১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

শপথ নিতে পারবেন আসলাম? ২ অ্যামিকাস কিউরির মত নেবে আদালত

আদালত আগামী ১৫ জুন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী প্রবীর নিয়োগী ও কামরুল হক সিদ্দিকীর বক্তব্য শুনবে।

শপথ নিতে পারবেন আসলাম? ২ অ্যামিকাস কিউরির মত নেবে আদালত
সংসদ সদস্য আসলাম চৌধুরী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 10 Jun 2026, 09:13 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:22 PM

ঋণখেলাপির অভিযোগ থাকায় চট্টগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে আসলাম চৌধুরী শপথ নিতে পারবেন কিনা, সে বিষয়ে দুই ‘অ্যামিকাস কিউরির’ বক্তব্য শুনবে সুপ্রিম কোর্ট।

বুধবার প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেয়। 

বেঞ্চের বাকি তিন বিচারপতি হলেন মো. আশফাকুল ইসলাম, মো. রেজাউল হক ও ফারাহ মাহবুব।

অ্যামিকাস কিউরি করা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী প্রবীর নিয়োগী এবং কামরুল হক সিদ্দিকীকে। 

আগামী ১৫ জুন মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ঠিক করা হয়েছে।

অ্যামিকাস কিউরির দায়িত্ব পাওয়া কামরুল হক সিদ্দিকী সুপ্রিম কোর্টের দেওয়ানি আইনজ্ঞ। আলোচিত অনেক মামলায় তিনি লড়েছেন। 

অন্যদিকে প্রবীর নিয়োগী এর আগে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীসহ বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রশ্নে আদালতকে পরামর্শ দিয়েছেন।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড ) আসনের জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকীর আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, “মামলাটির শুনানি বর্তমানে আংশিক সম্পন্ন (পার্ট-হার্ড) অবস্থায় রয়েছে। আদালত এই মামলায় আইনি ব্যাখ্যার জন্য জ্যেষ্ঠ আইনজীবী প্রবীর নিয়োগী ও কামরুল হক সিদ্দিকীকে অ্যামিকাস কিউরির দায়িত্ব দিয়েছেন।”

আগামী ১৫ জুন আদালত অ্যামিকাস কিউরিদের বক্তব্য শুনবেন; তাদের আইনি মতামত শোনার পর আদালত এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন বলে জানান শিশির মনির।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে বিএনপি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন আসলাম চৌধুরী। কিন্তু ঋণখেলাপির অভিযোগে তার চূড়ান্ত ফল স্থগিত রাখা হয়। ফলে নির্বাচনে বিজয়ী হয়েও শপথ নিতে পারেননি বিএনপির এই প্রার্থী। পরে ফলাফল প্রকাশ ও শপথ গ্রহণের অনুমতি চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আবেদন করেন তিনি।

চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে বৈধ ঘোষণা করেন। তবে তার বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করেন জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকী এবং যমুনা ব্যাংক।

শুনানি শেষে গত ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন ওই আপিল খারিজ করে দিলে আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহাল থাকে। ইসির এই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে পৃথক রিট আবেদন করে অভিযোগ তোলা পক্ষ। 

গত ২৭ জানুয়ারি হাই কোর্ট শুনানি শেষে রিট আবেদন দুটিও খারিজ করে দেয়।

হাই কোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে ২৯ জানুয়ারি চেম্বার আদালতে আবেদন করেন আনোয়ার সিদ্দিকী ও যমুনা ব্যাংক। চেম্বার আদালত আবেদনটি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠিয়ে দেয়। পরে হাই কোর্টের আদেশের অনুলিপি পেয়ে আনোয়ার সিদ্দিকী আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন।

গত ৩ ফেব্রুয়ারি আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহাল রেখে হাই কোর্ট যে আদেশ দিয়েছিল, তার বিরুদ্ধে করা আপিলের আবেদন মঞ্জুর করে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের আপিল বেঞ্চ। এই আবেদন মঞ্জুর হওয়ায় এখন আপিলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি চলছে।

ঋণখেলাপি অভিযোগের চূড়ান্ত সুরাহার আগে আসলাম চৌধুরী শপথ নিতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে আইনি সমাধানের জন্যই এখন দেশের দুই শীর্ষ আইনজীবীর মতামত শুনবে সর্বোচ্চ আদালত।