Published : 29 Jun 2026, 01:00 PM
প্রথম ম্যাচের হারকে নাহয় ‘দুর্ঘটনা’ বলে চালিয়ে দেওয়া যায়। কিন্তু পরের ম্যাচও হারার পর তো স্রেফ ক্রিকেটীয় অনিশ্চয়তা বা এই ধরনের কিছু বলার জো নেই। টানা দুটি বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন, টি-টোয়েন্টিতে টানা ১৬টি সিরিজ জয় করা দল হেরে গেছে খর্বশক্তির আয়ারল্যান্ডের কাছে। ভারতের সহকারী কোচ রায়ান টেন ডেসকাপে বলছেন, অনেকটা অবিশ্বাসের অনুভূতিই হচ্ছে তাদের।
প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ভারতের ৩৪ রানে হারের পর দ্বিতীয় ম্যাচটিতে লড়াই হয় তুমুল। শেষ পর্যন্ত ১ রানে জিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের ২-০ ব্যবধানে হারায় আয়ারল্যান্ড।
এই পরাজয়ে ভারতীয় দল যে চমকে গেছে, লুকাননি টেন ডেসকাটে। আয়ারল্যান্ডকে কৃতিত্ব দিতেও ভুল করেননি তিনি।
“একটু অবিশ্বাস্য লাগছে। তবে যারা মাত্রই কদিন আগে বিশ্বকাপ জিতেছে, তাদের সমালোচনা করাও খুব কঠিন। আমরা এমন একটি দলের কাছে পরাজিত হয়েছি বা কৌশলে হেরে গেছি, যারা মৌলিক কাজগুলো খুব ভালোভাবে করেছে।”
“কাজেই আয়ারল্যান্ডকে প্রথমত কৃতিত্ব দিতেই হয়। দ্বিতীয়ত, ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে আমাদের জন্য শিক্ষণীয় অনেক কিছু আছে। সম্ভবত এটাই এখান থেকে পাওয়া সবচেয়ে বড় শিক্ষা। ছেলেরা ভারতে কীভাবে খেলতে হয়, তা সত্যিই জানে। এটিও ভালো শিক্ষা যে, আমরা যখন ভিন্ন দেশে গিয়ে ভিন্ন দলের বিপক্ষে খেলব, তখন আমাদের মানিয়ে নিতে হবে এবং কিছুটা ভিন্নভাবে খেলতে হবে।”
শক্তি-সামর্থ্যে দুই দলের তুলনাই চলে না। এই ধরনের সিরিজে সাধারণত দেখা যায়, বড় দলগুলি অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে, নতুনদের বাজিয়ে দেখে। এবার ছিল উল্টো। ভারত খেলেছে পূর্ণশক্তির দল নিয়ে। চোটজর্জর আয়ারল্যান্ড এই সিরিজে পায়নি মূল দলের বেশ কজনকে।
আইরিশদের কৃতিত্ব তাই আরও বেশি দেখছেন টেন ডেসকাটে।
“অসম্মান না করেই বলছি, ‘না’, এতটা ভাবতে পারিনি। আপনি যদি দুই দলের ক্রিকেটারদের দিকে আলাদা করে তাকান, দেখবেন ভারতীয়রা তাদের ক্যারিয়ারে কী অর্জন করেছে। সেখানে এমন দু-একজন আছে, যারা টানা দুটি বিশ্বকাপ জিতেছে। এমন ক্রিকেটারও আছেন, যারা শত শত আইপিএল ম্যাচ খেলেছে, এবং আমার মনে হয়, এটাই প্রমাণ করে যে, (আয়ারল্যান্ডের জন্য) এটি কতটা বড় একটি অর্জন।”
“আমি তো এটাও বলব না যে আমাদের দুটি দিন খারাপ গেছে। আমার মনে হয়েছে, আইরিশরা দুই দিনই দুর্দান্ত খেলেছে। এটা ২৪০ বা ২৫০ রানের মতো চোখধাঁধানো ক্রিকেট ছিল না। তারা যথেষ্ট বুদ্ধি খাটিয়ে দুটি ভালো স্কোর করতে পেরেছে।”
নিজেরা হেরে গেলেও বৃহত্তর দৃষ্টিকোণ থেকে আইরিশদের জয়কে দারুণ বলে মনে করছেন নেদারল্যান্ডসের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা সাবেক অলরাউন্ডার।
