Published : 16 Jul 2026, 10:11 PM
সপ্তাহব্যাপী টানা বৃষ্টির কারণে বন্যার কবলে পড়ে রাঙামাটিতে কৃষি খাতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। হাজার হাজার হেক্টর কৃষিজমির ফসল বিলীন হয়েছে বন্যার পানিতে।
জেলা কৃষি বিভাগ বলছে, বন্যায় ৩ হাজার ৬৭৫ হেক্টর কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বৃষ্টি ও উজানের ঢলে সৃষ্ট বন্যায় জেলায় ৫৩ হাজার ৭৬৬ হেক্টর আবাদকৃত কৃষিজমির ৩ হাজার ৬৭৫ হেক্টর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার মধ্যে উচ্চ ফলনশীল আউশ ৬৯৯ হেক্টর, স্থানীয় আউশ ৪৬১ হেক্টর, গ্রীষ্মকালীন সবজি ১ হাজার ১৩৬ হেক্টর, আদা ৪২২ হেক্টর, হলুদ ৩৪৪ হেক্টর, আমন (বীজতলা) ২০৩ হেক্টর এবং ৪১০ হেক্টর জমির উদ্যান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জেলায় বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতি হয়েছে বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়ন এবং বরকল উপজেলার ভূষণছড়া ইউনিয়ন। এ ছাড়া বাঘাইছড়ি ও জুরাছড়ি উপজেলারও অনেক এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়।
বরকল উপজেলার ভূষণছড়া ইউনিয়নের জাঙ্গেয়েছড়া গ্রামের বাসিন্দা জগৎময় চাকমা বলেন, “১ লাখ ৪০ হাজার টাকা পুঁজি করে ২ বিঘা জমিতে ৮৭২টি পেঁপে গাছ লাগিয়েছি। গাছে ভালো ফলনও হয়েছে। ২২ থেকে ২৩ হাজার কেজি পেঁপে পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল।
“কিন্তু এক সপ্তাহের টানা বৃষ্টিতে পেঁপে বাগানটি ডুবে গিয়ে সব শেষ হয়ে গেছে। বাগান থেকে পুরোপুরি এখনও পানি কমেনি। পেঁপে গাছগুলো মরে যাচ্ছে। ফলগুলো ঝরে পড়তেছে। এতে আমার ৮ হতে ৯ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে।”
বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা ও সমাজকর্মী মৃণাল কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, “ফারুয়ায় এবারের বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে স্থানীয় ঘরবাড়ি ও ফসলি জমির। ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষতির কারণে ফারুয়ার মানুষ খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে পারে।”
ফারুয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বিদ্যালাল তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, “ইউনিয়নে ১৬-১৭টি গ্রাম বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা একটা তালিকা প্রস্তুত করেছি। তালিকা অনুযায়ী, ১ হাজার ৪৮৬টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার রয়েছে। তবে তালিকাটা আরো বাড়তে পারে।
“ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর বেশিরভাগ প্রান্তিক কৃষক। বন্যায় তারা একেবারেই নিঃস্ব হয়ে গেছে। আমরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য আর্থিক সহায়তা ও প্রণোদনার আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।”
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রাঙামাটি কার্যালয়ের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক অরুণ চন্দ্র রায় বলেন, “বিলাইছড়ি, জুরাছড়ি, বরকল, বাঘাইছড়িতে বন্যায় ফসলের ক্ষতি হয়েছে। এরই মধ্যে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করার কথা বলা হয়েছে। তালিকা প্রস্তুত শেষে আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পাঠিয়ে কৃষকদের সহায়তার জন্য চেষ্টা করব।”