Published : 06 Jul 2026, 07:59 AM
ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি? ২০১০ বিশ্বকাপে শেষ ষোলোয় মুখোমুখি হয়েছিল পর্তুগাল ও স্পেন। দাভিদ ভিয়ার একমাত্র গোল গড়ে দিয়েছিল ব্যবধান। সেই আসরে প্রথমবারের মতো বিশ্ব সেরার মুকুট জিতেছিল স্পেন। ১৬ বছর পর, আবার শেষ ষোলোয় মুখোমুখী দুই প্রতিবেশী দেশ। ভবিষ্যতে কী অপেক্ষা করছে, জানা নেই বিশ্বকাপ জয়ী কার্লোস মারচেনার। তবে স্পেনের সাবেক এই ডিফেন্ডার নিশ্চিত, বেশিরভাগ সময় যেমন হয়, তেমনি এবারও হবে তুমুল লড়াই।
৭ জুলাই ১টায় (এএম) ডালাসে মুখোমুখি হবে এই দুই শিরোপাপ্রত্যাশী দল। দুই দেশের মধ্যে এটা হবে ৪২তম লড়াই, প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে ত্রয়োদশ।
ফিফার মুখোমুখি হয়ে স্পেনের ২০১০ বিশ্বকাপ জয়ী দলের সদস্য মারচেনা বললেন, প্রতিবেশী দেশ হওয়ায় পর্তুগালের বিপক্ষে তাদের ম্যাচে থাকে বাড়তি উন্মাদনা।
“স্পেন ও পর্তুগালের ম্যাচে সবসময় বাড়তি উন্মাদনা থাকে। এর পেছনের মূল কারণ হলো, দুই দেশের মধ্যে ভৌগোলিক অবস্থান। দুই দলই প্রতিপক্ষ সম্পর্কে খুব ভালোভাবে জানে।”
শৈশবে বিশ্বকাপ দেখার স্মৃতি স্মরণ করে এই ডিফেন্ডার বলেন, ১৯৯০ বিশ্বকাপে স্পেনের গ্রুপ পর্ব পার করতে না পারার ব্যর্থতা এই টুর্নামেন্টের প্রতি তার আগ্রহ তৈরি করেছিল।
“মনে করতে পারি, স্পেন গ্রুপ পর্ব পার করতে না পারায় হতাশা তৈরি হয়েছিল। তখনই সবকিছুর উপরে বিশ্বকাপের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। বাড়িতে বাবার সঙ্গে খেলা দেখতাম। তখনই টুর্নামেন্টের প্রতি তীব্র ভালোবাসা তৈরি হয়। ওই বয়সে সবকিছু দূরের এবং ধরাছোঁয়ার বাইরের মনে হতো।
“এরপর, একদিন হুট করে আপনি সেখানে (বিশ্বকাপে) দেশকে প্রতিনিধিত্ব করছেন এবং মনে হবে ‘এটা অকল্পনীয়।’ সবকিছুই আবেগ ও স্মৃতিতে ভর করে আসে।”
২০০৬ জার্মানি আসর দিয়ে বিশ্ব মঞ্চে তার অভিষেক হয়। সেবার গ্রুপ পর্বের বাধা পেরিয়ে শেষ ষোলোতে যায় স্পেন। ফ্রান্সের কাছে ৩-১ ব্যবধানে হেরে বিদায় নেয়। মারচেনা মনে করেন, এটাই স্পেনের পরবর্তী সাফল্যের ভিত গড়ে দেয়।
“তখন সেরা ছন্দে ছিলাম। আমাদের দলটা তরুণ ছিল, কিন্তু প্রস্তুত ছিলাম আমরা। ফ্রান্সকে দেখে মনে হয়েছিল, ওরা উড়ন্ত ছন্দে ছিল। হেরেছিলাম ঠিকই, কিন্তু সেটাই টার্নিং পয়েন্ট ছিল। সব সাফল্যের ভিত্তি সেখানেই তৈরি হয়।”
বিশ্বকাপ থেকে আগেভাগে বিদায়ের দুই বছর পর, দীর্ঘ ৪৪ বছরের খরা কাটিয়ে ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ জিতে স্পেন। ইউরোপ সেরার মঞ্চে দেশের দ্বিতীয় শিরোপা জয়ে স্পেনের রক্ষণে কার্লোস পুয়েলের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন মারচেনা।
