Published : 06 Jul 2026, 08:56 AM
ফুটবলকে বিদায় বলার অনভূতিটা কেমন হবে, সেটা আগেভাগেই জানিয়ে দিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো! পর্তুগিজ মহাতারকা বললেন, কোনো আক্ষেপ থাকবে না তার। তবে, এ মুহূর্তে ভবিষ্যৎ ভাবনায় তিনি বুঁদ হয়ে নেই একেবারেই। ভাবনায় কেবল শেষ ষোলোয় স্পেনের বিপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি। বরাবরের মতোই তিনি খেলতে চান উপভোগের মন্ত্রে উদ্দীপ্ত হয়ে।
ডালাসে ৭ জুলাই ১টায় (এএম) উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে এই দুই দল। পর্তুগালের জার্সিতে নিজের ২৩৩তম ম্যাচ খেলার অপেক্ষায় ৪১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।
রেকর্ড ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলা রোনালদোকে ইদানিং প্রতিনিয়ত মুখোমুখি হতে হচ্ছে অবসর ভাবনা নিয়ে। স্পেন ম্যাচে সামনে রেখে সেই একই প্রশ্নের মুখোমুখি হলে তিনি। যেন কিছুটা বিরক্তির নিয়ে বরাবরের মতোই বললেন, নিজের পরিকল্পনা অনুযায়ী বিদায় নিবেন তিনি।
“যখন আমার ইচ্ছে হবে, আমি বিদায় বলব। আপনারা সবসময় একই প্রশ্ন করেন: এই ম্যাচই কী শেষ? দেখা যাক। এই বিষয়ের প্রতি আমি মনোযোগ আকর্ষণ করতে চাই না; সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, আগামীকাল ভালো খেলা।
“একদম সত্যি করে বলছি, আগামীকাল যাই ঘটুক না কেন, ক্রিশ্চিয়ানো নিজের কাছে পুরোপুরি পরিষ্কার থেকে বিদায় নিবে। ফুটবলকে আমি আমার সর্বস্ব দিয়েছি; আবেগের জায়গা থেকেই এত বছর ধরে খেলছি, আমি প্রয়োজনের খাতিরে ফুটবল খেলিনি, জীবন নিয়ে ভালোই আছি, এটা আবেগের ব্যাপার। আমি জাতীয় দলের হয়ে খেলি এবং ফুটবল খেলতে ভালোবাসি।”
উপভোগের মন্ত্র নিয়ে, নির্ভার থেকে ডালাসের সবুজে নামবেন, বললেন রোনালদো। মাঝেমধ্যে পারফরম্যান্স নিয়ে সমালোচনা উছলে উঠলেও, চলতি আসরে নিজের খেলা নিয়েও খুশি রেয়াল মাদ্রিদের এই সাবেক ফুটবলার।
“আগামীকাল যাই ঘটুক না কেন, আমাকে জিততেই হবে-এই চাপ আমি নিজের ওপর নিব না। বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে আপনাকে প্রতিটি ম্যাচ উপভোগ করতে হবে। আমি মনে করি, আমি খুব একটা মন্দ করছি না। তিনটি গোল করেছি, অন্যরা আমার চেয়ে ভালো করেছে, কিন্তু আমার মনে হয়, আমি খুব একটা বাজে করিনি।”
ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ড্রয়ের হোঁচট দিয়ে বিশ্বকাপ শুরুর পর ক্রমোন্নতির পথে আছে পর্তুগাল। উজবেকিস্তানকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার পর, গ্রুপের শেষ ম্যাচে কলম্বিয়ার সাথে ড্র করেছিল তারা। শেষ বত্রিশে ২০১৮ বিশ্বকাপের রানার্সআপ ক্রোয়েশিয়াকে ২-১ গোলে হারায় তারা। এবার টুর্নামেন্টের ‘ফেভারিট’ দলের একটি স্পেনকে হারাতেও আত্মবিশ্বাসী রোনালদো।
“যদি আমরা নিজেদের ওপর বিশ্বাস না করতাম, তাহলে এখানে থাকতাম না। প্রতি ম্যাচেই আমরা ভালো থেকে আরও ভালো করছি, এটা চমৎকার অভিজ্ঞতা।
“আমরা জানি, এটা কঠিন প্রতিযোগিতা এবং এখানে সবসময় ভালো করা অসম্ভব। কিছু ভালো দলের ছিটকে যাওয়াটাই সবকিছু বলছে। পর্তুগাল দল ভালো, শান্ত এবং ভালোভাবে প্রস্তুত। আমরা শক্ত প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে যাচ্ছি, কিন্তু আমি মনে করি, ভালোভাবে প্রস্তুত আমরা।”
স্পেনের বিপক্ষে নামলে, পর্তুগালের জার্সিতে ২৩৩ ম্যাচ খেলা হবে রোনালদোর। প্রতিপক্ষ দেশটির সাথে তার আছে আত্মীক সম্পর্ক। স্প্যানিশ লা লিগার দল রেয়াল মাদ্রিদে সাফল্যে ভরা ৯টি মৌসুমে খেলেছেন তিনি।
অবশ্য স্পেনের বিপক্ষে রোনালদোর গোল খুব বেশি নয়, মাত্র ৪টি। এর মধ্যে ২০১৮ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের ৩-৩ ড্র ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেছিলেন তিনি। শেষ ষোলোর লড়াইয়ে স্পেনকে ‘ফেভারিট; মানছেন রোনালদো। তবে, অনুভব করছেন, জিতবে শেষ পর্যন্ত পর্তুগালই।
“স্পেন সবসময় ইউরো, নেশন্স লিগ শিরোপার দাবিদার। ইতোমধ্যে তারা এই টুর্নামেন্টগুলো জিতেছে। স্পেনই এই ম্যাচে ফেভারিট। তারা পর্তুগালের চেয়ে বেশি শিরোপা জিতেছে, কিন্তু এটা ভিন্ন খেলোয়াড় নিয়ে ভিন্ন প্রতিযোগিতা। আমরা জিতব-এমন অনুভূতি হচ্ছে আমার।
“আমি স্পেনের বিপক্ষে খেলতে পছন্দ করি; তাদের বিপক্ষে আমার রেকর্ড বেশ ভালো। তাদের বিপক্ষে ১০ বা ১১ বার খেলেছি এবং এটা বেশ ভারসাম্যপূর্ণ। ছোটখাট বিষয় ম্যাচের ফল নির্ধারণ করে দিবে। আমি অনুভব করছি, আমরা জিতব।”