Published : 04 Sep 2025, 09:01 AM
তাওহিদ হৃদয় যখন ক্রিজে গেলেন, বাংলাদেশ দল তখন উড়ন্ত সূচনা পেয়ে গেছে। কিন্তু বাগড়া দিল দৃষ্টি। পরে যখন খেলা শুরু হলো, হৃদয় যথারীতি নিজেকে হারিয়ে খুঁজলেন। এশিয়া কাপের আগে ছন্দে ফেরার শেষ সুযোগ ছিল তার সামনে। কিন্তু নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে সিরিজের শেষ ম্যাচটিতেই নিজের ছায়া হয়ে রইলেন তিনি।
তবে দুঃসময়ে ভরসার একটি হাত নিজের কাঁধে পাচ্ছেন তিনি। অধিনায়ক লিটন কুমার দাস বলছেন, হৃদয়ের সামর্থ্যে সবটুকু বিশ্বাস তার আছে।
সিলেটে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে শেষ টি-টোয়েন্টিতে প্রথম তিন ওভারেই ৪৯ রান তোলে বাংলাদেশ। চতুর্থ ওভারের প্রথম বলে আউট জন সাইফ হাসান। তিন নম্বরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পান হৃদয়। কিন্তু খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে তিনি করতে পারেন ১৪ বলে ৯ রান।
সিরিজের আগের দুই ম্যাচে তিনি ব্যাটিং পাননি। জুলাইয়ে পাকিস্তান সিরিজে এক ম্যাচে ৩৬ রান করতে বল খেলেছিলেন ৩৭টি। আরেক ম্যাচে বিদায় নেন শূন্যতে।
সব মিলিয়ে দেশের হয়ে সবশেষ ১০ টি-টোয়েন্টি ইনিংসে তিনি ৪০ ছুঁতে পারেননি। রানের চেয়েও বড় কথা, হৃদয়ের আগ্রাসী ঘরানা, সাবলিল ও স্বাভাবিক ব্যাটিং এই সময়টায় দেখা যায়নি। এশিয়া কাপের আগে বাংলাদেশের দুর্ভাবনার জায়গা যদি কিছু থাকে, খোলা চোখে এর একটি হৃদয়ের ছন্দহীনতা।
তবে ডাচদের বিপক্ষে সিরিজ শেষে লিটনের সাফ কথা, হৃদয়কে নিয়ে তার কোনো দুর্ভাবনা নেই।
“নির্দিষ্ট দিনে এরকম স্ট্রাগল আসতে পারে। আমি এটা নিয়ে একদমই চিন্তিত নই। আমি জানি, আমাদের দলের জন্য হৃদয় কী করতে পারে। অধিনায়ক হিসেবে আমার পুরো বিশ্বাস আছে, সে এশিয়া কাপে গিয়ে ঘুরে দাঁড়াবে এবং ভালো ক্রিকেট খেলবে।”
লিটনের মতে, বৃষ্টি বিরতির পর উইকেটে চরিত্র বদল হওয়ায় ও ডাচ স্পিনাররা ভালো বোলিং করায় ব্যাটসম্যানদের কাজ কঠিন হয়ে উঠেছিল। বৃষ্টির আগে লিটন নিজে ১৬ বলে করেছিলেন ৪২ রান, বৃষ্টির পর ৩১ রান করতে বল খেলেন তিনি ৩০টি।
নিজেকে দিয়েই হৃদয়ের ভোগান্তি আড়াল করতে চাইলেন অধিনায়ক।
“আপনাকে বুঝতে হবে, একটা বিরতি ছিল। বিরতির পর পাওয়ার প্লে শেষে আমরা দুজনই ব্যাটিং করছিলাম, তখন কিন্তু আমিও স্ট্রাগল করছিলাম। তাদের বাঁহাতি স্পিনার ভালো বোলিং করছিল। কোনো ব্যাটসম্যান সেট হয়ে খেলা একরকম ব্যাপার, আর কোনো ব্যাটসম্যান এসেই যদি ভালো ডেলিভারি পায়, তাহলে তার জন্য কাজটা কঠিন হয়ে যায়।”
“আজকে হৃদয় দুর্ভাগ্য ছিল যে, যখন ও ব্যাটিংয়ে নেমেছে, দুই দিকেই বাঁহাতি স্পিনার বোলিং করছিল এবং তারা উইকেট থেকে যথেষ্ট পরিমাণ সহায়তা পাচ্ছিল। কিন্তু আমার হৃদয়কে নিয়ে একদমই দুর্ভাবনা নেই। আমার মনে হয়, সে বড় ম্যাচের ক্রিকেটার এবং সে ঘুরে দাঁড়াবে।”