Published : 08 Mar 2026, 08:00 AM
দেশের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালে পরিষ্কার ফেভারিট হিসেবেই নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে ভারত। তবে ফেভারিট হওয়া মানেই তো আর জয়ের নিশ্চয়তা নয়। ম্যাচ জিততে হলে ভালো করতে হবে নির্দিষ্ট দিনে। আর খেলাটি যখন টি-টোয়েন্টি, হতে পারে যেকোনো কিছুই।
আহমেদাবাদে এক লাখ ৩২ হাজার দর্শক ধারণ ক্ষমতার নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে রোববার শিরোপার মঞ্চে মুখোমুখি হবে ভারত ও নিউ জিল্যান্ড। ম্যাচ শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায়।
গতবারের চ্যাম্পিয়ন ভারতের শিরোপা ধরে রাখতে হলে কাটাতে হবে বেশ কিছু ‘অভিশাপ’, বদলে দিতে হবে অতীত ইতিহাস।
স্বাগতিকদের শূন্য
আগের ৯টি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কোনো স্বাগতিক দল কখনও শিরোপা জিততে পারেনি। স্বাগতিক হিসেবে আগে ফাইনালে খেলতে পেরেছে শুধু শ্রীলঙ্কা। ২০১২ আসরের সেই ফাইনালে লঙ্কানদের ৩৬ রানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
দ্বিতীয় স্বাগতিক দল হিসেবে ফাইনালে ওঠা ভারতের সামনে নতুন ইতিহাস গড়ার হাতছানি।
ধরে রাখা যায় না
এখন পর্যন্ত কোনো দল টানা দুইবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিততে পারেনি, অর্থাৎ কেউ শিরোপা ধরে রাখতে পারেনি।
ভারত পারবে?
আগের ৯ আসরের চ্যাম্পিয়ন: ২০০৭ (ভারত), ২০০৯ (পাকিস্তান), ২০১০ (ইংল্যান্ড), ২০১২ (ওয়েস্ট ইন্ডিজ), ২০১৪ (শ্রীলঙ্কা), ২০১৬ (ওয়েস্ট ইন্ডিজ), ২০২১ (অস্ট্রেলিয়া), ২০২২ (ইংল্যান্ড), ২০২৪ (ভারত)
ধাঁধার নাম রোববার
এখন পর্যন্ত চারটি বিশ্বকাপ জিতেছে ভারত (দুটি ওয়ানডে, দুটি টি-টোয়েন্টি)। এর মধ্যে ১৯৮৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ, ২০১১ ওয়ানডে বিশ্বকাপ ও ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনাল তারা খেলেছে শনিবার, আর ২০০৭ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনাল সোমবার।
ভারত বিশ্বকাপ ফাইনাল হেরেছে মোট তিনটি এবং সবগুলোই কাকতালীয়ভাবে খেলেছে রোববার! ২০০৩ ও ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনাল তারা হেরেছে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে, ২০১৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনাল হেরেছে শ্রীলঙ্কার কাছে।
এবারের ফাইনালও হচ্ছে রোববার।
নিউ জিল্যান্ড ৩-০ ভারত
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিউ জিল্যান্ডকে কখনও হারাতে পারেনি ভারত। দুই দলের আগের তিনবারের দেখায় সবকটি জিতেছে নিউ জিল্যান্ড।
২০০৭ আসরে জোহানেসবার্গে নিউ জিল্যান্ড জিতেছিল ১০ রানে। ২০১৬ আসরে নাগপুরে কিউইদের জয় ৪৭ রানে। ২০২১ আসরে দুবাইয়ে নিউ জিল্যান্ড জয় পায় ৮ উইকেটে।
নিউ জিল্যান্ডের ২
নিউ জিল্যান্ড এখন পর্যন্ত দুটি আইসিসি ট্রফি জিতেছে এবং দুটিতেই তারা ফাইনালে হারিয়েছে ভারতকে।
২০০০ সালে নাইরোবিতে ফাইনালে ভারতকে ৪ উইকেটে হারিয়ে নিউ জিল্যান্ড জিতেছিল আইসিসি নকআউট বা ‘মিনি বিশ্বকাপ’, বর্তমানে যেটি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি নামে পরিচিত।
২০২১ সালে নিউ জিল্যান্ড আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম আসরের শিরোপা জিতে নেয় সাউথ্যাম্পটনের ফাইনালে ভারতকে ৮ উইকেটে হারিয়ে।
অবশ্য ভারত ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জেতে ফাইনালে নিউ জিল্যান্ডকে হারিয়ে।
এবং আহমেদাবাদ
ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নামকরণের এই মাঠেই ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হেরে যায় ভারত। সেই ফাইনালের আগে অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক প্যাট কামিন্স বলেছিলেন, লাখো ভারতীয় দর্শককে চুপ করিয়ে দিতে চান তারা। ভারতের অপরাজিত যাত্রা থামিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেটা করিয়েও দেখিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া।
এবারের ফাইনালের আগে একই হুঙ্কার দিয়েছেন নিউ জিল্যান্ড অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনারও।
ফাইনালের আগে আসরে একটি ম্যাচই কেবল ভারত হেরেছে এবং সেটা এই আহমেদাবাদেই, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর, ২০২৩ বিশ্বকাপের সময় ভারত যে হোটেলে উঠেছিল, এবার সেখানে তারা ওঠেনি, এবার উঠেছে ভিন্ন হোটেলে।
এবার ভিন্ন গল্প লিখতে পারবেন সুরিয়াকুমার ইয়াদাভ, হার্দিক পান্ডিয়ারা? কোনো কারণে ফাইনাল রিজার্ভ ডেতে না গেলে উত্তর মিলবে আসছে রাতেই।