Published : 09 Mar 2026, 07:28 PM
এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতকে নিয়ে কয়েক দফায় ভবিষ্যদ্বাণী করে আলোচনা ও হাস্যরসের খোরাক জোগান মোহাম্মাদ আমির। তার প্রতিটি ভবিষ্যদ্বাণী ভুল প্রমাণ করে শেষ পর্যন্ত শিরোপা ধরে রেখেছে ভারত। চির প্রতিদ্বন্দ্বিরা ট্রফি জেতার পর প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে কিছুটা বিরক্ত হলেন পাকিস্তানের এই পেসার।
সুপার এইটে তিন দফায় আমির বলেছিলেন, ভারত সেমি-ফাইনালে খেলতে পারবে না। পরে সেমি-ফাইনালের আগে বলেছিলেন, ভারত ফাইনালে উঠতে পারবে না। এরপর ফাইনালের আগে বলেছিলেন, ভারত জিততে পারবে না।
আহমেদাবাদে রোববার শিরোপার মঞ্চে নিউ জিল্যান্ডকে ৯৬ রানে হারিয়ে প্রথম দল হিসেবে টানা দুইবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি গড়ে ভারত।
পরে জিওনিউজের ছোট্ট একটি ভিডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে, এই টিভি চ্যানেলের একটি শোতেই আলোচিত মন্তব্যগুলো করেছিলেন আমির।
আমিরের ভবিষ্যদ্বাণী ভুল প্রমাণিত করে ভারতের বিশ্বকাপ জয়ের বিষয়ে তার কাছে মন্তব্য জানতে চাওয়া হয় ওই ভিডিওতে। তখন কিছুটা বিরক্ত হয়েই উত্তর দেন আমির।
“ওরা জিতেছে, ঠিক আছে, ওরা কাপ বাড়িতে নিয়ে যাবে, ওরা তো আমার বাড়িতে আনবে না, ভালো করেছে।”
তখন পাশেই থাকা পাকিস্তানের ব্যাটসম্যান আহমেদ শেহজাদ বলেন, আমির তার বিশ্লেষণ ও অভিজ্ঞতার আলোকেই ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন এবং এটিকে স্বাভাবিকভাবেই নেওয়া উচিত।
“এগুলো কেবল ক্রিকেটীয় ভবিষ্যদ্বাণী। আমির তার অভিজ্ঞতার আলোকে মতামত দিয়েছে। আপনাদের এটা মেনে নিতে হবে।”
মূল টিভি শোতে ফাইনাল নিয়ে কথা বলেন আমির। নিউ জিল্যান্ড অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনারের কৌশলের সমালোচনা করেন তিনি।
“অদ্ভুতভাবে (ভারতের জয়ের জন্য) কৃতিত্ব নিউ জিল্যান্ডের বোলারদেরও দেওয়া যায়। ওরা স্টাম্পের বাইরে ওয়াইড বল করছিল এবং সেখান থেকে ছক্কা মারছিল। খুবই আলগা বোলিং। তবে এমন নয় যে ভারতের কৃতিত্ব প্রাপ্য নয়। কিন্তু (স্যান্টনারের) কৌশল বুঝতে পারিনি আমি। প্রথমে সে হেনরিকে দিয়ে বোলিং করাল, তারপর অফ স্পিনারকে দিয়ে, তারপর আবার হেনরিকে। দুই ওভারে হেনরি মাত্র ১২ রান দেয় এবং হঠাৎ করেই পুরো পরিকল্পনা বদলে যায়। খুব অদ্ভুত বোলিং।”
“যখন আপনি জানেন যে, আভিশেক শার্মা অফ স্পিনের বিপক্ষে সংগ্রাম করছে, তখন আপনার তাৎক্ষণিকভাবে অফ স্পিনারকে আনা উচিত। কিন্তু তারা ডাফিকে বোলিংয়ে আনে এবং সে অদ্ভুত বোলিং করে। লকি ফার্গুসনকে আজ আমার কাছে খুবই সাধারণ মানের বোলার মনে হয়েছে। তিনটি বল ওয়াইড, দুটি বল অফ-কাটার এবং তারপর একটি বল স্লটে, ছক্কা।”
গত দুই দশক ধরে নিউ জিল্যান্ডকে কখনও এতটা চাপে দেখেননি বলেও মন্তব্য করেন আমির।
“আমি ২০০৪-০৫ সাল থেকে নিউ জিল্যান্ডকে অনুসরণ করে আসছি। কখনও তাদের এতটা চাপের মধ্যে দেখিনি। হয়তো দর্শকদের কারণে, হয়তো ফাইনালের কারণে। কিন্তু দেখুন, আভিশেক শার্মা তরুণ খেলোয়াড়। টুর্নামেন্ট জুড়ে সে কিছুই করেনি। সেও চাপে ছিল। এই ধরনের ম্যাচে খেলোয়াড়দের মানসিক শক্তি গুরুত্বপূর্ণ। আমার মনে হয় ভারত তা দেখিয়েছে, এই কারণেই তারা ফাইনাল জিতেছে।”
নিজের প্রথম বিশ্বকাপে ফাইনালের আগ পর্যন্ত প্রথম সাত ম্যাচে কেবল একটি ফিফটি করতে পারেন আভিশেক। সেই তিনি শিরোপার মঞ্চে ২১ বলে ৫২ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন ভারতের। তাদের ২৫৫ রানের জবাবে ১৫৯ রানে গুটিয়ে যায় নিউ জিল্যান্ড।