ইউরো চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ফেভারিটদের একটি হয়ে ২০১০ বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করে স্পেন। প্রথম ম্যাচে অপ্রত্যাশিতভাবে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে হেরে যায় তারা। পরে অবশ্য, গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই নিশ্চিত করে নকআউট পর্ব।
শেষ ষোলোয় ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালের মুখোমুখি হয় স্প্যানিশরা। ম্যাচটা কেমন হবে আগে থেকেই জানতেন মারচেনা।
“জানতাম, ম্যাচটা কঠিন হবে। কারণ তারা শক্তিশালী এবং ভারসাম্যপূর্ণ দল ছিল। রক্ষণ দুর্ভেদ্য রাখা ও ভুল না করা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। একের পর এক সুযোগ তৈরির পাশাপাশি ধৈর্য্য ধরে রাখা গুরুত্বপুর্ণ ছিল। রক্ষণে তারাও একদম দুর্ভেদ্য ছিল এবং কোনো সুযোগই দিচ্ছিল না।”
“সেবার ক্রিশ্চিয়ানো সেরা ছন্দে ছিল। তাদের কিছু অভিজ্ঞ খেলোয়াড় ছিল, যারা বড় মঞ্চে আগেই নিজেদের প্রমাণ করেছিল।”
ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় ৫৯ মিনিটে ফের্নান্দো ইয়োরেন্তে মাঠে নামলে। তার মাঠে নামার চার মিনিট পরই ভিয়ার পায়ে আসে ম্যাচের একমাত্র গোল।
“সে আমাদের প্ল্যান ‘বি’ ছিল। দারুণ খেলেছিল। দুই সেন্টার ব্যাকের সঙ্গে দারুণভাবে লড়াই করে অন্যদের সুযোগ তৈরি করে দিয়েছিল। তাদের রক্ষণে সমস্যা তৈরি করেছিল। তাকে নজরে রাখতে গিয়ে ওরা আমাদের জন্য জায়গা তৈরি করে দেয়।”
ওই ম্যাচের ৯৩তম মিনিটে মাঠে নেমেছিলেন মারচেনা। পরে কোয়ার্টার-ফাইনাল ও সেমি-ফাইনালেও সামান্য সময়ের জন্য বদলি হিসেবে নামেন তিনি। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে জয় পেয়ে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালের বাধা পার হয় স্প্যানিশরা। আর জার্মানিকে হারিয়ে পৌঁছে যায় ফাইনালে। সেই অনুভূতিটা মিশ্র ছিল, বলেন তিনি।
ফাইনালে ১১৬ মিনিটে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার গোলে এগিয়ে যায় স্পেন। সেই সময়ের কথা মনে করে মারচেনা বলেন, একমাত্র তিনি গোল উদযাপনের জন্য সতীর্থদের সঙ্গে ছুটে যাননি।
“আমি একমাত্র ব্যক্তি যে আন্দ্রেসের দিকে ছুটে যাইনি। মাঝমাঠের দিকে ছুটে গিয়েছি যেন নেদারল্যান্ডস তাড়াতাড়ি খেলা শুরু করতে না পারে। উদযাপণের ছবিতে আমি ছিলাম না। কারণ আমি মাঝমাঠে ছিলাম। আপনার শরীর পুরো স্তব্ধ হয়ে থাকে এবং বিশ্বাস করতে পারবেন না কী ঘটেছে। এটা মিশ্র অনুভূতির ব্যাপার।”
“কোনো অর্জনই এই (বিশ্বকাপ) জয়কে ছাড়িয়ে যেতে পারবে না। এটার স্থান সবার ওপরে, ধারে-কাছে কিছু যেতে পারবে না। আপনি একটি-পাঁচটি কিংবা দশটি লিগ শিরোপা জিততে পারেন। কিন্তু দেশের হয়ে বিশ্বকাপ জেতা সবকিছুকে হার মানায়। যখনই টুর্নামেন্ট সামনে ঘনিয়ে আসে, আমি ভাবি, আমিও একদিন এই ট্রফি ছুঁয়ে দেখেছিলাম।”