Published : 12 Jul 2026, 07:43 PM
সৌদি আরবে এক বন্ধুর কাছ থেকে সামান্য কিছু অর্থ ধার নেওয়ার তিন দশকেরও বেশি সময় পর ভারতের কেরালার বাসিন্দা ইসমাইল কেবল অস্পষ্ট কিছু স্মৃতি আর বহুদিনের পুরনো প্রতিজ্ঞা পূরণের তাগিদ নিয়ে সেই বন্ধুকে খুঁজতে বেরিয়ে পড়েছিলেন।
তার কাছে না ছিল সেই বন্ধুর কোনও ফোন নম্বর, না ছিল ঠিকানা। কোনও তথ্য ছাড়াই ইসমাইল তার সাবেক সহকর্মী এডলা লাচান্নার সন্ধানে নামেন, যার সঙ্গে তার বহু বছর দেখা হয়নি।
গত ৯ জুলাই তার এই অনুসন্ধান তাকে তেলেঙ্গানার জাগতিয়াল জেলার ধর্মপুরীতে নিয়ে যায়। সেখানে তিনি অবশেষে তার বন্ধুর খোঁজ পান এবং কয়েক দশকের সেই ঋণ পরিশোধ করেন।
সৌদি আরবে বন্ধুত্ব:
১৯৯১ সালে সৌদি আরবের আবকাইক এলাকায় কাজ করার সময় ইসমাইল ও লাচান্নার বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছিল। তারা আরও তিনজন প্রবাসী কর্মীর সঙ্গে একই আবাসনে প্রায় পাঁচ বছর ধরে একসঙ্গে বাস করেছিলেন।
সেই সময় ইসমাইল লাচান্নার কাছ থেকে ১২০ সৌদি রিয়াল ধার নিয়েছিলেন। তখন ওই অর্থের পরিমাণ ছিল প্রায় ১,০০০ ভারতীয় রূপির সমান। ইসমাইল কথা দিয়েছিলেন যে, সামর্থ্য হলেই তিনি এই ধার শোধ করে দেবেন।
এর কিছুদিন পরই লাচান্না ভারতে ফিরে যান। তখন মোবাইল ফোন বা সোশ্যাল মিডিয়া না থাকায় সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
অর্থের অংখটা বেশি বড় না হলেও, ইসমাইল এই ঋণের কথা কখনই ভুলে যাননি। সম্প্রতি তিনি তার পুরনো বন্ধুকে খুঁজে বের করে অর্থ ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কাজটি সহজ ছিল না। লাচান্নার ফোন নম্বর, ঠিকানা বা যোগাযোগের অন্য কোনও তথ্য তার কাছে ছিল না।
তার কেবল এটুকুই মনে ছিল যে, লাচান্নার বাড়ি ধর্মপুরীতে। এই একটি তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এবং অনলাইনে খোঁজাখুঁজি করে ইসমাইল শহরটি খুঁজে বের করেন এবং সেখানে যান।
স্থানীয় মানুষের সহায়তায় তিনি অবশেষে তার সাবেক সেই সহকর্মীর সন্ধান পান। লাচান্নার সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগের পর ইসমাইল তার পরিবারের হাতে ২৫,০০০ রূপি তুলে দেন।
সে সময় লাচান্না বিদেশে কাজে ছিলেন। তাদের মধ্যে হোয়াটসঅ্যাপ ভিডিও কলে কথা হয়। লাচান্না জানান, প্রায় ৩৫ বছর আগে দেওয়া মাত্র ১২০ সৌদি রিয়াল ঋণ পরিশোধে ইসমাইল তাকে ২৫,০০০ রূপি ফেরত দেওয়ায় তিনি অবাক হয়েছেন।
ইসমাইলকে একজন সৎ ও ভালো মনের মানুষ হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, এ কাজ তাদের বন্ধুত্বের গভীরতারই বহিঃপ্রকাশ। এত বছর পরও নিজের কথা রাখার জন্য তিনি ইসমাইলকে ধন্যবাদ জানান।
তিনি বলেন, “৩৫ বছর আগে দেওয়া ১২০ রিয়ালের বিপরীতে তিনি (ইসমাইল) কীভাবে ২৫,০০০ রূপির হিসাব করলেন, তা আমার জানা নেই। অর্থের অঙ্কের মধ্যে তিনি সুদ ধরেছিলেন কি না, তা আমি জানি না। তিনি অত্যন্ত সৎ ও ভালো মানুষ। তাই তিনি আমাকে বেশি রূপি দিয়েছেন। এটি মূলত আমাদের বন্ধুত্বেরই প্রতিফলন। অর্থ ফেরত দেওয়ার জন্য আমি তার কাছে কৃতজ্ঞ।”
সূত্র: এনডিটিভি