Published : 29 Jun 2026, 07:34 PM
ম্যাচের ফল একরকম নিশ্চিত হয়ে যায় আগের দিনই। শেষ দিনে কোনো সম্ভাবনাই জাগাতে পারল না ইংল্যান্ড। বিশাল জয়ে সিরিজ নিজেদের করে নিল নিউ জিল্যান্ড।
ট্রেন্ট ব্রিজ টেস্টে কিউইদের জয় ১৬০ রানে।
নিউ জিল্যান্ড এই সিরিজ শুরু করেছিল হার দিয়ে। লর্ডস টেস্টে ওই হারের পর আচমকাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলে দেন নিউ জিল্যান্ডের সর্বকালের সফলতম ব্যাটসম্যান কেন উইলিয়ামসন। চোট পেয়ে তৃতীয় টেস্ট থেকে ছিটকে পড়েন ম্যাট হেনরি ও গ্লেন ফিলিপস। এই ম্যাচের মাঝপথে কনকাশনের কারণে ছিটকে যান ব্লেয়ার টিকনারও।
এত সব ধাক্কা সামলে নিয়ে সেই নিউ জিল্যান্ড দলই সিরিজ জিতল ২-১ ব্যবধানে। ইংল্যান্ডের মাটিতে পিছিয়ে থেকেও তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ জেতা প্রথম দল তারাই।
নিউ জিল্যান্ডের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ছয় সিরিজের পাঁচটিতেই জিতলেন টম ল্যাথাম। যার মধ্যে আছে ২০২৪ সালে ভারতকে তাদের মাটিতে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশড করার ঐতিহাসিক সাফল্যও।
আর ইংল্যান্ড ২০১২ সালের পর এই প্রথম ঘরের মাঠে তিন বা এর বেশি ম্যাচের কোনো টেস্ট সিরিজ হারের তেতো স্বাদ পেল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বেন স্টোকসের শেষটা হলো বিষাদময়য়।
চতুর্থ ইনিংসে ৩৭৩ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ১১৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলে ইংল্যান্ড। পঞ্চম দিনের লাঞ্চ বিরতির পরপরই ২১২ রানে গুটিয়ে যায় স্বাগতিকরা।
৪ উইকেটে ১০৩ রান নিয়ে সোমবারের খেলা শুরু করে ইংল্যান্ড। তাদের লড়াইয়ের সামান্য সম্ভাবনাটুকু নিভে যায় দিনের চতুর্থ ওভারেই। ন্যাথান স্মিথের অফ স্টাম্পের বাইরের ব্যাক অব লেংথ ডেলিভারিতে কিপারের গ্লাভসে ধরা পড়েন এমিলিও গে। তিন বল পর হেনরি নিকোলসের দুর্দান্ত থ্রোয়ে রান আউট হন জো রুট।
৬ উইকেটে ১১৬ রানের ধ্বংসস্তূপ থেকে ৭৫ রানের জুটিতে ইংল্যান্ডের মান বাঁচান জেমি স্মিথ ও গাস অ্যাটকিনসন। লাঞ্চের একটু আগে বাঁহাতি স্পিনার মিচেল স্যান্টনারের বলে অ্যাটকিনসন (৭০ বলে ১৯) এলবিডব্লিউ হলে থামে জুটি।
বিরতির পরপরই আলগা শটে ফেরেন জফ্রা আর্চার। স্যান্টনারের সরাসরি থ্রোয়ে রান আউট হন জশ টাং। এক প্রান্ত ধরে রেখে ফিফটি করা স্মিথ (৯১ বলে ৬০) শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হন লং-অফে ক্যাচ।
প্রথম টেস্টে জয়ের পর নাইটক্লাব বিতর্কের জেরে সতীর্থদের কাছে ক্ষমা চেয়ে অধিনায়ক হিসেবেই ট্রেন্ট ব্রিজে খেলতে নেমেছিলেন স্টোকস। কিন্তু ম্যাচের চতুর্থ দিন হুট করেই অবসরের ঘোষণা দিয়ে দেন অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার। হার দিয়ে সমাপ্তি ঘটল তার দেড় দশকের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
নিউ জিল্যান্ড ১ম ইনিংস: ৪৩৮
ইংল্যান্ড ১ম ইনিংস: ৩৫৪
নিউ জিল্যান্ড ২য় ইনিংস: ৯৪ ওভারে ২৮৮/৯ (ডি.)
ইংল্যান্ড ২য় ইনিংস: (লক্ষ্য ৩৭৩) ৫১.২ ওভারে ২১২ (আগের দিন ১০৩/৪) (রুট ১৮, গে ১০, স্মিথ ৬০, অ্যাটকিনসন ১৯, আর্চার ২, টাং ২, বাশির ০*; স্মিথ ১৬-৪-৬৪-২, ও’রোক ৩.৫-০-১৬-০, ফোকস ১১.১-২-৫২-৩, সিয়ার্স ৬-২-১২-১, স্যান্টনার ১৪.২-১-৫৪-২)
ফল: নিউ জিল্যান্ড ১৬০ রানে জয়ী
সিরিজ: ৩ ম্যাচের সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জয়ী নিউ জিল্যান্ড
ম্যান অব দা ম্যাচ: ড্যারিল মিচেল
ম্যান অব দা সিরিজ: জফ্রা আর্চার (ইংল্যান্ড), ন্যাথান স্মিথ (নিউ জিল্যান্ড)