Published : 28 Jun 2026, 09:06 PM
নাইটক্লাব কাণ্ড পেছনে ফেলে, সতীর্থদের কাছে ক্ষমা চেয়ে অধিনায়ক হিসেবেই ট্রেন্ট ব্রিজ টেস্টে খেলতে নেমেছেন বেন স্টোকস। ম্যাচের তৃতীয় দিন পর্যন্তও সবকিছু মনে হচ্ছিল স্বাভাবিক। এর মাঝে হুট করেই এলো ইংলিশ অলরাউন্ডারের অবসরের ঘোষণা।
নটিংহ্যামে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে চলমান সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় টেস্ট দিয়ে ১৫ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানছেন স্টোকস। একই সঙ্গে শেষ হচ্ছে ইংল্যান্ডের টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে তার চার বছরের অধ্যায়ও।
চতুর্থ দিন প্রথম সেশনের পর ড্রেসিংরুমে অবসরের ঘোষণাটি দেওয়ার সময় বেশ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন ৩৫ বছর বয়সী স্টোকস। কথা বলার সময় তার গলা ধরে আসছিল। সতীর্থদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “মাঠে যাও এবং আগামী দুই দিন নিজেদের সবকিছু উজাড় করে দাও।”
স্টোকসের ঘোষণা শেষে ইংল্যান্ডের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফরা দাঁড়িয়ে করতালির মাধ্যমে তাকে সম্মান জানায়।
আকস্মিকভাবে কেন অবসর নিচ্ছেন সেটা জানাননি স্টোকস। নিজের মতো সবাইকে দল অন্তপ্রাণ হতে বলেছেন তিনি।
“কারণ জানার জন্য অপেক্ষা করা যাবে। তবে, দলের জন্য, তোমাদের জন্য এবং আগের মানুষগুলোর জন্য নিজেকে উজাড় করে খেলেছি। আর মাত্র একবার আমি সেই লড়াই করব। আমার শুধুমাত্র একটা অনুরোধ, সবাই যেন একই ভাবে উজাড় করে দেয়।”
শৃঙ্খলাজনিত কারণে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের দল থেকে বাদ পড়েছিলেন স্টোকস। লর্ডসে প্রথম টেস্টের পর নাইটক্লাবে গিয়ে মারামারিতে জড়িয়েছিলেন তিনি ও গাস অ্যাটকিনসন। ওই ঘটনার পর ইসিবি ব্যাপারটি যেভাবে সামলেছে, তাতে বিরক্ত হয়ে স্টোকস অবসর নিয়ে ফেলতে পারেন বলেও গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছিল। এমনও খবর প্রকাশিত হয়েছিল যে, অনির্দিষ্টকালের জন্য খেলা থেকে বিরতি নেবেন তিনি। তবে তখন সেসবের কিছুই হয়নি।
তদন্তের পর স্টোকস ও অ্যাটকিনসনকে সতর্ক করে ছেড়ে দেয় ইসিবি। পরে সিরিজের শেষ টেস্টের দলেও ফেরানো হয় তাদের। কিন্তু সবাইকে অবকা করে ম্যাচের মাঝপথে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলেন স্টোকস!
বিদায়ী বার্তায় তার জন্য না খেলে, পুরো দলের জন্য মাঠে সেরাটা দিয়ে খেলার আহবান জানান অধিনায়ক।
“আমাদের আরও কঠোর পরিশ্রম করা বাকি আছে। ফলাফল যাই হোক, একটা জিনিসই চাই- যখন মাঠ থেকে বের হবো, তখন শুধু জানতে চাই এই দলটা শেষ দুই দিনে নিজেদের সবটুকু উজাড় করে দিয়েছিল।”
“সবার কাছে একটা জিনিসই চাই, সবাই যেন নিজেদের সর্বস্ব উজাড় করে দেয়। স্বার্থপরের মতো আমার জন্য না, এই দলের জন্য।”
২০১১ সালে এক মাসের ব্যবধানে ইংল্যান্ডের জার্সিতে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি অভিষেক হয়ে স্টোকসের। দুই সংস্করণেই দেশের বিশ্বকাপ জয়ের পথে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি। পাশাপাশি অ্যাশেজ ও টেস্টে বেশ কিছু সাফল্যও এনে দিয়েছেন। ইসিবি চেয়ারম্যান রিচার্ড টম্পসন বলেন, ইংলিশ ক্রিকেটের গ্রেটদের একজন হিসেবেই বিদায় নিচ্ছেন স্টোকস।
“বেন স্টোকস ইংল্যান্ড ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়দের একজন হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নিচ্ছেন। নিজের প্রজন্মের প্রভাবশালী খেলোয়াড়দের একজন হিসেবেও।”
স্টোকসের এই সিদ্ধান্ত ইংল্যান্ড টেস্ট দলকে এক গভীর সংকটের ফেলে দিল। এই সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে নামার আগে নিজেদের শেষ নয়টি টেস্টের মাত্র দুটিতে জিতেছিল তারা। ২০১২ সালের পর ঘরের মাঠে তিন বা ততোধিক টেস্টের সিরিজে প্রথম পরাজয় এড়াতে নটিংহ্যামে চতুর্থ ইনিংসে তাদের সাড়ে তিনশর বেশি রান তাড়া করতে হবে।
ইংল্যান্ডের হয়ে ১২২ টেস্ট, ১১৪ ওয়ানডে ও ৪৩ টি-টোয়েন্টি খেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলছেন স্টোকস। টেস্টে ১৪ সেঞ্চুরি ও ৩৭ ফিফটিতে এখন পর্যন্ত ৭ হাজার ২৪৩ রান করেছেন তিনি। পেস বোলিংয়ে উইকেট নিয়েছেন ২৫২টি।
২০১৯ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপ জেতা স্টোকস এই সংস্করণে পাঁচ সেঞ্চুরি ও ২৪ ফিফটিতে করেছেন ৩ হাজার ৪৬৩ রান। শিকার ধরেছেন ৭৪টি। আর ২০২২ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতা এই ক্রিকেটার দেশের জার্সিতে এই সংস্করণে রান করেছেন ৫৮৫, উইকেট নিয়েছেন ২৬টি।