Published : 29 Jun 2026, 09:59 PM
উইকেটে সবুজ ঘাসের ছোঁয়া। বাউন্স ও মুভমেন্ট যথেষ্ট। দারুণ সহায়ক সেই উইকেটেও এলোমেলো বাংলাদেশের পেসারদের বোলিং। সেখানেই হৃদয় উজাড় করে সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে লড়াই চালিয়ে গেলেন তাইজুল ইসলাম। ৭ উইকেট নেওয়ার পথে বাঁহাতি এই স্পিনার গড়লেন একগাদা রেকর্ডও। তবে একার লড়াইয়ে কতটুকুই বা পারা যায়! বড় লিড নিয়ে বাংলাদেশকে কঠিন পরীক্ষায় ঠেলে দিল জিম্বাবুয়ে।
ম্যাচ বাঁচানো তো বহু দূর, হারারে টেস্টে আপাতত ইনিংস পরাজয় এড়ানোর লড়াই বাংলাদেশের। জিম্বাবুয়ে আবার ব্যাটিংয়ে নামাতে প্রয়োজন আরও ২৩০ রান। উইকেট আছে ৯টি।
হারারে টেস্টের দ্বিতীয় দিনে জিম্বাবুয়ের প্রথম ইনিংস শেষ হয় ৪১০ রানে। ২৭০ রানে পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশ সাদমান ইসলামকে হারিয়ে সোমবার দিন শেষ করে ৪০ রানে।
প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিতে ইনোসেন্ট কাইয়া করেন ১৪০ রান। এক বছর পর টেস্ট খেলতে নেমে ৭৭ রানে অপরাজিত থাকে ওয়েসলি মাধেভেরে। ফিফটি করেন তরুণ ব্রায়ান বেনেট ও অভিজ্ঞ ক্রেইগ আরভিনও।
বোলিংয়ের নায়ক তাইজুল ৭ উইকেট নেন ১৩৮ রানে। টেস্ট ক্রিকেটে এই প্রথম দেশের বাইরে ৭ উইকেটের স্বাদ পেলেন বাংলাদেশের কোনো বোলার।
ইনিংসে ৭ উইকেট পেলেন তিনি এই নিয়ে তিনবার। একাধিকবার পাননি আর কেউ।
ইনিংসে ৫ উইকেট নিলেন তিনি ১৯ বার। বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি ৫ উইকেটের কীর্তিতে ছুঁলেন তিনি সাকিব আল হাসানের রেকর্ড। আরেকটি রেকর্ডে তো সাকিবকে ছাড়িয়েই গেছেন!
একসময় দেশের বাইরে তাইজুলের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে বিস্তর। সেই তাইজুল দেশের বাইরেই ষষ্ঠবার ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়ে ছাড়িয়ে গেলেন সাকিবকে (৫ বার)।
দেশের রেকর্ড ছাপিয়ে তার অর্জনের সীমা ছাড়িয়েছে এ দিন বিশ্ব ক্রিকেটও। ক্যারিয়ারে তার উইকেট এখন ২৭০টি। বিষেন সিং বেদিকে (২৬৬) ছাড়িয়ে টেস্ট ইতিহাসের পঞ্চম সফলতম বাঁহাতি স্পিনার এখন তাইজুল।
আগের দিনের মতো এই দিনটি যদিও জিম্বাবুয়েরই। প্রথম দিনে বাংলাদেশকে ১৪০ রানে গুটিয়ে ১ উইকেটে ১৩৬ রান তোলে জিম্বাবুয়ে। দ্বিতীয় দিনেও ছিল তাদেরই দাপট।
সকালে অবশ্য ব্রেন্ডান টেইলরকে (১৭) ফিরিয়ে লড়াইয়ের আশা জায়গায় বাংলাদেশ। সৈয়দ খালেদ আহমেদের বলে উইকেটের পেছনে প্রথম ডিসমিসাল পান অভিষিক্ত অমিত হাসান। তবে কাইয়া ও বেনেটের দারুণ ব্যাটিংয়ে সরে যায় সেই চাপ।
৭৬ রানে দিন শুরু করা কাইয়া সেঞ্চুরি স্পর্শ করেন ১৫৩ বলে। বাউন্ডারির পর বাউন্ডারিতে ৫৪ লেই ফিফটি করে ফেলেন বেনেট। লাঞ্চের আগে আর উইকেট হারায়নি জিম্বাবুয়ে।
লাঞ্চের পর থামে ১০৭ রানের জুটি। ডাউন দা উইকেটে গিয়ে বেশ জোরে শট খেলেন বেনেট (৫৯), নিজের বলে দুর্দান্ত রিফ্লেক্স ক্যাচ নেন তাইজুল।
একটু পর আরও দুটি উইকেট ধরা দেয় দ্রুত। ২২৭ বলে ১৪০ রান করে তাইজুলের শিকার হন কাইয়া। দুই বল পর রান আউট হয়ে যান কিপার-ব্যাটার তাফাদজাওয়া সিগা।
২৮০ রানে ৫ উইকেট হারানো জিম্বাবুয়ে অবশ্য বাংলাদেশকে ম্যাচে ফিরতে দেয়নি তখনও। এবার শতরানের জুটি গড়েন আরভিন ও মাধেভেরে।
১০২ রানের এই জুটিও ভাঙেন তাইজুল। যদিও তাতে আরভিনের (৬০) আলগা শটের অবদানই বেশি। এরপর জিম্বাবুয়ের লোয়ার অর্ডারে ছোবল দিয়ে একের পর এক উইকেট আদায় করে নেন তাইজুল। মাধেভেরে অপরাজিত থাকেন ১০৮ বলে ৭৭ রানে।
২৮ রানে শেষ ৫ উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। সবকটি উইকেটই নেন তাইজুল।
শেষ বিকেলে ব্যাটিংয়ে নেমে বাংলাদেশের দুই ওপেনার বেশ চালিয়ে খেলতে থাকেন। সাদমান আউট হয়ে যান রিচার্ড এনগাভার দারুণ ডেলিভারিতে। স্লিপে বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে দুর্দান্ত ক্যাচ নেন বেন কারান।
শেষ সময়েও নাইটওয়াচম্যান নামায়নি বাংলাদেশ। মাহমুদুল হাসান জয় ও মুমিনুল হক পার করে দেন দিন। তবে তাদের ও গোটা দলের অপেক্ষায় পাহাড় সমান চ্যালেঞ্জ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ১৪০
জিম্বাবুয়ে ১ম ইনিংস: (আগের দিন ১৩৬/১) ১০৭.২ ওভারে ৪১০ (কাইয়া ১৪০, টেইলর ১৭, বেনেট ৫৯, আরভিন ৬০, সিগা ১, মাধেভেরে ৭৭*, ইভান্স ৪, নিয়ামুরি ০, এনগারাভা ৩, মুজারাবানি ০; হাসান ২৫-২-১০২-০, খালেদ ২২-৩-৬৮-২, ইবাদত ২০-১-৯৬-০, তাইজুল ৪০.২-১-১৩৮-৭)।
বাংলাদেশ ২য় ইনিংস: ৯ ওভারে ৪০/১ (জয় ২১*, সাদমান ৯, মুমিনুল ৯*; এনগারাভা ৩-০-১৪-১, মুজারাানি ৪-০-২১-০, নিয়ামুরি ২-১-৫-০)।