ১৮.৫ ওভারে ১৪৭ (মানজি ১৯, জোন্স ১, ম্যাকমুলেন ১৪, বেরিংটন ৪২, ব্রুস ৩৫, ক্রস ১১, ওয়াট ১৫, লিস্ক ০, ডেভিডসন ০, শারিফ ০, কারি ২*; ফোর্ড ২-০-১৫-০, হোল্ডার ৩.৫-০-৩০-৩, শেফার্ড ৩-০-২০-৫, শামার ৪-০-২৬-১, মোটি ৪-০-২৯-১, আকিল ২-০-২৬-০)
ফল: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩৫ রানে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: শিমরন হেটমায়ার।