Published : 29 Jun 2026, 06:42 PM
অলিম্পিকসে ক্রিকেটের ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনের আসরে দলগুলোর যোগ্যতা অর্জনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) ও আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (আইওসি)। এর মধ্যে আছে প্রথমবার অনুষ্ঠেয় আইসিসি অলিম্পিক কোয়ালিফায়ার।
লস অ্যাঞ্জেলসে ২০২৮ আসর দিয়ে ক্রিকেট ফিরছে অলিম্পিকসে। বিশ্ব ক্রীড়ার সবচেয়ে বড় আয়োজনে ক্রিকেট থাকছে ১২৮ বছর পর।
লস অ্যাঞ্জেলেসে টি-টোয়েন্টি সংস্করণে হবে খেলা। পুরুষ ও নারী, উভয় বিভাগে প্রতিটিতে ছয়টি করে দেশ অংশ নেবে, যেখানে আফ্রিকা, এশিয়া, ইউরোপ এবং ওশেনিয়া অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে।
ছয় দলের পাঁচটি নির্ধারিত হবে বিদ্যমান অনুমোদিত ও প্রকাশিত ভবিষ্যৎ সফরসূচি (এফটিপি) কাঠামো অনুযায়ী আইসিসি ইভেন্ট এবং আইসিসি টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ের সমন্বয়ে।
বাকি একটি স্থান নির্ধারিত হবে নতুন আইসিসি অলিম্পিক কোয়ালিফায়ারের মাধ্যমে, যা ২০২৭ সালে অনুষ্ঠিত হবে।
চলতি উইমেন’স টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে নারী বিভাগের চারটি দল চূড়ান্ত হয়ে গেছে। আফ্রিকা, এশিয়া, ইউরোপ এবং ওশেনিয়া থেকে শীর্ষ স্থানে থাকা দল হিসেবে অস্ট্রেলিয়া, গ্রেট ব্রিটেন (ইংল্যান্ডের মাধ্যমে), ভারত এবং দক্ষিণ আফ্রিকা অলিম্পিকসে জায়গা করে নিয়েছে। প্রতিটি মহাদেশ থেকে একটি করে দলকেই সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
বড় একটি জটিলতা ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজকে নিয়ে। ক্যারিবিয় দেশগুলি সব খেলার মতো অলিম্পিকসেও আলাদাভাবেই অংশ নেয়। শুধু ক্রিকেটেই তারা একসঙ্গে ওয়েস্ট ইন্ডিজ নামে খেলে থাকে। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ আইওসির অংশ নয় বলে অলিম্পিকস ক্রিকেটে খেলতে পারবে না।
তবে তাদের পুরুষ ও নারী দল যদি ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে যোগ্যতা অর্জন করতে না পারা আটটি সর্বোচ্চ র্যাঙ্কধারী দলের মধ্যে থাকে, তাহলে একটি বিশেষ ক্যারিবিয় কোয়ালিফায়ারের মাধ্যমে আইসিসি ঠিক করবে, কোন ক্যারিবিয় দেশটি অলিম্পিকসে এই অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব করবে।
আমেরিকা মহাদেশ থেকে, আয়োজক হিসেবে পুরুষ ও নারী উভয় ইভেন্টে জায়গা করে নেওয়ার যোগ্য হবে যুক্তরাষ্ট্র। তবে তাদের ক্ষেত্রে শর্ত হলো, ৩০ জুন ২০২৬ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত নির্ধারিত যোগ্যতা অর্জনের সময়কালে তাদের সংশ্লিষ্ট আইসিসি টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ১৫-এর মধ্যে থাকতে হবে।
যদি যুক্তরাষ্ট্রের নারী দল সেই শর্ত পূরণ করতে না পারে, তবে ১ মার্চ ২০২৭ অনুযায়ী যেকোনো মহাদেশের আইসিসি টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে সর্বোচ্চ অবস্থানে থাকা যোগ্যতা অর্জন করতে না পারা দেশকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পঞ্চম স্থানটি দেওয়া হবে। যদি যুক্তরাষ্ট্রের পুরুষ দলও সেই শর্ত পূরণ করতে না পারে, তবে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে যোগ্যতা অর্জন করতে না পারা যেকোনো মহাদেশের পরবর্তী সর্বোচ্চ র্যাঙ্কিংধারী দেশকে পঞ্চম জায়গাটি বরাদ্দ করা হবে।
পুরুষদের ইভেন্টে বাকি স্থানগুলো আইসিসি টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে, যেখানে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ অনুযায়ী আফ্রিকা, এশিয়া, ইউরোপ এবং ওশেনিয়া থেকে সর্বোচ্চ র্যাঙ্কিংধারী দলগুলো সরাসরি সুযোগ পাবে।
পুরুষ ও নারী উভয় ইভেন্টের চূড়ান্ত স্থান নির্ধারণ করা হবে আইসিসি অলিম্পিকস কোয়ালিফায়ারে, যেখানে আটটি করে দেশ অংশ নেবে। এই টুর্নামেন্টের তারিখ এবং আয়োজক দেশ সম্পর্কিত তথ্য যথাসময়ে জানানো হবে বলে জানিয়েছে আইসিসি।
প্রতিটি আইসিসি অলিম্পিকস কোয়ালিফায়ারের বাকি সাতটি দল হবে সংশ্লিষ্ট আইসিসি টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ের পরবর্তী সর্বোচ্চ র্যাঙ্কধারী দল, তবে এর মধ্যে সেই দলগুলো অন্তর্ভুক্ত হবে না, যারা আগেই সরাসরি যোগ্যতা অর্জন করেছে।
অলিম্পিকসের ৩৩ আসরে ক্রিকেট হয়েছে একবার। ১৯০০ সালে স্রেফ দুটি দল অংশ নিয়েছিল পুরুষদের ইভেন্টে। ফ্রান্সকে হারিয়ে সোনা জিতেছিল গ্রেট ব্রিটেন।