Published : 09 Jun 2026, 04:04 PM
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের একমাত্র শিরোপায় মিশে আছে মোসাদ্দেক হোসেনের নাম। ২০১৯ সালে আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে ম্যাচ-সেরা হয়েছিলেন ২৭ বলে ৫২ রান করে। প্রায় ১০ বছরের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে সেটিই ছিল তার সেরা ইনিংস। অবশেষে নিজেকে নতুন উচ্চতায় নিতে পারলেন তিনি, যেদিন তার ক্যারিয়ারের নতুন জন্ম।
ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের দারুণ পারফরম্যান্সে প্রায় চার বছর পর জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন মোসাদ্দেক। সবশেষ ম্যাচটি যখন খেলেছিলেন, এরপর বাংলাদেশ খেলে ফেলেছে আরও ৬৩ ম্যাচ। তিনি ছিলেন শুধুই দর্শক। দলে ফেরার ম্যাচে এবার তিনিই প্রথম ইনিংসের নায়ক।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে ৭০ বলে ৮৬ রানের অপরাজিত ইনিংস উপহার দিয়েছেন মোসাদ্দেক। তার ইনিংসের ৭ চারের সঙ্গে ছক্কা ৩টি।
টস হেরে যাওয়া বাংলাদেশ যে ৫০ ওভারে ২৮৪ পর্যন্ত যেতে পারল, তাতে বড় অবদান দলে ফেরা ব্যাটসম্যানের।
ইনিংসের শুরু আর শেষ দিকে দুই দফায় জীবন পেয়েছেন বটে। তবে তার ইনিংসের জ্যোতি তাতে কমছে না খুব একটা।
তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের চতুর্থ ফিফটি। সবশেষটি ছিল ২০২১ সালে এই মিরপুরেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে।
দলীয় ১৪০ রানে যখন তিনি ক্রিজে যান, তখন মাত্রই বিদায় নিয়েছেন ৬৭ রান করা নাজমুল হোসেন শান্ত। ৪ উইকেট হারিয়ে কিছুটা বিপদে দল। কিন্তু মোসাদ্দেকের ব্যাটিংয়ে ছিল না চাপের লেশমাত্র। মাঠে নেমে শুরুতেই আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের পসরা সাজান। যার শুরুটা পঞ্চম বলেই অ্যাডাম জাম্পাকে লং অফের উপর দিয়ে ছক্কা হাঁকিয়ে।
মাঝের সময়টায় পরিস্থিতির দাবিতে খানিকটা ধীরগতির হয়ে গেলেও ফিফটি পুর্ণ করেন ৪৯ বলে। ফিফটির পর ফের হাত খুলে ব্যাটিং শুরু করেন। পরের তিন বলেই অ্যাডাম জাম্পাকে হাঁকান দুই চার ও এক ছক্কা।
ইনিংসের ৪৪তম ওভারে জাম্পাকে কঠিন সময় উপহার দেওয়া মোসাদ্দেক পুরো ম্যাচে তার বলে হাঁকান দুই ছয় ও তিন চার। ফিফটির পরপরই দুই ছক্কা ও এক চার হাঁকানো এই ডানহাতি শেষ ৩৬ রান নেন ২১ বলে। এ সময়ে তার ব্যাটে আসে চার চার ও এক ছক্কা।
তাতে শেষ পর্যন্ত ৭০ বলে ৮৬ রানে অপরাজিত থেকে ড্রেসিংরুমে ফেরেন মোসাদ্দেক হোসেন। ইনিংসের শেষ পর্যায়ে একপ্রান্ত আগলে রেখে দলকে টেনে নিয়ে যান ২৮৪ রান পর্যন্ত।
আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে আগের ৮০ ম্যাচে তার সর্বোচ্চ ইনিংসটি ছিল অভিষেক টেস্টের ৭৫।
প্রচণ্ড গরমে ঘেমেনেয়ে একাকার হয়ে যখন ড্রেসিং রুমে ফিরছেন, ক্লান্ত শরীরেও তার মনে নিশ্চয়ই প্রশান্তির ছায়া। ফেরার মতো করেই যে ফিরতে পারলেন!