Published : 06 Jul 2026, 08:23 AM
বেলজিয়ামের বিপক্ষে সিয়াটলের ম্যাচ সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্র দলে ফিরে আসছে ২০১৪ বিশ্বকাপের সেই হৃদয় ভাঙা স্মৃতি। দারুণ সম্ভাবনা জাগিয়েও সেবার হেরেছিল তারা। এবার যদি সেই হারের মধুর প্রতিশোধ নিতে পারেন পুলিসিচরা, তাহলে তা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য মাইলফলক হবে বলে মনে করেন, দলটির সেসময়কার কোচ ইয়ুর্গেন ক্লিন্সমান।
বর্তমানে ক্লিন্সমান আছেন ফিফার টেকিনিক্যাল স্টাডি গ্রুপের সাথে। ফিফাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই জার্মান কোচ কথা বললেন, ব্রাজিল বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের সেই ২-১ গোলের হার, টিম হাওয়ার্ডের দুর্দান্ত গোলকিপিংসহ এবারের বেলজিয়াম-যুক্তরাষ্ট্র শেষ ষোলোর ম্যাচ নিয়ে।
সেবারও শেষ ষোলোয় মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। ১৬টি সেভ করে হাওয়ার্ড ম্যাচ টেনে নিয়েছিলেন অতিরিক্ত সময়ে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র হেরে যায় ২-১ গোলে। ওই ম্যাচের পর, দুই দলের সবশেষ দেখা গত মার্চের প্রীতি ম্যাচে; এবার বেলজিয়াম জিতে ৫-২ ব্যবধানে।
এক যুগ আগে সালভাদরের সেই ম্যাচের বেলজিয়াম দলের থিবো কোর্তোয়া, কেভিন ডে ব্রুইনে, রোমেলু লুকাকু ও আক্সেল ভিটসেল আছেন বর্তমান দলে।
বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ম্যাচে স্ট্রাইকার ফোলারান বালোগানের দেখা লাল কার্ড ফিফা স্থগিত করায়, যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণভাগের শক্তি ফিরেছে। ক্লিন্সমান তাই বেলজিয়ামকে এগিয়ে রাখলেও, নিজেদের মাঠে, চেনা দর্শকের সামনে খেলা যুক্তরাষ্ট্রেরও দারুণ সম্ভাবনা দেখছেন।
“ইতিহাস ও মানের কারণে আমি বেলজিয়ামকে কিছুটা ফেভারিট হিসেবে এগিয়ে রাখব। গত মার্চের প্রীতি ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রকে ৫-২ গোলে হারানো ম্যাচে শক্তিশালী পারফরম্যান্স দেখিয়েছিল তারা; এ কারণে বেলজিয়ামকে ফেভারিট ধরছি। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রও এখন অনেক পরিণত এবং অবিশ্বাস্য আত্মবিশ্বাসী।
“স্বাগতিক দল হওয়ায় এবং ভালো ফর্মে থাকার কারণে তাদের মধ্যে দৃঢ় বিশ্বাস কাজ করছে। উদ্বোধনী ম্যাচে প্যারাগুলোর বিপক্ষে প্রথমার্ধেই তারা নিজেদের পারফরম্যান্সের একটা মানদণ্ড দাঁড় করিয়েছে এবং যদি সেই মানের কাছাকাছি খেলতে পারে, বেলজিয়ামকে তারা হারানোর সামর্থ্য রাখে।
বাংলাদেশ সময় ৭ জুলাই ৬টায় (এএম)
যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবলের জনপ্রিয়তা ক্রমেই বাড়ছে। ২০১১ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত দলটির ডাগআউটে থাকা ক্লিন্সমানের মনে হচ্ছে, সিয়াটলে বালোগানরা জিততে পারলে যুক্তরাষ্ট্র উন্নতির পরের ধাপে পা রাখবে।
“যদি তারা সেটা করতে পারে, তাহলে এর অর্থ হবে অনেক বড়। কেননা, গত তিন-চার দশক ধরে ফুটবল বিকশিত হচ্ছে। ১৯৯০ সালে থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল প্রোগ্রামটি অনেক মাইলফলক পার করেছে এবং এটি তাদের ফুটবল ইতিহাসে আরেকটি মাইলফলক হবে এবং দারুণ একটি ব্যাপার হবে। ফুটবল সবখানেই জনপ্রিয়, তবে, দলটি বিশ্বকাপের পরের ধাপে উঠতে পারলে তা (যুক্তরাষ্ট্রে) ফুটবল বিকাশে আরও গতি পাবে।”