“আমি তাদের জন্য বেশ খুশি। হেরে যাওয়াটা অবশ্যই খুব হতাশাজনক, কিন্তু তাদের এভাবে উন্নতি করতে দেখা এবং নিজেদের সামর্থ্যের সর্বোচ্চ ব্যবহার করে জিততে দেখাটা খুবই প্রশংসনীয়, এবং আমরা তাদের স্যালুট জানাই।”

আয়ারল্যান্ডের জয়ের দুই নায়ক এই সিরিজেই অভিষিক্ত দুই পেসার ম্যাট হলার্ড ও জয় মুন্ড্রা। প্রথম ম্যাচে অভিষেকে তিন উইকেট নিয়ে ম্যান অব দা ম্যাচ হন হলার্ড। পরের ম্যাচেও তার শিকার তিন উইকেট। ৫ বছর আগে পড়াশোনার জন্য ভারত তেকে আয়ারল্যান্ডে আসা অভিষেকে উইকেট নেন দুটি, দ্বিতীয় ম্যাচে ম্যাচ-সেরা তিনি তিন উইকেট নিয়ে।
টেন ডেসকাটের মতে, বেলফাস্টের কন্ডিশনে মানিয়ে নিতে পারেনি ভারত। বিশেষ, বেশি ভুগেছে তারা বাতাসের কারণে।
“মূলত এটাই আমাদের কাল হয়েছে। এগুলো নিয়ে আমরা আগেও কথা বলেছি, কিন্তু মাঠে নেমে আমরা এসবের মোকাবিলা ভালোভাবে করতে পারিনি। আমার মনে হয়, সবচেয়ে বড় কারণ ছিল বাতাস।”
“আবারও বলছি, কোনো অজুহাত নেই। তবে যখন ভিন্ন কোনো চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়, তখন ভিন্নভাবে, আরও ভালোভাবে খেলার সমাধান খুঁজে বের করতে হয়। আয়ারল্যান্ড বল হাতে সেটা খুব ভালোভাবে করেছে। তারা আমাদের কখনোই সোজা শট খেলতে দেয়নি। আমার মনে হয়, দুই ম্যাচে আমরা মাত্র দুটো সোজা ছক্কা মেরেছি। দুটোই স্পিনারের বলে। তারা মৌলিক বিষয়গুলো খুব ভালোভাবে করেছে এবং আমরা তার মোকাবিলা করতে পারিনি।”
আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের পর এখন ইংল্যান্ডে সিরিজ খেলবে ভারতীয়রা। দীর্ঘদিন কাউন্টি ক্রিকেটে খেলা ডেসকাটের ধারণা, সেখানেও একই ধরনের চ্যালেঞ্জ সামলাতে হবে।
“আমরা সম্ভবত এমন এক ধরনের গতি ও শৈলীতে খেলতে অভ্যস্ত, যেখানে আরও সহজে ছক্কা মারা যায়। আমার মনে হয়, ইংল্যান্ডে গেলেও একই অবস্থা হবে, হয়তো উইকেটগুলো আরেকটু দ্রুতগতির হবে, হয়তো বাতাস কিছুটা কম থাকবে, কিন্তু সেখানে জিততে হলে আমাদের মানিয়ে নিতে হবে এবং খেলার ধরন নিয়ে আরও অনেক বেশি মাথা খাটাতে হবে।”
তবে কন্ডিশনের চ্যালেঞ্জ যেমনই হোক, নিজেদের আগ্রাসী ঘরানার সঙ্গে আপোস করা হবে না বলেও জানিয়ে রাখলেন ভারতের সহকারী কোচ।
“গত দুই বছর ধরে, এমনকি তারও আগে থেকে, এটা দলের পরিচয়ের একটি শক্তিশালী অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে যে. আমরা পাওয়ারপ্লেতে আধিপত্য বিস্তার করার চেষ্টা করি। ধরে খেলার কথা বলা সহজ, কিন্তু যদি ব্যাট না চালালে তো কখনোই ছক্কা মারতে পারা যায় না। আমরা এই ভারসাম্যটা ঠিক করতে চাই।”
“শুরুতেই খুব সতর্ক থাকার কথা বলার ব্যাপারে আমি অবশ্যই সাবধান থাকব। আমরা এভাবে খেলতে চাই না। আমরা শুধু আরও ভালো বিকল্প বেছে নিতে চাই এবং পাওয়ারপ্লেতে আধিপত্য বিস্তারের জন্য নিজেদেরকে আরও ভালো সুযোগ দিতে চাই।”