Published : 12 Jul 2026, 07:39 PM
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে যে মুজিববর্ষ পালন করেছিল, তাতে প্রায় ৯৮৩ কোটি টাকা খরচ হওয়ার কথা জাতীয় সংসদে বলেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
রোববার সংসদের প্রশ্নোপত্তর পর্বে তিনি বলেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও তাদের অধীন দপ্তরগুলো এ অর্থ ব্যয় করেছে।
অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
রংপুর-৩ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. মাহবুবুর রহমান বেলালের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, “মুজিববর্ষ উদযাপনে বিভিন্ন কর্মসূচি, শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ও বেদি তৈরি, সরকারি অফিসে ব্রোঞ্জ, তামা ও মার্বেল পাথরের মূর্তি নির্মাণ এবং সময় গণনার ডিজিটাল বোর্ড তৈরিতে ৯৮২ কোটি ৯১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে।”
বঙ্গবন্ধুর জন্ম ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় সাধারণ এক পরিবারে।
২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ সময়কে মুজিববর্ষ হিসেবে ঘোষণা করেছিল শেখ হাসিনা সরকার। করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে ২০২০ সালে সাড়ম্বরে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ পালন করা যায়নি। পরে ওই বছরের ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত মুজিববর্ষের সময় বাড়ায় সরকার।
মুজিবর্ষে ব্যয়ের হিসাব দিয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগ সর্বোচ্চ ২৮৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা খরচ করেছে। রেলপথ মন্ত্রণালয় ব্যয় করেছে ২০৬ কোটি ৭৩ লাখ ৭১ হাজার টাকা।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ব্যয় ছিল ১৪০ কোটি ৪৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ব্যয় ১৩৩ কোটি ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা।

সম্পূরক প্রশ্নে মাহবুবুর রহমান জানতে চান, এই ব্যয় নিরীক্ষা বা তদন্তের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কি না। অপচয় বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা এবং ভবিষ্যতে কোনো ব্যক্তির প্রচারে অপ্রয়োজনীয় সরকারি ব্যয় বন্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তাও জানতে চান তিনি।
জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, “এটা তো শুধু মুজিববর্ষ। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী এক বৎসরের খাওয়া-দাওয়ার খরচ হয়েছে ৩৫ কোটি টাকা।”
বিগত সরকারের সময়ের বিভিন্ন ব্যয়ের তথ্য পর্যায়ক্রমে যাচাই করা হচ্ছে তুলে ধরে আমির খসরু বলেন, “মুজিববর্ষের ব্যয় এর একটি অংশ মাত্র। সব তথ্য যাচাই শেষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”