Published : 28 Jun 2026, 03:23 PM
মিডল স্টাম্পে থাকা লেংথ ডেলিভারিতে হাঁটু গেড়ে পুলের মতো খেলে মিড উইকেটে ভাসিয়ে দিলেন নিখিল চোধুরি। সীমানায় ফিল্ডার ছিল ঠিক সেদিকেই। কিন্তু তিনি লাফিয়েও নাগাল পেলেন না। নিখিল ততক্ষণে দিগ্বিদিক ছুটতে শুরু করেছেন। ব্যাট ছুড়ে মারলেন শূন্যে, গ্লাভস খুলে উড়িয়ে দিলেন হাওয়ায়। ততক্ষণে সতীর্থরা দৌড়ে গিয়ে ঘিরে ধরেছেন তাকে, ছুটে গেছেন এমনকি দলের কর্ণধারও!
শেষ বলে ছক্কায় ম্যাচ জেতার রোমাঞ্চটাই ওরকম। উদযাপন তাই বাঁধনহারা। তবে ম্যাচটি যে শেষ বলে ছক্কার সমীকরণে গেল, সেটিও এক বিস্ময়। ওভার শুরুর সময়ও যে রান প্রয়োজন ছিল মাত্র ছয়! কিন্তু আকিল হোসেনের হ্যাটট্রিক নাটকীয়ভাবে জমিয়ে তোলে ম্যাচ। শেষ পর্যন্ত ক্যারিবিয়ান এই স্পিনারকে ছক্কা মেরেই প্রতিপক্ষের মুঠো থেকে বের করে নেন নিখিল।
মেজর লিগ ক্রিকেটের ম্যাচটিতে টেক্সাস সুপার কিংসকে ১ উইকেটে হারায় ওয়াশিংটন ফ্রিডম।
বোলিংয়ে ২ উইকেট নেওয়ার পর শেষের ওই ছক্কায় ১৯ বলে অপরাজিত ২৭ রান করে ম্যাচের সেরা নিখিল। কদিন আগে বাংলাদেশ সফরে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে অভিষেক হয় এই অলরাউন্ডারের।
ওকল্যান্ডে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা টেক্সাস ২০ ওভারে তোলে ১৮৫ রান। ওপেনিংয়ে সাইতেজা মুক্কামাল্লা ২৪ বলে করেন ৩৭, তিনে নেমে ২৪ বলে ৩৪ রাইলি রুশো। এরপর ৫ ছক্কায় ২০ বলে ৪৪ রানে অপরাজিত থাকেন ডনোভান ফেরেইরা, সমান বলে ৪ ছক্কায় ৪৩ ভিয়ান মুল্ডার।

রান তাড়ায় উদ্বোধী জুটিতেই দলকে অনেকটা এগিয়ে দেন মিচেল ওয়েন ও স্টিভেন স্মিথ। ৭.৫ ওভারে ৯১ রান তোলেন দুজন।
২১ বলে ৩০ করে আউট হন স্মিথ, ৩১ বলে ৭৭ করেন ওয়েন। পরের ব্যাটসম্যানরা কেউ বড় ইনিংস খেলতে না পারলেও জয়ের পথেই ছিল ওয়াশিংটন।
শেষ ওভারে প্রয়োজন পড়ে ছয় রানের, উইকেট বাকি চারটি। স্ট্রাইকে থাকা মার্কো ইয়ানসেন প্রথম বলটিতে খেলেন রিভার্স সুইপ। তবে সরাসরি ফিল্ডারের কাছে যাওয়ায় রান হয়নি।
পরের বলে অন সাইডে স্লগ করে ধরা তিনি ধরা পড়েন ডিপ স্কয়ার লেগে। নতুন ব্যাটসম্যান আমিলা আপোন্সো গিয়েও প্রায় একইভাবে স্লগ করে এবং ডিপ স্কয়ার লেগেই ক্যাচ হন।
হ্যাটট্রিক ডেলভারিতে জোরের ওপর বল করেন আকিল। লেগ সাইডে সরে গায়ের জোরে হাঁকান ব্যাটসম্যান আসিফ মেহমুদ। ব্যাটে-বলে হয়নি। চোখের পলকে স্টাম্প ভেঙে দেন কিপার সাইতেজা। টিভি রিপ্লে দেখে আউট দেন আম্পায়ার।
টি-টোয়েন্টিতে আকিলের দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক এটি। আগেরটি করেছিলেন ২০২৪ পিএসএলে।
স্ট্রাইকে তখন শেষ ব্যাটসম্যান। দুই বলে প্রয়োজন ছয় রান। ১১ নম্বর ব্যাটসম্যান লকি ফার্গুসনও বলে ব্যাট ছোঁয়াতে পারেননি। তবে পায়ে লাগার পর পড়িমরি করে একটি রান নিতে পারেন।
শেষ বলে প্রয়োজন হয় ৫ রানের। নিখিল মেরে দেন ছক্কা।
নিখিলের জন্ম, বেড়ে ওঠা ও ক্রিকেট খেলা, সবই ভারতে। ২০২০ সালে কোভিডের সময় অস্ট্রেলিয়া ঘুরতে গিয়ে আটকা পড়েছিলেন নিখিল। পরে সেখানেই তিনি থিতু হন এবং ক্রিকেট খেলতে শুরু করেন। বিগ ব্যাশে দারুণ খেলে এখন তিনি অস্ট্রেলিয়া জাতীয় দলের ক্রিকেটার।
বিগ ব্যাশের বাইরে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে প্রথম ম্যাচটিই স্মরণীয় করে রাখলেন তিনি।