Published : 29 Jun 2026, 07:55 PM
জীবিত ও মৃত দাতার কিডনি প্রতিস্থাপন নিয়ে রাজধানীতে হয়ে গেল সম্মেলন।
জাতীয় প্রেস ক্লাবে কিডনি ফাউন্ডেশনের আয়োজনে সোমবার এ সম্মেলন হয়েছে।
সম্মেলনে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নেফ্রোলজি বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, “একটা মানুষের কিডনি ফেইলিওর হলে দুটো উপায়ে বেঁচে থাকা যায়। প্রথমটি হল ডায়ালাইসিস আর দ্বিতীয়টি কিডনি প্রতিস্থাপন।
“প্রথমটি আমাদের মতো দেশের মানুষের জন্য ব্যয়বহুল। কারণ একবার ডায়ালাইসিস শুরু হলে সেটি আর বন্ধ করা যায় না। নিয়মিত করাতে হয়। একপর্যায়ে ওই পরিবার অর্থনৈতিকভাবে খুব ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অসুস্থ ব্যক্তি কর্মক্ষমতা হারায়। এতে দীর্ঘ সময় ওই পরিবার অর্থনৈতিকভাবে ধ্বংস হয়ে যায়। এদিক বিবেচনায় পরিচিত কারো কিডনি নিয়ে প্রতিস্থাপন করতে পারলে সবচেয়ে ভালো হয়। এতে ওই ব্যক্তি নিজের স্বাভাবিক জীবনযাপনে ফিরতে পারেন।”
নিজের পরিবারের কেউ অথবা ‘ব্রেইন ডেড’ কারো কিডনি সংরক্ষণ করা গেলে সেটি ব্যবহার করা যেতে পারে জানিয়ে নজরুল ইসলাম বলেন, “তবে আমাদের দেশে এটির প্রচলন নেই। এটি করা গেলে অনেক কিডনি রোগী মানুষকে বাঁচানো সম্ভব হবে।”
সম্মেলনে রাজধানীর পল্লবী এলাকার বাসিন্দা শাহানুর রহমান বলেন, এক যুগ ধরে তিনি কিডনি রোগে আক্রান্ত। তিন বছর হল নিয়মিত ডায়ালাইসিস করাচ্ছেন। ডায়ালাইসিসের মাধ্যমে তিনি সুস্থ আছেন।
আব্দুর রশিদ শেখ নামে কিডনি প্রতিস্থাপনকারী একজন বলেন, “আমার ছোটবেলায় বাবা মারা যায়। বড় ভাই মানুষ করেছে এবং কিডনি ফেইল হওয়ার পর তিনি কিডনি দিয়েছেন। এখন দুজনেই সুস্থ আছি।”
রশিদ বলেন, “অনেকের মধ্যে কিডনি প্রতিস্থাপনের বিষয়ে ভয় কাজ করে। কিন্তু একটা কিডনি দিয়ে আমার বড় ভাই আমার চেয়ে ভালো সুস্থ আছে। তাই নিকট আত্মীয় এবং পরিবারের কাউকে কিডনি দিলে শারীরিকভাবে কোনো সমস্যা হয় না। তবে এই রোগের কিছু ওষুধের দাম কমালে আমাদের জন্য ভালো হয়।”
কিডনি ফাউন্ডেশনের সিনিয়র কনসালট্যান্ট অধ্যাপক হারুন-উর-রশিদের সভাপতিত্বে ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক রুহুল আমিন রুবেল, এশিয়ান সোসাইটি অব ট্রান্সপ্লান্টেশনের মহাসচিব অধ্যাপক কুরি আহন, ট্রান্সপ্লান্টেশন জার্নালের প্রধান সম্পাদক অধ্যাপক জেরেমি চ্যাপম্যান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।